রাজধানীর মিরপুরে দেয়াল ধসে তিনজনের মৃত্যুর ঘটনায় টিসিবির ট্রাকের কথা খবরে প্রচার হলেও সেখানে টিসিবির কোনো ট্রাকসেল কার্যক্রম ছিল না বলে জানা গেছে। ওই লাইন জরুরি খাদ্য বান্ধব কর্মসূচি ওপেন মার্কেট সেলের (ওএমএস) ছিল বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা।
আজ বুধবার টিসিবির চেয়ারম্যানের কার্যালয়ের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, বর্তমানে স্থায়ী অবকাঠামো ব্যবহার করে টিসিবির তালিকাভুক্ত ভোক্তাদের কাছে ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে সুলভ মূল্যে পণ্য বিপণন করা হয়। রোজা কিংবা ও ঈদ মৌসুমে সাময়িক সময়ের জন্য ফ্যামিলি কার্ডের পাশাপাশি ট্রাক সেল চালু করা হয়। সেখান থেকে যে কেউ লাইনে দাঁড়িয়ে থেকে পণ্য সংগ্রহ করতে পারেন। সবশেষ গত ১০ মে ১০ দিনের জন্য ট্রাকসেল চলেছিল।
মিরপুর কলেজের পাশে লাভ রোড হিসেবে পরিচিত একটি গলিপথে মঙ্গলবার দেয়াল ধসে তিনজন নিহত হন। ওই এলাকায় টিসিবির পণ্য বিপণনে যুক্ত বিসমিল্লাহ এন্টারপ্রাইজের একজন প্রতিনিধি আজকের পত্রিকাকে জানান, গত কোরবানির ঈদের পর টিসিবির ট্রাকসেল বন্ধ আছে। তবে খাদ্য অধিদপ্তরের ওএমএস কার্যক্রম চালু রয়েছে। ট্রাকটি ওএমএসের হতে পারে।
খাদ্য অধিদপ্তরের বণ্টন শাখার কর্মকর্তা আফিফ আল মাহমুদ ভূঁইয়া জানান, বর্তমানে অধিদপ্তরের ওএমএস কার্যক্রম চালু রয়েছে। তবে মিরপুরের ঘটনায় ট্রাকটি ওএমএসের কি না, তিনি নিশ্চিত নন।
টিসিবির ট্রাকের পণ্য সংগ্রহের জন্য দাঁড়িয়ে থাকা ব্যক্তিদের ওপর দেয়াল ধসে পড়ে হতাহতের ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছিল মিরপুর থানা–পুলিশ।
এ বিষয়ে মিরপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাফিজুর রহমান এ প্রতিবেদককে বলেন, ‘ট্রাকটি যে টিসিবির নয়, সেটি আপনার কাছে শুনলাম। সেখানে কোন সংস্থার ট্রাকের পণ্য সংগ্রহ করতে মানুষজন দাঁড়িয়েছিল, সে বিষয়ে খোঁজ খবর নিচ্ছি।’
২০২০ সালে করোনা মহামারি শুরুর পর কয়েক বছর কর্মহীন ও নিম্ন আয়ের মানুষেরা টিসিবির ট্রাক থেকে পণ্য সংগ্রহের জন্য ভিড় করতেন। ট্রাকসেল কার্যক্রমের সময় রাস্তায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হলে তা নিরসনে স্থায়ী অবকাঠামোতে বিপণন শুরু করে টিসিবি। সেই থেকে ফ্যামিলি কার্ডের ধারণা শুরু হয়। একজন কার্ডধারী মাসে অন্তত একবার সুলভ মূল্যে ডাল, চিনি, তেল, পেঁয়াজ, সয়াবিন তেল, আটাসহ প্রয়োজনীয় পণ্য সংগ্রহ করতে পারেন টিসিবির ট্রাকসেল অথবা স্থায়ী দোকান থেকে।