হোম > সারা দেশ > ঢাকা

স্টলের সজ্জায় নানান বার্তা

শরীফ নাসরুল্লাহ, ঢাকা

বইয়ের পাতায় ডুবে আছে কয়েক যুবক। গতকাল সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের অমর একুশে বইমেলা প্রাঙ্গণে। ছবি: আজকের পত্রিকা

বইমেলার বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণ অংশে হাঁটছিলেন দুজন। হঠাৎ একজন দূরে একদিকে ইঙ্গিত করে বললেন, ‘দেখ তো, ওইটা পুরোনো মন্দির না?’ অন্যজন ভ্রু কুঁচকে বোঝার চেষ্টা করলেন।’ তাঁদের পেছনে পেছনে গিয়ে দেখা গেল, স্থাপনাটা আসলে ষোলো শতকে নির্মিত টাঙ্গাইলের ঐতিহাসিক আতিয়া মসজিদ। একসময় ১০ টাকার নোটে যার ছবি ছিল।

বাংলাদেশ প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের স্টলটি সাজানো হয়েছে ঐতিহাসিক আতিয়া মসজিদের আদলে। জিজ্ঞেস করে জানা গেল, স্টলটির নকশা করেছেন অধিদপ্তরের সহকারী মডেলার শামীমা হক। অধিদপ্তরের কর্মীরা বললেন, প্রতিবছর বইমেলার স্টল তৈরির সময় প্রতিষ্ঠানটির চেষ্টা থাকে দেশের ইতিহাস ও ঐতিহ্যকে তুলে ধরার।

অমর একুশে বইমেলা এখন আর শুধুই বই বিক্রির উপলক্ষ নয়, বইকে কেন্দ্র করে বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির বৃহৎ অঙ্গনকে উদ্‌যাপনের এক সুযোগ এটি। তাই স্টলের গঠন বা সজ্জাও এখন আলোচনার বিষয়। পথিকৃৎ প্রকাশক চিত্তরঞ্জন সাহা একদিন স্রেফ চটের ওপর বই বিছিয়ে যে মেলার সূচনা করেছিলেন, সেই মেলার বইগুলো এখন সাজানো হয় দারুণ সব সৃজনশীলতা, নকশার স্টল আর প্যাভিলিয়নে।

এবারের মেলায় ঐতিহ্যবাহী সাংস্কৃতিক সংগঠন উদীচীর স্টলটি তুলে ধরেছে প্রতিবাদের বার্তা। স্টলটি সাজানো হয়েছে আগুনে পোড়া হারমোনিয়াম, বই, পুরোনো রসিদ, বাদ্যযন্ত্র এবং বসার একটি পোড়া টুল দিয়ে। এর মাঝে রাখা শান্তির প্রতীক হিসেবে একটি সাদা পাখি। অনেকে ধরতে পেরেছেন, গত বছরের ১৯ ডিসেম্বর দুর্বৃত্তদের হামলার কথা মনে করিয়ে দিতেই উদীচীর স্টলের এই রূপ। সংগঠনটির একাংশের সাধারণ সম্পাদক জামশেদ আনোয়ার তপন বলেন, ‘এটা আমাদের প্রতিবাদ। আমাদের ওপর হামলার কথা সাধারণ মানুষকে জানানো এবং সাংস্কৃতিক চর্চার বিরুদ্ধে সহিংসতার বিপক্ষে অবস্থান জানানোর চেষ্টা।

শিল্পসাহিত্য কী করে প্রযুক্তি ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের নেতিবাচক প্রভাবে ভুগছে, সেটা বোঝা যাবে বিদ্যানন্দ প্রকাশনীর স্টল দেখলে। স্থাপনাটি প্রথমে দেখলে ধাক্কাই লাগে। বইমেলার স্টল? নাকি কোনো হানাবাড়ির ঘর। পলেস্তারা খসে পড়া পুরোনো দেয়াল। ঝুলে পড়েছে সাইনবোর্ড, শাটারও প্রায় ভেঙে পড়া, বইগুলো ধুলোয় ঢাকা। দেয়ালে ভাঙা ফ্রেমের মাঝে ঝুলে আছেন রবীন্দ্রনাথ, নজরুল। ধুলোর আস্তরে ঢাকা পড়েছে বাংলা লোকসাহিত্যের এক অমূল্য সম্পদ ‘ঠাকুরমার ঝুলি’। কিন্তু দেয়ালের ওপরেই বড় করে চকচক করছে ইনস্টাগ্রাম, ফেসবুকের লোগো। বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশন বলেছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মুহূর্তেই লেখা ছড়িয়ে পড়ে। এতে প্রচার বাড়লেও বইয়ের বিক্রি মোটের ওপর কমছে। সে বিষয়টি তুলে ধরে সাহিত্যকে বাঁচানোর প্রয়াস থেকে তাদের এই পরিকল্পনা।

বেঙ্গল বুকস তাদের স্টলে দিয়েছে করপোরেট লুক। রহস্য ও রোমাঞ্চকর বই বের করে বলে পুরো স্টলটি কালো রঙে মুড়িয়েছে ‘কালো’ প্রকাশনী, কিছু ইসলামি বইয়ের স্টল সেজেছে ক্যালিগ্রাফি দিয়ে।

