কুমিল্লা-৪ (দেবিদ্বার) আসনে ঋণখেলাপির দায়ে মনোনয়ন বাতিল হওয়া বিএনপির সদ্য সাবেক নেতা ইঞ্জিনিয়ার মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দিয়েছে নির্বাচনী অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটি। নির্বাচনকে সামনে রেখে ভোটারদের ভয়ভীতি প্রদর্শন ও ঘরবাড়ি পুড়িয়ে দেওয়ার হুমকির অভিযোগে তাঁকে এই নোটিশ দেওয়া হয়। গতকাল মঙ্গলবার সিনিয়র সিভিল জজ ও নির্বাচনী অনুসন্ধান কমিটির প্রধান তাফরিমা তাবাসুম স্বাক্ষরিত নোটিশে তাঁকে আজ বুধবার বেলা ২টা ৩০ মিনিটের মধ্যে সশরীরে হাজির হয়ে লিখিত ব্যাখ্যা দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ে উপস্থিত হয়ে সন্তোষজনক জবাব দিতে ব্যর্থ হলে তাঁর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।
নোটিশ সূত্রে জানা যায়, দেবিদ্বার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে ১০ ফেব্রুয়ারি একটি লিখিত অভিযোগ নির্বাচনী অনুসন্ধান কমিটির কাছে পাঠানো হয়। অভিযোগে বলা হয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে ইঞ্জিনিয়ার মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী ভোটারদের উদ্দেশে হুমকিমূলক বক্তব্য প্রদান করেছেন, যা নির্বাচনী আচরণবিধির পরিপন্থী।
ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে তাঁকে বলতে শোনা যায়, ক্ষমতায় থাকলে অন্য প্রার্থীকে ভোট দিলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না এবং ঘরবাড়ি পুড়িয়ে দেওয়ার মতো কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি তিনি নির্দিষ্ট প্রতীকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান। তাঁর এই বক্তব্য রেকর্ড করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
অভিযোগে বলা হয়েছে, এ ধরনের বক্তব্য সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা, ২০২৫-এর বিধি ১৫-এর সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। হুমকি ও ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ভোটারদের প্রভাবিত করার চেষ্টা স্বাধীন ও নিরপেক্ষ ভোটাধিকার প্রয়োগে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করতে পারে, যা গণতান্ত্রিক নির্বাচনী পরিবেশের জন্য উদ্বেগজনক।
এ ছাড়া সংশ্লিষ্ট একটি জাতীয় দৈনিকের অনলাইন সংস্করণ পর্যালোচনায় দেখা গেছে, একই দিনে তিনি একটি উঠান বৈঠক ও সমাবেশে অংশ নিয়ে প্রকাশ্যে ভোট প্রার্থনা করেন। বিষয়টি আচরণ বিধিমালা, ২০২৫-এর বিধি ৬ ও ১৫ লঙ্ঘনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হতে পারে বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।
নোটিশে জানতে চাওয়া হয়েছে—কেন তাঁর বিরুদ্ধে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা, ২০২৫-এর বিধি ৬ ও ১৫ লঙ্ঘনের দায়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না এবং বিধি ২৭ অনুযায়ী আইনানুগ পদক্ষেপ নেওয়া হবে না। এ বিষয়ে লিখিত ব্যাখ্যা দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এদিকে দেবিদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) নোটিশটি যথাযথভাবে জারি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পদাতিকের মাধ্যমে সরাসরি তামিলের পাশাপাশি মোবাইল ফোন, ই-মেইল, হোয়াটসঅ্যাপ ও মেসেঞ্জারসহ ভার্চুয়াল মাধ্যমেও নোটিশ পৌঁছে দিয়ে দ্রুত প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে।
নোটিশের সঙ্গে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার প্রেরিত লিখিত অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট অনলাইন সংবাদ প্রতিবেদন এবং ভাইরাল ভিডিওর স্ক্রিনশট সংযুক্ত করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
নির্বাচন-সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, নির্বাচনী পরিবেশ শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠু রাখতে আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করা হচ্ছে এবং প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।