গাজীপুরে অস্ত্রের মুখে ছিনতাই করা ৫ হাজার টাকার জন্য সহোদর দুই ভাইকে পিটিয়ে হত্যা করেন পানদোকানি। প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি এ কথা স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে র্যাব।
হত্যাকাণ্ডের তিন দিনের মাথায় আজ মঙ্গলবার ভোরে মামলার প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন র্যাব-১ পোড়াবাড়ী ক্যাম্প কোম্পানি কমান্ডার মেজর মো. ইয়াসির আরাফাত হোসেন।
তিনি বলেন, ‘গ্রেপ্তারের পর আসামি স্বীকার করেছেন, ঘটনার দুই দিন আগে ঘাড়ে চাপাতি ধরে ৫ হাজার টাকা ছিনতাইয়ের প্রতিশোধ নিতেই দুই সহোদরকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে।’
গ্রেপ্তারকৃত আসামির নাম মো. আব্দুল আউয়াল (৫১)। তিনি পিরোজপুর জেলার মঠবাড়িয়া থানার বাশবুনিয়া এলাকার মৃত হাতেম আলীর ছেলে। আউয়াল গাজীপুর মহানগরীর সদর মেট্রো থানাধীন বাঙ্গালগাছ এলাকায় ভাড়া বাড়িতে বসবাস করতেন এবং বাঙ্গালগাছ বাঁশবাজার এলাকায় পান দোকান করতেন।
নিহত দুই সহোদর হলেন শফিকুল ইসলাম (২৫) ও শুক্কুর আলী (২২)। উভয়ে ময়মনসিংহ জেলার নান্দাইল থানার মহেষকুড়া এলাকার আবুল কাশেমের ছেলে। তাঁরা গাজীপুর মহানগরীর সদর মেট্রো থানাধীন ভুরুলিয়া এলাকায় আব্দুর রশিদের বাড়িতে পরিবার নিয়ে ভাড়া থাকতেন।
গ্রেপ্তারকৃতের বরাতে র্যাব কর্মকর্তা মো. ইয়াসির আরাফাত বলেন, ‘আসামি মো. আব্দুল আউয়াল র্যাবের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছে, ১৮ অক্টোবর সন্ধ্যায় দোকানের জন্য পান-সুপারি ও মালপত্র কেনার জন্য জয়দেবপুর বাজারে রওনা দেন। পথে হাজীবাগ রোডে পৌঁছালে নিহত শফিকুল ইসলাম, শুক্কুর আলীসহ ৫ জন তাঁর পথরোধ করেন। পরে শফিকুল তাঁর ঘাড়ে চাপাতি ধরে সঙ্গে থাকা ৫ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেন। এই ক্ষোভে তিনি তাঁর সহযোগীদের সহযোগিতায় শফিকুল ইসলাম ও শুক্কুর আলীকে হত্যা করেছেন।’
উল্লেখ্য, গত শুক্রবার সন্ধ্যায় গাজীপুর মহানগরীর বাঙ্গালগাছ সাকিন বাঁশবাজার এলাকায় সহোদর দুই ভাইকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়।