কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় মোকলেছুর রহমান নামে এক যুবকের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে এক লাখ টাকা এসেছে। কোথা থেকে এসেছে জানেন না তিনি। বিদেশ থেকে তাঁর অ্যাকাউন্টে কেউ ভুলে হয়তো টাকা ছাড়তে পারে। এমন ধারণা থেকে মালদ্বীপে থাকা বন্ধুকে বিষয়টি জানান তিনি। পরে নিশ্চিত হওয়া গেছে একই উপজেলার মালদ্বীপ প্রবাসী রিপন মিয়া নামে এক ব্যক্তি ভুলবশত তাঁর অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠিয়েছেন। আজ সোমবার সকালে প্রবাসী রিপনের নিকট আত্মীয়ের কাছে নগদ টাকা বুঝিয়ে দেন মোকলেছুর রহমান নামের ওই যুবক।
মোকলেছুর রহমান উপজেলার চরলক্ষিয়া গ্রামের মৃত সুরুজ মিয়ার ছেলে।
জানা গেছে, গত ১৯ অক্টোবর মোকলেছুরের ডাচ বাংলা ব্যাংক অ্যাকাউন্টে এক লাখ টাকা আসে। কিন্তু কে পাঠিয়েছে, সেটি জানতে পারেননি তিনি। বিদেশ থেকে কোনো প্রবাসী টাকা পাঠিয়ে থাকতে পারেন, এমন সন্দেহে বিষয়টি মালদ্বীপে থাকা তাঁর এক বন্ধুকে জানান। সেই বন্ধু খোঁজখবর নিয়ে নিশ্চিত হয়েছেন রিপন নামে একই উপজেলার চরপাড়াতলা গ্রামের এক প্রবাসী ওই এক লাখ টাকা ভুল করে মোকলেছুর রহমানের অ্যাকাউন্টে পাঠিয়ে দিয়েছেন। বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর রিপনের সঙ্গে যোগাযোগ করে আজ সোমবার সকালে তার এক আত্মীয়ের হাতে নগদ এক লাখ বুঝিয়ে দেন মোকলেছ।
এ নিয়ে মোকলেছুর রহমান বলেন, ‘টাকা পয়সা বড় কিছু না। আমার অ্যাকাউন্টে এতগুলো টাকা এসেছে। কিন্তু কে পাঠিয়েছে তা জানার চেষ্টা করি। একপর্যায়ে গত শুক্রবার নিশ্চিত হই যে টাকাগুলো মালদ্বীপ প্রবাসী এক ভাই ভুল করে আমার অ্যাকাউন্টে পাঠিয়ে দিয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর আজ সোমবার সকালে পৌর সদর বাজারের কাঁচা বাজার মহালে ব্যবসায়ী রুবেল মিয়াসহ কয়েকজনের উপস্থিতিতে ওই প্রবাসীর পাঠানো ব্যক্তির কাছে নগদ এক লাখ টাকা তুলে দিয়েছি। শুক্র ও শনিবার ব্যাংক বন্ধ থাকায় আজ দিতে হয়েছে।’
এ দিকে ভুলে আসা টাকা ফেরত দেওয়ার বিষয়টি জানতে পেরে স্থানীয় লোকজন ওই যুবকের প্রশংসা করছেন। তারা বলছেন, আজকাল নিজের লোকজনও প্রতারণা করে। টাকা পেয়েও অস্বীকার করে। সেখানে এতগুলো টাকা ফেরত দিয়ে বড় মনের পরিচয় দিলেন ওই যুবক। আসলেই টাকা-পয়সা বড় কিছু নয়। এখনো ভালো মানুষ আছে।