হোম > সারা দেশ > ঢাকা

দেশে এলপিজির বাজারের সঙ্গে বাড়ছে দুর্ঘটনা, সচেতনতায় গুরুত্ব নেই: বিশেষজ্ঞমত

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎

রাজধানীতে এলপি গ্যাস খাতের নিরাপত্তা নিয়ে আয়োজিত গোলটেবিল বৈঠক। ছবি: আজকের পত্রিকা

দেশে প্রায়ই এলপি গ্যাসের ঝুঁকিপূর্ণভাবে ব্যবহারের কারণে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটছে এবং মানুষের প্রাণহানি হচ্ছে। দেশে এলপিজির নানামুখী ব্যবহার বাড়লেও ভয়ংকর এই বিস্ফোরক দ্রব্যটি নিয়ে সেই তুলনায় জনসচেতনতা বাড়েনি। পূর্ব সতর্কতার অভাবেই অধিকাংশ দুর্ঘটনাগুলো ঘটছে।

এ ছাড়া নিরাপত্তার নিয়মশৃঙ্খলাগুলো অগ্রাহ্য করা এবং দুর্বল যন্ত্রাংশ ব্যবহার করাকেও দুর্ঘটনা ও ক্ষয়ক্ষতির কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন বিশেষজ্ঞরা।

আজ রোববার রাজধানীতে এলপি গ্যাস খাতের নিরাপত্তা নিয়ে এলপিজি ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (লোয়াব) এবং বিদ্যুৎ ও জ্বালানি বিষয়ক সাময়িকী ‘এনার্জি অ্যান্ড পাওয়ার’ আয়োজিত গোলটেবিল বৈঠকে এসব বিষয় উঠে আসে।

আলোচকেরা বলেন, দেশে কিছুদিন পর পর এলপি গ্যাস থেকে সৃষ্ট লিকেজের কারণে ভয়াবহ বিস্ফোরণে মানুষের প্রাণহানি হচ্ছে। নিরাপত্তার ঘাটতির বিষয়টিতে রয়েছে পারস্পরিক দোষারোপ। বাংলাদেশে এলপি গ্যাসের বার্ষিক চাহিদা বর্তমানে এক দশমিক ৫ থেকে এক দশমিক ৮ মিলিয়ন টন।

মূল প্রবন্ধে বুয়েটের কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক ইয়াসির আরাফাত খান বলেন, ব্যবহারকারী থেকে শুরু করে বিভিন্ন স্তরের বিক্রেতাদের জন্য পুরোপুরি নিরাপত্তা প্রশিক্ষণ দরকার। অনেক স্থানে অনুমোদনহীন স্টোরেজ রয়েছে। নিরাপত্তা সংক্রান্ত ইকুইপমেন্ট অনেক জায়গায় থাকে না। অনেকে ব্যয় সংকোচনের জন্য সেফটি টুলসগুলো বসানো হয় না।

ব্যবস্থাপনা ও জবাবদিহির ঘাটতি উল্লেখ করে এ অধ্যাপক বলেন, এলপিজি খাত বড় হচ্ছে, কিন্তু নিরাপত্তার বিষয়টি সেভাবে শক্ত হচ্ছে না। যে কোনো দুর্ঘটনার পর গঠিত তদন্ত কমিটি অনেক সময় রিপোর্ট প্রকাশ করে না। সে জন্য সচেতনতা বাড়ে না। অথচ পূর্ব সতর্কতা অনেক দুর্ঘটনা রোধ করতে পারে।

৯০ শতাংশ এলপিজি স্টেশন বিস্ফোরক অধিদপ্তরের অনুমোদন ছাড়াই পরিচালিত হচ্ছে জানিয়ে অধ্যাপক ইয়াসির আরাফাত খান বলেন, ‘কোনো ছিদ্র হলে তা দ্রুত চিহ্নিত করা বা নিয়ন্ত্রণ করার প্রযুক্তি সেখানে থাকে না। অথচ সড়কে এলপিজির যেসব রোড ট্যাংকার চলে সেগুলো বিস্ফোরণ হলে একটি শহরের অর্ধেক জনগোষ্ঠী ধ্বংস হয়ে যাবে।’

‘শুধু তাই নয়, অবৈধভাবে অটো গ্যাস স্টেশন থেকে সিলিন্ডার ফিলিং হচ্ছে। এটি নতুন দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে’ বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন এ অধ্যাপক।

বেইলি রোডে বিস্ফোরণের প্রসঙ্গ তুলে ধরে অধ্যাপক ইয়াসির বলেন, ‘বিস্ফোরণের দুই মিনিটের মধ্যে আগুন নিচ তলা থেকে ওপরে চলে গেছে। ছয় মিনিটের মধ্যে ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি চলে এসেছিল। ওই ভবনের নিচ তলায়, সিঁড়িতে সব জায়গায় গ্যাস সিলিন্ডার ছিল। রাবারের হোস পাইপের মাধ্যমে সেখানে গ্যাস পরিবহন করতে গিয়ে লিকেজ হতে পারে।’

