ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যা মামলার প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে রাহুলের সহযোগী রুবেল আহমেদ আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। গতকাল শনিবার দ্বিতীয় দফায় তিন দিনের রিমান্ড শেষে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করলে তিনি জবানবন্দি দেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) আবদুর কাদির ভূঁঞা তাঁর জবানবন্দি লিপিবদ্ধ করার আবেদন জানালে মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মাহবুবুর রহমান তাঁর জবানবন্দি গ্রহণ করেন। জবানবন্দি রেকর্ড শেষে তাঁকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত।
আজ রোববার আদালতের পল্টন থানার সাধারণ নিবন্ধন কর্মকর্তা এসআই রুকনুজ্জামান বিষয়টি জানান।
গত ২১ জানুয়ারি মধ্যরাতে ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের আটি নয়াবাজার এলাকা থেকে ডিবি পুলিশের সহায়তায় তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে তাঁকে আদালতে পাঠানো হয়। ২২ জানুয়ারি তাঁকে ছয় দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়। গত বুধবার আবার তাঁকে তিন দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়।
মামলাটির অধিকতর তদন্ত করছে সিআইডি। তদন্ত হাতে পাওয়ার পর রুবেলকে গ্রেপ্তার করে তারা। তবে রুবেল স্বীকারোক্তিতে কী বলেছেন তা জানা যায়নি।
২০২৫ সালের ১২ ডিসেম্বর জুমার নামাজ শেষে ফেরার পথে পল্টন থানার বক্স কালভার্ট রোডে দুষ্কৃতকারীরা ওসমান হাদিকে গুলি করে পালিয়ে যায়। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে অপারেশন শেষে এভারকেয়ার হাসপাতালে পাঠানো হয়। উন্নত চিকিৎসার জন্য গত ১৫ ডিসেম্বর তাঁকে সিঙ্গাপুরে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ১৮ ডিসেম্বর তিনি মারা যান।
হাদি গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর গত ১৪ ডিসেম্বর পল্টন থানায় ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের বাদী হয়ে মামলা করেন। হাদির মৃত্যুর পর মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হয়।
মামলাটি প্রথম তদন্ত করে পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)। ডিবি তদন্ত শেষে গত ৬ জানুয়ারি প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে রাহুল ওরফে দাউদসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেন। চার্জশিটভুক্ত ১৭ আসামির মধ্যে বর্তমানে ১১ জন কারাগারে আটক রয়েছেন। প্রধান আসামি ফয়সালসহ ছয়জন পলাতক রয়েছেন।
ডিবির দেওয়া চার্জশিট প্রত্যাখ্যান করে মামলার বাদী গত ১৫ জানুয়ারি নারাজি আবেদন দাখিল করেন। ওই দিন শুনানি শেষে আদালত নারাজি আবেদন গ্রহণ করে সিআইডিকে অধিকতর তদন্তের নির্দেশ দেন।