এবার দুর্নীতির একটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) দিলীপ কুমার আগারওয়ালাকে। আজ সোমবার ঢাকার মহানগর দায়রা জজ ও সিনিয়র বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মো. শাহজাহান কবির।
জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও অর্থপাচারের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদনের ওপর শুনানির জন্য আগারওয়ালাকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়। শুনানি শেষে আদালত তাকে গ্রেপ্তার দেখানো নির্দেশ দেন। পরে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।
আদালতের অতিরিক্ত পিপি আজিজুল হক দিদার বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দুদকের সহকারী পরিচালক সাজ্জাদ হোসেন আসামি আগারওয়ালাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেছিলেন। আজ ওই আবেদনের ওপর শুনানি ছিল।
২০২৫ সালের ৮ অক্টোবর দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়, ঢাকা-১ জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও অর্থপাচারের অভিযোগে মামলাটি দায়ের করা হয়।
মামলায় দিলীপ কুমার আগারওয়ালার বিরুদ্ধে অসাধু উপায়ে জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ ১১২ কোটি ৪৭ লাখ ২৮ হাজার ৪০৭ টাকার সম্পদ অর্জন ও দখলে রাখার অভিযোগ করা হয়।
এ ছাড়া তার ও স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নামে পরিচালিত ৩৪টি ব্যাংক হিসাবে ৩৮৫ কোটি ৩২ লাখ ৬২ হাজার ১২৩ টাকা জমা এবং ৩৬৯ কোটি ৯৭ লাখ ৯৪ হাজার ১৪০ টাকা উত্তোলনের তথ্য পাওয়া গেছে। এসব হিসাবে সর্বমোট ৭৫৫ কোটি ৩০ লাখ ৫৬ হাজার ২৬৩ টাকার লেনদেনের মাধ্যমে অর্থ স্থানান্তর, রূপান্তর ও হস্তান্তরের অভিযোগ আনা হয়েছে।
গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন বলা হয়েছে, মামলার তদন্তে আসামির বিরুদ্ধে প্রাথমিকভাবে অপরাধের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে। মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে তাকে গ্রেপ্তার দেখানো প্রয়োজন।
গত ১৯ অক্টোবর সন্ধ্যায় বনানী থেকে আগারওয়ালাকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মেট্রোপলিটন গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। পরদিন সোনা চোরাচালান ও অর্থপাচারের অভিযোগে সিআইডির দায়ের করা এক মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করে একদিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়। পরে তাঁকে উত্তরা পশ্চিম থানায় দায়ের করা একটি হত্যাচেষ্টা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। ওই মামলায় দুই দফায় রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আগারওয়ালাকে গত ২৬ অক্টোবর কারাগারে পাঠানো হয়।
উল্লেখ্য, আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর ২০২৪ সালের ৩ সেপ্টেম্বর দিলীপ কুমার আগরওয়ালাকে গ্রেপ্তার করেছিল র্যাব। এরপর বিভিন্ন হত্যা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। এসব মামলায় জামিন পাওয়ার পর ২০২৫ সালের ১ অক্টোবর তিনি কারাগার থেকে মুক্তি পান।