হোম > সারা দেশ > ঢাকা

খতনার সময় ভুল চেতনানাশক দিলে শ্বাসকষ্টে মারা যায় শিশু আয়ান: চার্জশিট

আশরাফ-উল-আলম, ঢাকা 

আয়ান আহমেদ। ফাইল ছবি

রাজধানীর সাঁতারকুলে ইউনাইটেড মেডিকেল কলেজ অ্যান্ড হাসপাতালে সুন্নতে খতনা করার সময় ভুল চিকিৎসা ও চিকিৎসকদের অবহেলায় মৃত্যু হয় ৫ বছর ৯ মাস বয়সী শিশু আয়ান আহমেদের। এ-সংক্রান্ত মামলার অভিযোগপত্রে (চার্জশিট) মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এ কথা উল্লেখ করেছেন।

আজ বৃহস্পতিবার অভিযোগপত্র গ্রহণ করেছেন আদালত। ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ এহসানুল ইসলাম অভিযোগপত্র গ্রহণ করেন। গত ৯ জানুয়ারি তিন চিকিৎসকের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বাড্ডা থানার পুলিশ পরিদর্শক মো. ইয়াসিন খন্দকার। আজ অভিযোগপত্র গ্রহণের দিন তিন চিকিৎসক আদালতে উপস্থিত না থাকায় তাঁদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।

মামলার বাদী মৃত শিশু আয়ানের বাবা মো. শামীম আহমেদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

অভিযোগপত্রে অভিযুক্ত চিকিৎসকেরা হলেন সার্জন তাসনুভা মাহজাবীন, স্পেশাল অ্যানেসথেটিস্ট ডা. সৈয়দ সাব্বির আহমেদ ও সহকারী স্পেশাল অ্যানেসথেটিস্ট ডা. মো. নাজিম উদ্দিন।

রাজধানীর একটি বেসরকারি স্কুলের নার্সারির শিক্ষার্থী ছিল শিশু আয়ান। তাকে ২০২৩ সালের ৩১ ডিসেম্বর সুন্নতে খতনা করাতে সাঁতারকুলের ইউনাইটেড মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। এ সময় তাকে অ্যানেসথেসিয়া দিয়ে খতনা করা হয়। কিন্তু অপারেশনের কয়েক ঘণ্টা পরও জ্ঞান না ফিরলে আয়ানকে গুলশানের ইউনাইটেড হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে আট দিন লাইফ সাপোর্টে থাকার পর ২০২৪ সালের ৭ জানুয়ারি দিবাগত মধ্যরাতে আয়ানকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসকেরা।

এ ঘটনায় ৯ জানুয়ারি আয়ানের বাবা শামীম আহমেদ বাদী হয়ে দায়িত্বে অবহেলার কারণে মৃত্যুর অভিযোগে বাড্ডা থানায় মামলা দায়ের করেন।

অভিযোগপত্রে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উল্লেখ করেছেন, মামলার বাদীর একমাত্র শিশুপুত্র আয়ানের সুন্নতে খতনা করানোর ঘটনায় অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যুর ঘটনাটি হৃদয়বিদারক ও স্পর্শকাতর। ঘটনাটি যখন ঘটে তৎকালীন বিষয়টি ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয় এবং বাংলাদেশের প্রতিটি জাতীয় পত্রিকায়, টিভি চ্যানেল ও বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে ব্যাপকভাবে প্রকাশিত ও প্রচারিত হয়। প্রতিটি সংবাদ, আয়ানের ভিসেরা প্রতিবেদন ও ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন অত্যন্ত নিখুঁতভাবে পর্যালোচনা করা হয়েছে।

