হোম > সারা দেশ > ঢাকা

মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত

কথা বলতে চায় সামিয়া, কিন্তু পারছে না

অর্চি হক, ঢাকা 

মাইলস্টোন স্কুলের এই ভবনে আছড়ে পড়েছিল যুদ্ধবিমান। ভয়াবহ ওই দুর্ঘটনার পর পেরিয়ে গেছে চার দিন। এখনো ভিড় করছেন অনেকে। গতকাল সকালে রাজধানীর উত্তরার দিয়াবাড়িতে। ছবি: আজকের পত্রিকা

‘ওর বাবার চোখের সামনেই বিমানটা ভাইঙ্গা পড়ছে। নিচতলায় তখন শুধু আগুন। দোতলায় ধোঁয়া। দরজা বন্ধ। আর্মির সাথে মিল্লা দোতলার পিছনের গ্রিল ভাইঙ্গা উনি মেয়েটারে বাইর করছেন।’ বলছিলেন রাজধানীর উত্তরায় মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী সামিয়া আহমেদের মা শিউলি আক্তার।

গত সোমবার ওই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিমানবাহিনীর প্রশিক্ষণ যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনায় দগ্ধ হয়েছে সে। জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসা চলছে তার।

সামিয়ার বাবা আব্দুর রহিম জানান, প্রতিদিনের মতো সেদিনও বেলা ১টায় মেয়েকে আনতে স্কুলে গিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু ক্লাসের শিক্ষক তাঁকে বলেন, সামিয়ার অতিরিক্ত ক্লাস আছে।

ছুটি হতে ২টা বাজবে। মেয়েকে একসঙ্গে নিয়ে ফেরার জন্য তাই বাইরে অপেক্ষায় ছিলেন তিনি। সে সময়ই বিধ্বস্ত হয় বিমানটি।

স্কুলের হায়দার আলী ভবনের দোতলায় ছিল সামিয়ার ক্লাস। বিমান বিধ্বস্তের পরই সেখানে ছুটে যান বাবা আব্দুর রহিম। তখন সেখানে শুধু আগুন আর ধোঁয়া ৷ সঙ্গে আটকে পড়া শিশুদের চিৎকার ৷ দোতলার গেট বন্ধ থাকায় পেছনের গ্রিল ভাঙতে হয়, জানান আব্দুল রহিম। সেখানে তখন আরও প্রায় ৩০-৪০ শিশুকে দেখতে পান তিনি। সামিয়া ছাড়াও আরও তিন শিশুকে বের করে আনেন এই বাবা। ভয়াবহ সেই ঘটনার পর থেকে তিনি শারীরিক ও মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন বলে জানান সামিয়ার মা শিউলি আক্তার।

সামিয়া বর্তমানে বার্ন ইনস্টিটিউটের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন রয়েছে। তার শরীরের ২৫ শতাংশ পুড়ে গেছে। শ্বাসনালি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় স্বাভাবিকভাবে নিশ্বাস নিতে পারছে না সে। সামিয়ার মা বলেন, ‘ও কথা বলতে চায়, কিন্তু পারে না। মুখ ফুইলা গেছে। হাতের চামড়া পোড়া।’

শিউলি আক্তার জানান, আইসিইউর ভেতরে চারদিকে ব্যান্ডেজে মোড়া দগ্ধ শিশু আর নিস্তব্ধতা। এমন পরিবেশে ভয় পাচ্ছে সামিয়া। হাসপাতালে থাকতে চাচ্ছে না সে। অস্ফুট স্বরে সে বাসায় নিয়ে যাওয়ার কথা বলতে চায়।

সামিয়ার বাবা আব্দুর রহিম ব্যবসায়ী। আর মা শিউলি আক্তার গৃহিণী। সামিয়া ছাড়াও এই দম্পতির দুটি সন্তান রয়েছে। আইসিইউতে মেয়ের পাশে বেশিক্ষণ থাকতে পারেন না মা শিউলি। সারা দিন বাইরে বসে অপেক্ষা করেন। স্বামী-স্ত্রী পালা করে থাকেন হাসপাতালে। রাত হলে বাসায় যান শিউলি। কারণ, তাঁর ছোট ছেলের বয়স মাত্র তিন বছর। রাতে মাকে ছাড়া থাকতে পারে না সে। আর বড় ছেলে দশম শ্রেণিতে পড়ছে। সেও মাইলস্টোনের শিক্ষার্থী।

শিউলি আক্তার জানান, বড় ছেলের পরীক্ষা চলছিল, তাই সে ওই দিন স্কুল ছুটির পরই বাসায় চলে আসে। পরীক্ষা না থাকলে কোচিং করে স্কুল থেকে বের হতো সে। সে ক্ষেত্রে বড় ছেলেরও ভয়াবহ কিছু ঘটতে পারত।

সামিয়ার ক্লাসের বন্ধুরাও হতাহত হয়েছে বলে দীর্ঘশ্বাস ছাড়েন মা শিউলি। তিনি বলেন, ‘কত মায়ের বুক খালি হইল। আগুনে পুইড়া কত কষ্ট পাইল বাচ্চাগুলা।’ সেই দিনের পর থেকে একটাই প্রার্থনা তাঁর, হাসপাতালে থাকা সব শিশু সুস্থ হয়ে হাসিমুখে বাড়ি ফিরুক।

শীর্ষ সন্ত্রাসীদের অন্তঃকোন্দলে টিটন হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে: পুলিশ

নিউমার্কেট এলাকায় গুলিতে নিহত ব্যক্তি শীর্ষ সন্ত্রাসী ইমনের সহযোগী টিটন

তারিক সিদ্দিকের গাড়িচালক-কেয়ারটেকার তৃতীয় দফায় ফের ৩ দিনের রিমান্ডে

থানায় ডাকসু নেতাদের ওপর হামলার ঘটনায় মামলা নিতে নোটিশ

ব্যাটারিচালিত রিকশা ও ফুটপাত নিয়ে সরকার নীতিমালা করছে: ডিএসসিসি প্রশাসক

নিউমার্কেট এলাকায় দুর্বৃত্তের গুলিতে এক ব্যক্তি নিহত

বিচার বিভাগের বরাদ্দ বাড়ানো জরুরি: আইনমন্ত্রী

ট্রাকচালক হোসেন হত্যা মামলা: শেখ হাসিনাসহ ৩৪ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন বিষয়ে শুনানি ২১ মে

রাজধানীতে দেশি-বিদেশি অস্ত্র ও মাদকসহ গ্রেপ্তার ৫

আইনের শাসনের স্বার্থে সাংবাদিকদের কোর্টে প্রবেশাধিকার দিতে হবে, আইনজীবীদের বিক্ষোভ