রাজশাহীতে মেয়েকে ধর্ষণের পর হত্যার বিচার চেয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন এক ব্যক্তি। সংবাদ সম্মেলনে তিনি তাঁর মেয়েকে হত্যার ঘটনায় করা মামলা তদন্তে পুলিশের গড়িমসি, অভিযোগপত্র দাখিল না করা এবং আসামিদের গ্রেপ্তার না করারও অভিযোগ করেছেন।
আজ সোমবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে রাজশাহী সাংবাদিক ইউনিয়ন কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন শামিম হোসেন নামের এই ব্যক্তি। তিনি রাজশাহী মহানগরীর কাশিয়াডাঙ্গা থানার বালিয়া পশ্চিম আদর্শগ্রামের বাসিন্দা।
শামিম হোসেন অভিযোগ করেন, গত ৯ জুলাই ফাঁকা বাড়িতে তাঁর মেয়ে সামিরা জান্নাতুল ফেরদৌসকে (১১) ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে। পরে আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দিতে লাশ ঘরের আড়ার সঙ্গে গলায় ফাঁস দিয়ে ঝুলিয়ে রাখা হয়। তবে তার পা মাটি সঙ্গে লাগানো ছিল।
শামিম দাবি করেন, তার মেয়েকে ধর্ষণের যথেষ্ট আলামত ছিল। কিন্তু পুলিশ লাশ উদ্ধার করে প্রথমে অপমৃত্যুর মামলা করে। এরপর তিনি বাদী হয়ে থানায় হত্যা মামলা করেছেন।
ভুক্তভোগী শিশুর বাবা শামিম জানান, ঘটনার দিন তাঁর মেয়ে বাড়িতে একাই ছিল। এ সময় শামীম নামের এক প্রতিবেশী যুবক তাঁকে ফোন করে তার অবস্থান জানতে চেয়েছিলেন। তিনি বাড়ি ফিরলে তার বাড়ির সামনে শামিমের অস্বাভাবিক আচরণ দেখেন। পরে ঘরে ঢুকে মেয়ের মরদেহ দেখতে পান। এ ঘটনায় গত ২৩ জুলাই প্রতিবেশী ওই যুবক শামিম, রকি, টিয়া আলম গোলাব ও বাবু নামে চারজনকে আসামি করে মামলা করেন। কিন্তু পুলিশ আসামি গ্রেপ্তারে গড়িমসি শুরু করে।
ভুক্তভোগী শামিম আরও জানান, মামলার পর একজন আসামিকে গ্রেপ্তার করে র্যাব। আরেক আসামি উচ্চ আদালতে জামিন নিয়েছেন। এখন তারা মামলা তুলে নিতে চাপ দিচ্ছেন। মামলার এত দিন পরও পুলিশ অভিযোগপত্র দাখিল করছে না। তিনি মামলার সঠিক তদন্ত এবং জড়িতদের শাস্তি দাবি করেছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে কাশিয়াডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এসএম মাসুদ পারভেজ বলেন, ‘এই মামলার সকল কিছু নিয়ম অনুযায়ী অগ্রগতি হচ্ছে। বাদীকেও সব ধরনের সহযোগিতা করা হচ্ছে। ভিকটিমের ডিএনএ টেস্ট করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দ্রুতই তদন্ত শেষ হবে।’