রাজধানীর মোহাম্মদপুরে একটি পোষা বিড়ালকে নৃশংসভাবে হত্যার দায়ে আসামি আকবর হোসেন শিবলুকে ছয় মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। আজ বুধবার দুপুরে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আলবিরুনী মীরের আদালত এই রায় ঘোষণা করেন।
দণ্ডের পাশাপাশি আসামিকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। অনাদায়ে তাঁকে আরও এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।
আসামি শিবলু রায়ের সময় আসামি অনুপস্থিত ছিলেন। তাঁকে পলাতক দেখিয়ে রায় ঘোষণা করা হয়। আদালত সাজা পরোয়ানাসহ গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন তাঁর বিরুদ্ধে। আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে, আসামি গ্রেপ্তার বা আদালতে আত্মসমর্পণের পর এই রায় কার্যকর হবে।
বাদীপক্ষের আইনজীবী জাকির হোসেন রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, গত বছর ২ ডিসেম্বর মামলার সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ হয়। গত ৪ ফেব্রুয়ারি মামলার যুক্তিতর্ক শুনানি শেষ হয়।
আইনজীবী জাকির হোসেন বলেন, এই মামলায় বাদীসহ চারজন সাক্ষী আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন। সাক্ষ্য গ্রহণে আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আদালত সাজা দিয়েছেন। এটি একটি মাইলফলক রায়। পোষা প্রাণীর ওপর নৃশংসতার শাস্তি রয়েছে, এই রায় তার প্রমাণ হয়ে থাকবে।
গত বছর ৫ ফেব্রুয়ারি ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জি এম ফারহান ইশতিয়াকের আদালতে এই মামলা দায়ের করা হয়। মামলাটি দায়ের করেন পিপলস ফর অ্যানিমেল ওয়েলফেয়ারের পক্ষে নাফিসা নওরীন চৌধুরী।
মামলায় আসামি আকবর হোসেন শিবলু মোহাম্মদপুরের মুক্তিযোদ্ধা টাওয়ারের বাসিন্দা। ওই টাওয়ারের নবম তলার বাসিন্দা মনসুর বিড়ালটির মালিক।
আদালত অভিযোগের বিষয়ে মোহাম্মদপুর থানা-পুলিশকে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন। পুলিশ ঘটনার সত্যতার প্রমাণ পাওয়ায় আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করে। আদালত গত বছরের ১৪ জুলাই একমাত্র আসামি আকবর হোসেন শিবলুর বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, গত বছর ১ ফেব্রুয়ারি দুপুরের দিকে মোহাম্মদপুরের মুক্তিযোদ্ধা টাওয়ারের নবম তলার মনসুরের বিড়ালটি হারিয়ে যায়। পরে ভবনের সিসিটিভির ভিডিওতে দেখা যায়, আসামি আকবর হোসেন শিবলু বিড়ালটিকে এলোপাতাড়ি ফুটবলের মতো ‘লাথি’ মারছেন। আসামির লাথির আঘাতে বিড়ালটির নিথর দেহ পড়ে থাকার পরও পা দিয়ে মাড়িয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়।
মামলায় আরও অভিযোগ করা হয়, প্রাণীর প্রতি অমানবিক আচরণ করে হত্যা করা হয়েছে।