ভুলভাবে চেতনানাশক প্রয়োগ

তদন্ত কর্মকর্তা প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছেন, ‘ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে চেতনানাশক ও অন্যান্য ওষুধ ভুল প্রয়োগের কারণে শিশু আয়ানের শ্বাসকষ্টে মৃত্যু হয়। বাদীর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করে প্রতিবেদন দেওয়ার নির্দেশ। দিলে বিশেষজ্ঞ কমিটি প্রতিবেদন দেয়। ওই প্রতিবেদন পর্যালোচনা করেও দেখা যায়, ভুলভাবে ওষুধ প্রয়োগ ও চিকিৎসকদের দায়িত্বে অবহেলার কারণে শিশু আইনের মৃত্যু হয়েছে।’

তদন্ত কর্মকর্তা অভিযোগপত্রে আরও উল্লেখ করেন, ‘২০২৩ সালের ৩১ ডিসেম্বর সকাল ৯টায় নার্সদের সহযোগিতায় আয়ানকে অপারেশন থিয়েটারে নিয়ে যান। সেখানে নিয়ে আয়ানকে প্রয়োজনীয় ইনজেকশন ও ওষুধ প্রয়োগ করেন। মামলার বাদী এবং আইনের খতনা উপলক্ষে উপস্থিত আত্মীয়স্বজনকে ২০/২৫ মিনিট অপেক্ষা করতে বলেন চিকিৎসকেরা। এর মধ্যে হাসপাতালের রেজিস্ট্রার ডাক্তার রিফাতুল কবির মেডিকেল শিক্ষার্থীদের নিয়ে অপারেশন থিয়েটারে প্রবেশ করে অপারেশন থিয়েটারে ব্যবহৃত বিভিন্ন ধরনের মেশিন ও সার্জিক্যাল যন্ত্রপাতি সম্পর্কে শিক্ষা প্রদান করেন। কিছু সময় পরে তাঁরা বেরিয়ে যান।

‘এরপর সকাল ১০টার দিকে শিশু আয়ানের অবস্থার অবনতি ঘটতে থাকে। তার হৃদ্‌যন্ত্রের কম্পন বৃদ্ধি পেতে থাকে। আরও ইনজেকশন পুশ করা হয়। অস্ত্রোপচার কার্যক্রম শেষ হতে দেরি হয় বাদী ও তাঁর সঙ্গী ওদের মনে সন্দেহ দেখা দেয়। তাঁরা অপারেশন থিয়েটারে ঢুকে আয়ানের অবস্থা খারাপ বুঝতে পারেন। তখন তাঁরা দেখতে পারেন আয়ানের বুকের দুই পাশে দুটি ছিদ্র করে টিউব লাগানো এবং বুকের ওপর চাপাচাপি করছেন চিকিৎসকেরা। বাদী অন্য কোনো হাসপাতালে নেওয়ার দাবি করেন, কিন্তু চিকিৎসকেরা কিছুতেই বাদীর কথায় কর্ণপাত করেন না। পরে তাকে ইউনাইটেড হাসপাতাল গুলশানে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে আইসিইউতে রাখা হয়। আয়ানের শরীর শীতল, অজ্ঞান ও নিথর অবস্থায় পড়েছিল। সাত দিন আইসিইউতে রাখার পর ২০২৪ সালের ৭ জানুয়ারি আয়ানকে মৃত ঘোষণা করা হয়।’

চিকিৎসায় অবহেলা ও টাকা দাবি

মামলার অভিযোগপত্রে তদন্ত কর্মকর্তা উল্লেখ করেছেন, ‘সুন্নতে খতনা করার সময় শিশুর যেভাবে যত্ন নেওয়া উচিত ছিল, সেভাবে যত্ন নেননি ইউনাইটেড হাসপাতালের দায়িত্বরত চিকিৎসকেরা। বাদীর একমাত্র শিশুপুত্র আয়ানের মৃত্যুর পরও বাদীর কাছে চিকিৎসার খরচ বাবদ ৫ লাখ ৭৭ হাজার ২৫৭ টাকা বিল দাবি করা হয়। বিল পরিশোধ না করা পর্যন্ত মৃতদেহটি হস্তান্তর করা হবে না মর্মে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায় মামলার বাদীর। পরে মামলার বাদী বাড্ডা থানায় বিষয়টি জানালে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপে শিশু আয়ানের মৃতদেহ পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।’

