হোম > সারা দেশ > ঢাকা

চকবাজারে আগুন: শুধু একটি গোডাউনেই কোটি টাকার মালামাল পুড়ে ছাই

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎

পুরান ঢাকার চকবাজারে মনসুর খান প্লাজা মার্কেটে আগুন। ছবি: ফায়ার সার্ভিস

পুরান ঢাকার চকবাজারে মনসুর খান প্লাজার ষষ্ঠ তলা করিম ব্যাগ হাউস নামে একটি গোডাউন ছিল। যেখানে রাখা ছিল কোটি টাকার পণ্য। কিন্তু গতকাল সোমবার এই মার্কেটে লাগা আগুন গোডাউনটি প্রায় সব মালামাল পুড়ে গেছে।

আজ মঙ্গলবার দুপুরে সরেজমিন ক্ষতিগ্রস্ত করিম ব্যাগ হাউসের স্বত্বাধিকারী আব্দুল করিম জানান, গোডাউনেই ১ কোটি ১০ লাখ টাকার বেশি মালামাল পুড়ে গেছে।

তিনি আজকের পত্রিকাকে বলেন, ষষ্ঠ তলায় তাঁর ব্যাগের গোডাউন ছিল। সেখানে ১ কোটি ১০ লাখ টাকার বেশি মালামাল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতির পরিমাণ এর চেয়ে কম হবে না, বরং আরও বেশি হতে পারে।

জানা যায়, মনসুর খান প্লাজার বিভিন্ন তলায় থাকা ব্যাগ, পারফিউম ও কসমেটিকসের গোডাউন পুড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। পাশের আরএম প্লাজার ষষ্ঠ ও সপ্তম তলাও আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এসব গোডাউনে কোটি কোটি টাকার মালামাল ছিল বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

এর আগে সকালে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, মনসুর খান প্লাজাসহ ওই ভবনগুলোতে ১২ থেকে ১৪টি গোডাউন রয়েছে। এর মধ্যে সাত-আটটি দোকানও রয়েছে। এসব দোকানের মালামাল সব পুড়ে যায়। আগুন নিয়ন্ত্রণ আসলেও ভেতর এখনো ধোঁয়াচ্ছন্ন।

ব্যবসায়ীরা জানান, মনসুর খান প্লাজার প্রথম থেকে তৃতীয় তলা পর্যন্ত মার্কেট রয়েছে। এর ওপরের তলাগুলোতে মূলত গোডাউন। আগুনে এসব গোডাউনে থাকা ব্যাগ, পারফিউম, কসমেটিকস ও ইলেকট্রনিকস পণ্যের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

পাশের আরএম টাওয়ারের দোকানি নূর মোহাম্মদ নাহিদ আজকের পত্রিকাকে জানান, মনসুর খান প্লাজার গা ঘেঁষে পাশে আরএম টাওয়ারে খেয়া কসমেটিকসের মালামাল ভবনটির চতুর্থ থেকে সপ্তম তলা পর্যন্ত রাখা ছিল। এর মধ্যে ষষ্ঠ ও সপ্তম তলায় আগুন লেগে মালামাল পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এখনো আগুন রয়েছে। এসব ভবনে ৬০-৭০ জন কাজ করেন।

ব্যবসায়ীদের দাবি, মনসুর খান প্লাজা থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। পরে তা পাশের আরএম প্লাজায় ছড়িয়ে পড়ে। মনসুর খান প্লাজায় ব্যাগ ও ইলেকট্রনিকসসহ বিভিন্ন পণ্যের গোডাউন ছিল। অন্যদিকে আরএম প্লাজায় জুয়েলারি ও ছাতার গোডাউন ছিল বেশি। ভবনটির দ্বিতীয় তলার দোকান ছাড়া অন্য তলাগুলোতে গোডাউন রয়েছে।

ব্যবসায়ী মোহাম্মদ ফয়সাল আজকের পত্রিকাকে বলেন, পানির সংকটের কারণে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করতে সমস্যা হচ্ছে। তাপমাত্রাও বেড়ে গেছে। আরএম টাওয়ারের ষষ্ঠ ও সপ্তম তলায় এখনো আগুন নিয়ন্ত্রণে আসেনি। মনসুর খান প্লাজার ষষ্ঠ তলার একটি অংশ পুড়ে গেছে।

মনসুর খান প্লাজার আন্ডারগ্রাউন্ডে থাকা গোডাউনের মালিক মোহাম্মদ রাজু আজকের পত্রিকাকে বলেন, আগুন লাগার পর তাঁরা সহজে চকবাজারে ঢুকতে পারেননি। রাস্তা সরু ও বদ্ধ থাকায় আগুন এখনো নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়নি। ফায়ার সার্ভিস দ্রুত চলে এলে ক্ষয়ক্ষতি কমানো যেত।

আরও পড়ুন: