নেত্রকোনায় বাল্যবিয়ে নিরোধ আইনে ভ্রাম্যমাণ আদালত কর্তৃক দুই শিশুকে দণ্ড দেওয়া সেই নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সুলতানা রাজিয়াকে সতর্ক করেছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে এ-সংক্রান্ত মামলা নিষ্পত্তিতে কিছু পর্যবেক্ষণও দেওয়া হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মোস্তাফিজুর রহমানের ভার্চুয়াল হাইকোর্ট বেঞ্চ এ সম্পর্কিত মামলা নিষ্পত্তি করেন।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সুলতানা রাজিয়া নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করায় আদালত এ-সংক্রান্ত মামলা নিষ্পত্তি করেন। তবে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের কৃতকাজের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বিবেচনা করবেন বলেও পর্যবেক্ষণ দেন হাইকোর্ট।
পর্যবেক্ষণে আদালত বলেছেন, কার্যালয়ে বসে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা যাবে না। ঘটনাস্থলেই পরিচালিত হবে ভ্রাম্যমাণ আদালত। ভ্রাম্যমাণ আদালত সম্পর্কে যথাযথ প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করতে হবে। আইন প্রয়োগের বিষয়ে ম্যাজিস্ট্রেটসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে সতর্ক হতে হবে।
গত ৩ আগস্ট বাল্যবিয়ে নিরোধ আইনে দুই শিশুকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের কার্যালয়ে নিয়ে সাজা দেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। ৪ আগস্ট দুই শিশুকে সাজা দেওয়ার বিষয়টি একটি দৈনিকে প্রকাশ হওয়ার পর ওই দিন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট শিশির মনির আদালতে এর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে আবেদন করেন। ওই আবেদনে দুই শিশুর মুক্তির নির্দেশনা চাওয়া হয়। ওই দিন শুনানির সময় বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিমের বেঞ্চ মৌখিকভাবে নেত্রকোনার জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে ব্যবস্থা নিতে বলেন। সেদিনই দুই শিশু মুক্তি পেয়ে যায়। পরদিন আদালত দুই শিশুকে দণ্ড দেওয়া ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে ব্যাখ্যা চান।
পত্রিকার প্রতিবেদনে বলা হয়, ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে বাল্যবিবাহ নিরোধ আইনে দুই শিশুকে এক মাসের দণ্ডাদেশ দিয়েছেন নেত্রকোনার আটপাড়া উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) সুলতানা রাজিয়া। গত ৩ আগস্ট রাতে আটপাড়ায় সুলতানা রাজিয়া তাঁর নিজ কার্যালয়ে এই দণ্ডাদেশ দেন। একই সঙ্গে শিশু দুটিকে গাজীপুরে অবস্থিত শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে (বালক-বালিকা) পাঠানোর নির্দেশ দেন। ভ্রাম্যমাণ আদালতের এমন রায়ে শিশু দুটির পরিবার, আইনজীবী ও সচেতন মহলে প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।
শিশু দুটির বাড়ি আটপাড়া উপজেলার দুওজ ইউনিয়নে। তাদের মধ্যে নবম শ্রেণিতে পড়ুয়া মেয়েটির বয়স ১৫ বছর (জেএসসির নিবন্ধন কার্ড অনুযায়ী)। ছেলেটিও সমবয়সী।