ইউনাইটেড হাসপাতালের তিন চিকিৎসকের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করা হলেও বাদী এতে অসন্তুষ্ট। বাদী মো. শামীম আহমেদ আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘আমার ছেলে আয়ানে মৃত্যু চিকিৎসকদের ভুল চিকিৎসা ও দায়িত্বের অবহেলার কারণে ঘটেছে—এটা ঠিক। দুই বছর মামলার পেছনে ঘুরেছি। পুলিশ তদন্ত করে চার্জশিট দিয়েছে। কিন্তু আইনের মৃত্যুর ঘটনায় দায়ী পুরো হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। কিন্তু হাসপাতালে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের এবং অন্যান্য যারা জড়িত তাদের বাদ দিয়ে চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে। এতে আমার অসন্তুষ্টি রয়েছে।’

আপনি নারাজি দাখিল করলেন না কেন? এ প্রশ্নের জবাবে বাদী বলেন, ‘মামলা দায়ের করার পর দুই বছর লেগেছে তদন্ত শেষ করতে। এখন যদি আমি নারাজি দাখিল করি, তাহলে আবার কত দিন লাগবে তার নিশ্চয়তা নেই। তাই নারাজি দাখিল করিনি। কয়েকজনকে দায়ী করে চার্জশিট দেওয়া হয়েছে। অন্তত বিচারটা হোক।’

মামলার বাদী ২০২৪ সালের ৬ মার্চ বাড্ডা থানায় ইউনাইটেড হাসপাতালের আরও কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মামলায় অন্তর্ভুক্ত করতে সম্পূরক এজাহার দায়ের করেন। সম্পূরক এজাহারে ডা. রিফাতুল আক্তার, হাসপাতালের জেনারেল ম্যানেজার বশির আহমেদ মোল্লা, এজিএম (এডমিন) মাইনুল আহমেদ, পরিচালক নিজামুদ্দিন হাসান রশিদ, ইউনাইটেড গ্রুপের সাবেক চেয়ারম্যান ও বর্তমান ইউনাইটেড হাসপাতালের পরিচালক হাসান মাহমুদ রাজা, ইউনাইটেড গ্রুপের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মইনুদ্দিন হাসান রশিদ এবং অজ্ঞাতনামা চিকিৎসক ও হাসপাতালের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আসামি করেন। অভিযোগপত্রে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উল্লেখ করেছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ প্রমাণ হয়নি।

‎জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ফুটবল টুর্নামেন্টে দফায় দফায় সংঘর্ষ, সাংবাদিকসহ আহত ২০

পেছাচ্ছে না অমর একুশে বইমেলা

জামায়াত আমিরের এক্স অ্যাকাউন্ট হ্যাক: বঙ্গভবনের সেই কর্মকর্তার জামিন

মিরপুরে বাসা থেকে দুই সন্তানসহ বাবা-মায়ের মরদেহ উদ্ধার

শিশু আয়ানের মৃত্যু: ইউনাইটেড হাসপাতালের তিন চিকিৎসকের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা

হাতিরঝিল থানার মামলায় গ্রেপ্তার বঙ্গভবনের সহকারী প্রোগ্রামার

মুছাব্বির হত্যা: শুটার রহিম ৫ দিনের রিমান্ডে

মাদারীপুরে বিএনপির ও বিদ্রোহী প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ, আহত ১০

বিদ্যুৎ-জ্বালানি খাতের সংকট উত্তরণে জাতীয় ঐকমত্যের আহ্বান

হাদি হত্যা: অধিকতর তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল পিছিয়ে ৯ ফেব্রুয়ারি