সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক পদে দ্রুত যোগদানের দাবিতে রাজধানীর শাহবাগে সড়কে অবস্থান নেওয়া সুপারিশপ্রাপ্ত প্রার্থীরা আন্দোলন প্রত্যাহার করেছেন। আজ রোববার (২ আগস্ট) বেলা সোয়া ২টার পর তাঁরা সড়ক ছেড়ে দেন।
এর আগে রাজধানীর শাহবাগে সড়কে কয়েক ঘণ্টা অবস্থান কর্মসূচি পালনের পর প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জারি করা নতুন বিজ্ঞপ্তি এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনার পর তাঁরা আন্দোলন প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেন।
এ সময় আন্দোলনকারীদের একজন প্রতিনিধি বলেন, ‘আমাদের ১ অক্টোবর যোগদানের তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। কিন্তু মন্ত্রণালয় বলছে, ২ অক্টোবর পদায়ন করা হবে। কিন্তু ওই দিন শুক্রবার। বাস্তবসম্মত দিনে পদায়নের ঘোষণা এলে আমরা ফিরে যাব।’
বেলা ২টার দিকে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জারি করা এক বিজ্ঞপ্তিতে সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগের সুপারিশপ্রাপ্ত প্রার্থীদের ১ অক্টোবর যোগদান ও ৪ অক্টোবর পদায়নের ঘোষণা দেওয়া হয়।
এ ঘোষণার পর প্রার্থীরা শাহবাগ ছাড়তে শুরু করেন।
এর আগে আজ বেলা ১১টা থেকে তাঁরা শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে জড়ো হন। এরপর জাদুঘরের সামনের সড়কে অবস্থান নেন।
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে সুপারিশকৃত ১৪ হাজার ৩৮৪ জন প্রার্থীকে আগামী ১ অক্টোবর সংশ্লিষ্ট জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে যোগদান করার নির্দেশ দিয়েছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। এর আগে আগামী ২৯ অক্টোবর যোগদান করানো হবে বলে জানিয়েছিল মন্ত্রণালয়।
আজ রোববার সকালে মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে জানান মন্ত্রণালয়ের তথ্য ও জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. আসিফ আহমেদ। তবে কী কারণে যোগদানের তারিখ পরিবর্তন করা হয়েছে সে বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে চাননি তিনি।
উপসচিব রাজীব কুমার সরকারের সই করা ওই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ‘সহকারী শিক্ষক নিয়োগ ২০২৫’ এর নিয়োগযোগ্য শূন্য পদে নির্বাচিত প্রার্থীরা আগামী ১ অক্টোবর সংশ্লিষ্ট জেলার জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে যোগদান করবেন। চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত প্রার্থীদের যথাসময়ে নিয়োগপত্র পাঠানো হবে।
চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত প্রার্থীদের যোগদানের পর পদায়ন এবং পরবর্তী সময়ে প্রশিক্ষণে পাঠানো হবে বলেও এতে তুলে ধরা হয়েছে।
এর আগে শনিবার এসব শিক্ষকের আগামী ২৯ অক্টোবর যোগদান করানো হবে বলে জানিয়েছিল প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়।
২০২৫ সালের শেষ দিকে ৬১ জেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করা হয়। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে নিয়োগের জন্য ১৪ হাজার ৩৮৪ জন প্রার্থীকে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত করা হয়। সর্বশেষ গত ১০ মে সুপারিশপ্রাপ্ত ১৪ হাজার ৩৮৪ জন প্রার্থীর আগের কার্যকলাপ পুলিশি তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করতে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসগুলোকে নির্দেশ দেয় প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর।