মফিজুল ইসলাম (৬৫) জীবিকার তাগিদে কিশোর বয়স থেকে কাঁঠালের ব্যবসা করেন। গাজীপুরের শ্রীপুর স্টেশন থেকে ট্রেনের ছাদে করে কাঁঠাল নিয়ে বিক্রি করতেন রাজধানীর বাজারে। কিন্তু ট্রেনের কোনো টিকিট সংগ্রহ করতেন না।
বিবেকের তাড়নায় ৫০ বছর পর ট্রেনের সেই বকেয়া ভাড়া পরিশোধের নজির দেখালেন তিনি। গত ২৮ মার্চ রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের কাছে একসঙ্গে ২০ হাজার টাকা দিয়ে নেন বিশেষ রসিদ (মানি রিসিট)।
মো. মফিজুল ইসলাম শ্রীপুর পৌরসভার চন্নাপাড়া গ্রামের আব্দুল মান্নানের ছেলে। বর্তমানে তিনি পৌরসভার ব্যাপারীবাড়ি এলাকার ফাতেমাতুজ যোহুরা মহিলা মাদ্রাসার পরিচালক।
প্রতিবেদককে মফিজ উদ্দিন জানান, ১৯৭৬ সাল থেকে ১৯৭৮ সালের গল্প এটি। জীবিকার তাগিদে কিশোর বয়স থেকে কাঁঠালের ব্যবসা শুরু করেন। কাঁঠাল পরিবহনের জন্য বেছে নেন রেলপথ। শ্রীপুর রেলওয়ে স্টেশন থেকে ট্রেনের ছাদে করে কাঁঠাল নিয়ে বিক্রি করতেন রাজধানীর বাজারে।
ট্রেনের ছাদে মালামাল পরিবহন এমনকি নিজে যাতায়াতের জন্য কোনো টিকিট সংগ্রহ করতেন না। ট্রেনের দায়িত্বে থাকা রেলওয়ে কর্মচারীদের হাতে এক-দুই টাকা দিয়ে গন্তব্যে যেতেন।
এমন করে চলেছে মফিজুল ইসলামের দীর্ঘ ট্রেনযাত্রা। দীর্ঘ ৫০ বছর পর অনুভব করেন, এটি তিনি ঠিক করেননি। এতে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ তাদের পাওনা থেকে বঞ্চিত হয়েছে। তিনি বুঝতে পেরেছেন রেলওয়ের কাছে তিনি ঋণী। সেই চিন্তা থেকে একসঙ্গে ২০ হাজার টাকা তুলে দেন রেলওয়ে কর্তৃপক্ষকে।
মফিজুল ইসলাম বলেন, ২৮ মার্চ শ্রীপুর রেলওয়ে স্টেশনমাস্টারকে অনুরোধ করেন ২০ হাজার টাকার টিকিট দেওয়ার জন্য। এক সঙ্গে এত টাকার টিকিট স্টকে না থাকায় বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়। এক সপ্তাহ অপেক্ষার পর মফিজুল ইসলাম আবারও রেলওয়ে স্টেশনে যান। পরে রেলওয়ের বিশেষ রসিদের মাধ্যমে ২০ হাজার টাকা জমা দিয়ে দায়মুক্ত হন।
জানতে চাইলে শ্রীপুর রেলওয়ে স্টেশনমাস্টার মো. সাইদুল রহমান আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘রেলওয়েতে বকেয়া পরিশোধের এমন আইনি বিধান রয়েছে। মফিজুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তি স্টেশনে এসে বিষয়টি খুলে বলেন এবং দায়মুক্ত হওয়ার পরামর্শ চান। আমরা তাঁর এমন মানসিকতায় মুগ্ধ হই। মানুষের চিন্তাধারা সব সময় এক থাকে না। এটি একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। জীবনের শেষ বয়সে এসেও কেউ কেউ নিজের ভুল বুঝতে পারেন। এটিই উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। রেলওয়ের বকেয়া পরিশোধ করে তিনি মানসিকতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন।’