অনলাইন জুয়ার মাধ্যমে প্রতারণমূলকভাবে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎ করে পাচারের অভিযোগে গ্রেপ্তার পাঁচ চীনা নাগরিককে ফের ২ দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া আরও এক চীনা নাগরিকসহ ৩ জনকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। আজ শনিবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট রৌনক জাহান তাকি রিমান্ড ও কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
রিমান্ডে নেওয়া চীনা নাগরিকেরা হলেন—এমএ জি (৩৩), ঝাং জিয়াহাও (২২), লিও জিঞ্জি (৩২), ওয়াং শিবো (২৪), জেমস ঝু (৪৩)। কারাগারে পাঠানো তিনজন হলেন– চাং তিয়ানতিয়ান (২৯), মো. কাউসার হোসেন (২৪) ও মো. আব্দুল কারিম (২৮)।
দুই দিনের রিমান্ড শেষে ৮ আসামিকে আদালতে হাজির করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিএমপি ডিবির সাইবার টিম দক্ষিণের এসআই মো. রাশেদুল ইসলাম। এ সময় চাং তিয়ানতিয়ান, মো. কাউসার হোসেন ও মো. আব্দুল কারিমকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন তিনি। তবে অপর পাঁচ আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আরও ৩ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন এই তদন্ত কর্মকর্তা।
অন্যদিকে প্রত্যেক আসামির জামিনের আবেদন করেন তাদের আইনজীবীরা। শুনানি শেষে আদালত জামিনের আবেদন নামঞ্জুর করেন এবং পাঁচ চীনা নাগরিককে দুই দিন করে রিমান্ডে দেওয়ার নির্দেশ দেন।
গত ১৪ মে এই আটজনকে দুই দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়। আর রোকন উদ্দিন নামে একজনকে কারা ফটকে জিজ্ঞাসাবাদ করার নির্দেশ দেওয়া হয়।
এর আগে ১৩ মে রাজধানীর উত্তরা ও তুরাগ এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৯ জনকে আটক করে ডিবি পুলিশ। এ ঘটনায় ডিবির সাইবার টিমের এসআই সুব্রত দাশ বাদী হয়ে রমনা মডেল থানায় মামলা করেন।
মামলায় বলা হয়, নিয়মিত সাইবার নজরদারির সময় ফেসবুক, ইউটিউব, টেলিগ্রাম গ্রুপ ও বিভিন্ন ভুয়া ওয়েবসাইটের মাধ্যমে অনলাইন জুয়ার প্রচারণা এবং অবৈধ লেনদেনের তথ্য পাওয়া যায়।
চক্রটি বিকাশ ও নগদের মতো মোবাইল আর্থিক সেবার মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে দ্রুত লাভের প্রলোভন দেখিয়ে অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছিল। পরে উত্তরা ১৩ নম্বর সেক্টর ও তুরাগ এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।
অভিযানে তিনটি ৬৪-পোর্ট বিশিষ্ট, একটি ২৫৬-পোর্ট বিশিষ্ট এবং একটি ৮-পোর্ট বিশিষ্ট জিএসএম সিম মডিউল বা ভিওআইপি গেটওয়ে, প্রায় ২৮০টি সিম কার্ড, একাধিক ল্যাপটপ ও স্মার্টফোন জব্দ করা হয়।