জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) প্রক্টরের পদত্যাগ ও জাবিতে ধর্ষণচেষ্টায় অভিযুক্তের বিচারের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সংহতি জানিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে গণতান্ত্রিক ছাত্র জোট।
আজ মঙ্গলবার বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র–শিক্ষক মিলনায়তন কেন্দ্র (টিএসসি) রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে এ সমাবেশ করে। এর আগে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে ভিসি চত্বর, মল চত্বর, কলা ভবন ঘুরে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে কর্মসূচি শেষ করে সংগঠনের নেতারা।
এ সময় তাদের ‘এক–দুই–তিন–চার, প্রক্টর তুই গদি ছাড়’, ‘অবিলম্বে জাবি প্রক্টরকে, পদত্যাগ করতে হবে’, ‘খুন–ধর্ষণ–নিপীড়ন, রুখে দাঁড়াও জনগণ’ ইত্যাদি স্লোগান দিতে শোনা যায়।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের সঙ্গে পূর্ণ সমর্থন জানিয়ে বিক্ষোভ সমাবেশে বিপ্লবী ছাত্র-যুব আন্দোলনের কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি নাঈম উদ্দিন বলেন, ছয় দিন আগে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে এক নারী শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ করার চেষ্টা হয়। পরবর্তী সময়ে তাঁর নিজের উদ্যোগেই এক প্রকার তিক্ত সংগ্রামের মধ্য দিয়ে সেখান থেকে সেই শিক্ষার্থী বেরিয়ে আসেন। যখন জাহাঙ্গীরনগরের শিক্ষার্থীরা প্রশাসনের কাছে সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার চায়, তখন প্রক্টর এবং প্রশাসন তাদের চিরাচরিত চরিত্র দেখিয়েছে। জাহাঙ্গীরনগরে নারী নিপীড়নের ঘটনা আগেও বেশ কয়েকবার হয়েছে এবং প্রশাসন বরাবরই দায়সারা চরিত্র ধারণ করেছে।
জাবিতে চলমান ধর্ষণবিরোধী আন্দোলন ও জাবি প্রক্টরের পদত্যাগের দাবিতে চলমান আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানিয়েছে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন। এর কেন্দ্রীয় সভাপতি তামজিদ হায়দার চঞ্চল বলেন, ক্যাম্পাসে ছাত্রদল, ছাত্রশিবির ও ছাত্রলীগের কর্মকাণ্ডে আমরা কোনো পার্থক্য দেখছি না। ছাত্রদল এখন জাবি প্রক্টরের পক্ষ নিয়েছে। জাবি প্রক্টর যখন শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হন, তখন ছাত্রদল কীভাবে তাঁকে রক্ষা করার চেষ্টা করে? এটা স্পষ্টতই একটি রাজনৈতিক সমঝোতা। অবিলম্বে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরের পদত্যাগ দাবি করছি।
বিপ্লবী ছাত্রমৈত্রীর কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক জাবির আহাম্মেদ জুবেল বলেন, নারীদের আন্দোলনের মাধ্যমেই বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে নারীবান্ধব করে তোলা হয়েছিল। কিন্তু এখন দেখতে পাচ্ছি–একের পর এক ধর্ষণের ঘটনা ঘটছে, যেখানে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে নারীদের অনিরাপদ করে তোলা হচ্ছে। সেখানে একজন নারী শিক্ষার্থীকে নেটের মধ্যে পেঁচিয়ে ধর্ষণ চেষ্টা করা হয়, তাঁকে হত্যার চেষ্টাও করা হয়, কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো বিচার হয় নাই।
তিনি আরও বলেন, ধর্ষণ চেষ্টার বিচারের দাবিতে যখন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নারীরা আন্দোলনে নেমে আসে এবং এই নিরাপত্তাহীনতার দায়ে ব্যর্থ প্রক্টরের পদত্যাগের দাবি তোলে তখন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনপন্থী একটা ছাত্রজোট গঠন হয়ে গেছে। সেই প্রশাসনপন্থী ছাত্রজোটে ছাত্রদল, ছাত্রশিবির ও ছাত্র শক্তি আছে। তারা প্রশাসনকে বাঁচাতে লেগে পড়েছে।
জাহাঙ্গীরনগরের শিক্ষার্থীর আন্দোলনের সঙ্গে আমরা সংহতি জানাই এবং ক্যাম্পাসের নিরাপত্তাহীনতার পেছনে প্রক্টর তার সুস্পষ্ট দায় আছে। এই ব্যর্থ প্রক্টরকে পদত্যাগ করতে হবে।