বাংলাদেশে শিশুদের নিরাপদ ও নির্যাতনমুক্ত জীবন নিশ্চিত করতে পরিবার, সমাজ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং রাষ্ট্রের সমন্বিত উদ্যোগের আহ্বান জানিয়েছে খেলাঘর আসর। সংগঠনটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, শিশুর জন্য নির্যাতনমুক্ত সুরক্ষাবলয় গড়ে তুলতে না পারলে সুখী, সমৃদ্ধ ও আলোকিত বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব নয়। খেলাঘর শিশুদের কান্না দেখতে চায় না।
আজ শুক্রবার সকালে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে ‘শিশুর নিরাপদ জীবন: প্রেক্ষিত বাংলাদেশ’ শীর্ষক এক সেমিনারে দেশের শিশুদের বর্তমান অবস্থা, নির্যাতনের চিত্র ও করণীয় তুলে ধরে কেন্দ্রীয় খেলাঘর আসর।
দেশে শিশুদের ক্ষেত্রে বাস্তব ও গবেষণামূলক চিত্র তুলে ধরেন সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কমিটির প্রেসিডিয়াম সদস্য লেলিন চৌধুরী। তিনি জানান, বর্তমানে দেশে প্রায় ৬ কোটি শিশু রয়েছে, যা মোট জনসংখ্যার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ। ইউনিসেফের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে বাংলাদেশে শিশুর সংখ্যা ছিল প্রায় ৫ কোটি ৮৯ লাখ। এর মধ্যে লাখো পথশিশু, গৃহকর্মী ও শ্রমজীবী হিসেবে ঝুঁকিপূর্ণ জীবন যাপন করছে।
প্রবন্ধে উল্লেখ করা হয়, দেশে শিশুধর্ষণ, যৌন হয়রানি, পাচার, শিশুশ্রম ও মানসিক নির্যাতনের ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। আইন ও সালিশ কেন্দ্রের তথ্য তুলে ধরে বলা হয়, ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে ৩৩টি শিশু ধর্ষণের শিকার হয়।
অন্যদিকে ইউনিসেফের তথ্য উল্লেখ করে বলা হয়েছে, দেশে প্রতি ১০টি শিশুর মধ্যে ৯টি কোনো না কোনো মানসিক নির্যাতনের শিকার।
খেলাঘরের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য লেলিন চৌধুরী জানান, শিশুদের নিরাপদ জীবন নিশ্চিত করতে হলে শারীরিক, মানসিক, যৌন ও ডিজিটাল নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে খেলার মাঠ, বিনোদন ও স্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।
লেলিন চৌধুরী বলেন, দারিদ্র্য, অসচেতনতা, বিচারহীনতা ও প্রশাসনিক সমন্বয়ের অভাব শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে বড় বাধা। এ জন্য শিশু নির্যাতন মামলার দ্রুত বিচার, থানায় চাইল্ড ডেস্ক চালু, কমিউনিটি পুলিশিং জোরদার ও শিশু ন্যায়পাল নিয়োগ জরুরি।