স্থপতি রিকিতা নন্দীর সঙ্গে কথা হলো মেলা প্রাঙ্গণে। তিনি বললেন, ‘সবকিছুরই একটা সৌন্দর্য থাকে। মেলার বাহ্যিক সৌন্দর্য এর নান্দনিক স্টলগুলো। মেলায় ঘুরতে এসে বইকেনার পাশাপাশি অনেকে ছবি তুলতে স্টলগুলোর সামনে যান।’

এবার অনেক অনিশ্চয়তা ঠেলে দেরিতে শুরু হওয়া মেলায় বড়, খোলামেলা প্যাভিলিয়ন নেই। স্টল ঘিরেই প্রকাশকেরা সাজিয়েছেন বিভিন্ন থিম। কম সময়ে আয়োজন করতে হওয়ায় অনেকে আবার কোনোরকমে স্টল বানিয়ে মেলায় অংশ নিয়েছেন।

নতুন বইয়ের খোঁজে

অধ্যাপক, লেখক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী ‘আমার পিতার মুখ’ বইতে তুলে ধরেছেন তাঁর শৈশব, পারিবারিক পরিবেশ এবং পিতা হাফিজ উদ্দিন চৌধুরীর সান্নিধ্যে তাঁর বেড়ে ওঠার স্মৃতি। এটি মূলত স্মৃতিচারণা। বইটি বেরিয়েছে অন্যপ্রকাশ থেকে।

মাহবুব আজীজের রাজনৈতিক বিশ্লেষণ ‘গণঅভ্যুত্থানউত্তর রাজনীতি: সংঘাত, অবিশ্বাস, সংশয়’। রাজনীতির পাশাপাশি অর্থনীতি, শিক্ষা, সমাজের নানা প্রসঙ্গ এই বইতে বিভিন্নভাবে আলোচিত হয়েছে। এটি বের করেছে অনন্যা।

রূপকথা বা লোককাহিনির মধ্যে একটি জাতির সংস্কৃতি গড়ে ওঠার পরিচয় পাওয়া যায়। জার্মানির ১৮টি রূপকথার গল্প নিয়ে এসেছে আখতার হুসেনের অনুবাদ ও সম্পাদনায় ‘জার্মানির রূপকথা’। এটি বের হয়েছে কথাপ্রকাশ থেকে।

মূলত দেশ-জনপদের ইতিহাস-ঐতিহ্য উপভোগকে মাথায় রেখে দেশে দেশে বেড়ান এলিজা বিনতে এলাহী। তাঁর দেশের ভেতরে বেড়ানো নিয়ে লেখা ভ্রমণকাহিনি ‘দেখা অদেখা চট্টগ্রাম: একটি ঐতিহ্য সফরনামা’ মেলায় এনেছে অক্ষরবৃত্ত প্রকাশন। মেলায় এসেছে কবি, কথাসাহিত্যিক মাজহার সরকারের উপন্যাস ‘আতঙ্কের গোলাপ’। বইটি বের করেছে কথাপ্রকাশ।

গতকাল তথ্যকেন্দ্রে মেলার নতুন বই জমা পড়েছে ১১৩টি।

অন্যান্য আয়োজন

মূলমঞ্চে এম শমসের আলীকে নিয়ে আলোচনা করেন বি এম ওবায়দুল ইসলাম। তিনি বলেন, তাত্ত্বিক পদার্থবিজ্ঞানে; বিশেষ করে পারমাণবিক ভৌতবিজ্ঞানে তাঁর মৌলিক গবেষণা আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও সমাদৃত হয়েছিল। আলোচনায় অংশ নেন ফারসীম মান্নান মোহাম্মদী। সভাপতিত্ব করেন আরশাদ মোমেন। ‘লেখক বলছি’ অনুষ্ঠানে নিজের বই নিয়ে আলোচনা করেন কবি হাসান হাফিজ, কবি শাহীন রেজা এবং কবি মাসুদুল হক। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে যথারীতি ছিল আবৃত্তি, কবিতাপাঠ ও সংগীত। আজ বৃহস্পতিবার মেলা শুরু হবে বেলা ২টায় এবং চলবে রাত ৯টা পর্যন্ত।

ঢাকায় স্বর্ণ ব্যবসায়ীকে গুলি, হাসপাতালে ভর্তি

‘লক্কড়ঝক্কড়’ বাস চললেই ধরবে ম্যাজিস্ট্রেট: ডিএমপি কমিশনার

হাদি হত্যা: মামলার তদন্ত প্রতিবেদন জমার তারিখ পিছিয়ে ২ এপ্রিল

রাজধানীতে স্কুলছাত্রের প্রাণ কেড়ে নিল পিকআপ

ঢাবি অধ্যাপক জামাল উদ্দিন গ্রেপ্তার

আইজিপির সঙ্গে এফবিআই প্রতিনিধিদলের সাক্ষাৎ

নিরাপদে ঈদ উদ্‌যাপন নিশ্চিত করতে আমরা প্রস্তুত: ডিএমপি কমিশনার

যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে অর্থ আত্মসাৎ, গ্রেপ্তার ২

তুরাগে গ্যাস লিকেজ বিস্ফোরণ, চলে গেলেন এবার রিয়া

আশুলিয়ায় মাদ্রাসা দখল ও চাঁদাবাজির অভিযোগে ট্রাস্টের সংবাদ সম্মেলন