পাওনা টাকা চাওয়ায় রাজধানীর পলাশী বাজারের মুরগি ব্যবসায়ী মোজাম্মেল মারধরের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত হলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সলিমুল্লাহ মুসলিম (এসএম) হল ছাত্রলীগের সহসভাপতি ও হল সংসদের সাবেক ভিপি কামাল উদ্দিন।
অভিযুক্ত কামালের কয়েকজন অনুসারী মোজাম্মেল নামের ওই ব্যবসায়ীকে মারধর করে। এ সময় ওই দোকানে ভাঙচুর ও ক্যাশ বাক্স থেকে ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা ছিনতাই করে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী মোজাম্মেল। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পরে এ ঘটনা ঘটেছে বলে জানা যায়।
ভুক্তভোগী মোজাম্মেল জানান, এসএম হল ছাত্রলীগের নেতা কামাল উদ্দিন ও মিলন হোসাইন (হল ছাত্রলীগের সহসভাপতি) প্রায়ই তার দোকান থেকে ‘ফাও’ মুরগি নিয়ে যেতো। তাদের কাছে বেশ কিছু টাকা পাওনা আছে। আজ সন্ধ্যার দিকে কামালের নাম বলে কয়েকজন তার কাছে মুরগি কিনতে আসে। তিনি তাদের কাছে কামালের আগের পাওনা টাকা চাইলে তারা ক্ষিপ্ত হয়। পরে আরও লোকজন নিয়ে এসে তাকে মারধর করে। এসময় মারধরকারীদের একজন তাকে পিস্তল দেখিয়ে ভয় দেখায় বলেও অভিযোগ করেন ওই ব্যবসায়ী।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, প্রথমে চারজন এসে ওই দোকানে মুরগি চায়। মুরগি না পেয়ে তারা লাঠিসোঁটাসহ ১০-১২ জন নিয়ে এসে ওই ব্যবসায়ীকে মারধর করে এবং দোকানে ভাঙচুর চালায়।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে কামাল উদ্দিন বলেন, ওই ব্যবসায়ী গাঁজার ব্যবসা করে-এমন খবর পেয়ে এসএম হলের কয়েকজন সাধারণ শিক্ষার্থী তাকে জিজ্ঞেস করতে গিয়েছিল। কিন্তু আমি তাদের থামিয়েছি। বলেছি, এটা তাদের কাজ নয়, এটা পুলিশ দেখবে। ওই দোকানদার তার কাছে কোনো টাকা পান না-দাবি করে কামাল বলেন, আমার কাছ থেকে কোন টাকা পায় না।
কামাল আরও বলেন, আমরা মানুষের জন্য কাজ করি। খাবার বিতরণ করি। আমরা কেনো 'ফাও' খাবো? ঘটনাস্থলে চকবাজার থানার উপপরিদর্শক মুস্তাফিজুর রহমানও উপস্থিত ছিলেন বলেন কামাল জানিয়েছেন।
অপর অভিযুক্ত মিলন হোসেন 'ফাও' খাওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করে বলেন, ' আমি আজকের ঘটনা সম্পর্কে কিছুই জানি না। তবে আমার বিরুদ্ধে যে ফাও খাওয়ার অভিযোগ সেটা শুনে আমি লজ্জা পাচ্ছি।' সামনে হল সম্মেলন তাই একটি গোষ্ঠী উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়ে অপপ্রচার চালাচ্ছে বলে পাল্টা অভিযোগ করেন মিলন।
এ বিষয়ে মুস্তাফিজুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, ছাত্রলীগের নেতা কর্মীদের সঙ্গে দোকানদারের ঘটে যাওয়া ঘটনা সম্পর্কে আমি কিছু জানি না। আমি যখন ছিলাম তখন দেখি পলাশী বাজারের কিছু ব্যবসায়ী ওই বাজার সমিতির সভাপতির বিরুদ্ধে মিছিল করে। তখন আমি তাদের জানাই, আপানারা এখানে মিছিল না করে সমাধান করুন অথবা থানায় অভিযোগ করুন। পরবর্তীতে তারা নিজেরা নিজেদের বিষয়ে কথা বলে সমস্যা সমাধান করে বলে জানান তিনি।
ঘটনার পর ছাত্রলীগ সভাপতি আল নাহিয়ান জয় আসলে পলাশী বাজারের একটি ব্যবসায়ী গ্রুপ তার (জয়) সঙ্গে যোগাযোগ করে বিষয়টি অবহিত করেন বলে জানা যায়।
তবে বিষয়টি সম্পর্কে একাধিকবার আল নাহিয়ান খান জয়ের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি কল ধরেননি।