লোয়াব সভাপতি আমিরুল হক পরামর্শ দাবি করে বলেন, ‘খুব যৌক্তিক পর্যায়ে এলপি গ্যাসের মূল্য ঠিক করা হয়। কিন্তু নিরাপত্তার বিষয়টি আমরা কেউ অস্বীকার করতে পারি না। বিইআরসি ও বিস্ফোরক অধিদপ্তরের যৌথ উদ্যোগে সবাইকে কমপ্লায়েন্স অর্জন করতে হবে। আমরা আমাদের সমালোচনা করতে চাই। কীভাবে সেটি অর্জন করতে পারব, সেই রাস্তাটা আপনারা বের করে দেন।’

বিইআরসির চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ বলেন, প্রাকৃতিক গ্যাসের সংকটের কারণে এখন এলপি গ্যাস বেশ গুরুত্ব পাচ্ছে। দিনে দিনে এলপিজির ব্যবহার বাড়ছে। এলপিজি নিরাপত্তা নিয়ে প্রশিক্ষণ চালু করা, নীতিমালা তৈরি করার যে প্রস্তাব এসেছে, সেগুলো এগিয়ে নিতে হবে। নিরাপত্তার বিষয়ে প্রশিক্ষণ বা জাতীয় পর্যায়ে প্রচারণা শুরু করা উচিত।

বিইআরসির সদস্য সৈয়দা রাজিয়া সুলতানা বলেন, ‘সিঙ্গেল সিলিন্ডারের পরিবর্তে বড় বিল্ডিংগুলোতে রেটিকুলেশন সিস্টেমে বেশি নজর দেওয়া হচ্ছে। তবে এখানেও বড় ধরনের সচেতনতা জরুরি। এলপিজিতে প্রপেন ও বিউটেনের অনুপাত ৩৫: ৬৫ করা হলেও বাজারে সেটা সব সময় পাওয়া যায় না। এতে গ্রাহক ঠকার পাশাপাশি নিরাপত্তারও ঘাটতি সৃষ্টি হয়।’

অটো গ্যাস স্টেশন অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সিরাজুল মাওলা বলেন, ‘সেফটি ইস্যুতে আমরা স্ট্রাগল করছি। এর প্রধান কারণ হচ্ছে–মানহীন যন্ত্রাংশ ব্যবহার। আরেকটি হচ্ছে– ব্যবহারকারীদের মধ্যে সঠিক জ্ঞানের অভাব।’

এলপি গ্যাস স্টেশনের নীতিমালা হওয়ার আগেই সরকার গ্যাস স্টেশনের অনুমোদন দিয়েছিল বলে উল্লেখ করেন তিনি।

সভায় ফায়ার সার্ভিসের প্রতিনিধি ইকবাল বাহার বুলবুল বলেন, ‘সম্প্রতি বাসাবাড়িতে এলপি গ্যাসের বিস্ফোরণ বেশি হচ্ছে। ব্যবহারকারীরা এই সিলিন্ডারের ঝুঁকির বিষয়ে সচেতন থাকেন না। অধিকাংশ ক্ষেত্রে রাতের বেলায় রান্না করে চুলা সঠিকভাবে বন্ধ করে না। রাতে গ্যাস লিক হতে হতে জমে যায়। সকালে কেউ সুইচ চাপলেই বিস্ফোরণ ঘটে।’

অনুষ্ঠান সঞ্চালনার দায়িত্বে ছিলেন—এনার্জি অ্যান্ড পাওয়ারের সম্পাদক মোল্লা আমজাদ হোসেন। এ ছাড়াও সভায় নিজেদের বক্তব্য তুলে ধরেন উপস্থিত এলপিজি খাতের ব্যবসায়ীরা।

বিমানবন্দরে আটক অজ্ঞান পার্টির মূল হোতা, ৫৫ মোবাইল ফোনসহ বিপুল মালামাল উদ্ধার

রাজধানীতে বাসা থেকে মাথাবিহীন সাত টুকরা লাশ উদ্ধার

বেইলি রোডে আগুনে ৪৬ জনের মৃত্যু: আত্মসমর্পণের পর একজনের জামিন, আরেকজনের আবেদন প্রত্যাহার

হার্ট ফাউন্ডেশন গণমানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছাতে পেরেছে: চিফ হুইপ

হাদি হত্যা মামলা: ১৪ বারের মতো পেছাল অধিকতর তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ

সাবেক স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী মিজানুর রহমান সিনহার জানাজা অনুষ্ঠিত

ইকরার আত্মহত্যা: যাহের আলভীর বিরুদ্ধে প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ ২৪ জুন

রাজধানীর শ্যামপুরে ব্যাটারিচালিত রিকশার ধাক্কায় ভ্যানচালকের মৃত্যু

কারিনা কায়সারের তিনটি জানাজা হবে, রাত ১০টায় শহীদ মিনারে

জাবিতে ধর্ষণচেষ্টায় অভিযুক্তের বিচারের দাবিতে প্রশাসনিক ভবন অবরোধ