কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের সামুকসার এলাকায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশ থেকে দিনদুপুরে মাটি কেটে নেওয়ায় সৃষ্টি হয়েছে বিশাল গর্ত। এতে ঝুঁকিতে পড়েছে মহাসড়কের ওই অংশ এবং জাতীয় গ্রিডের বিদ্যুৎ সঞ্চালন টাওয়ার। ইতিমধ্যে হেলে পড়েছে কয়েকটি বিদ্যুতের খুঁটি ও একটি টাওয়ার। তবে এমন পরিস্থিতির পরও বিদ্যুৎ, সড়ক ও জনপথ এবং কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। তাঁদের দাবি, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের যোগসাজশেই চলছে এই মাটি কাটা।
সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার সামুকসার এলাকায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ঢাকামুখী লেনে দুর্বৃত্তরা সড়ক ও জনপথের বিশাল এলাকায় বেড়া দিয়ে আড়াল করে দিনরাত একাধিক ভেকু ও ডাম্প ট্রাকের মাধ্যমে প্রায় ৫০ থেকে ৬০ ফুট গভীর করে মাটি কেটে নিয়ে গেছে। এর ফলে পল্লী বিদ্যুতের ৩৩ হাজার ভোল্টেজের পাঁচটি খুঁটি ও জাতীয় পাওয়ার গ্রিডের একটি টাওয়ার ব্যাপক ঝুঁকিতে রয়েছে। এরই মধ্যে কয়েকটি খুঁটি হেলে পড়েছে। যেকোনো মুহূর্তে ধসে পড়তে পারে মহাসড়কের ওই অংশ।
স্থানীয়রা জানান, সদর দক্ষিণ উপজেলার সুয়াগাজী এলাকার সুবর্ণপুর গ্রামের বাহাদুর নামের এক মাটি ব্যবসায়ী বড় সিন্ডিকেট করে ডাম্প ট্রাক ও ভেকুর সাহায্যে মাটি কেটে অন্যত্র বিক্রি করেছেন। তাঁর নিজস্ব একটি ক্যাডার বাহিনী অস্ত্রসহ মহড়া দেওয়ায় ভয়ে প্রতিবাদ করতে সাহস পাননি স্থানীয়রা।
উজিরপুর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আবদুল হাই অভিযোগ করে বলেন, ‘উজিরপুর ইউনিয়নে মাটি কাটা প্রতিরোধ কমিটি থাকলেও তা শুধু কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ রয়েছে। যাদের প্রতিরোধ করার কথা, তারাই এটা প্রশ্রয় দিয়েছে। সুয়াগাজী এলাকার বাহাদুর নামের এক ব্যক্তি শক্তিশালী সিন্ডিকেট ও সশস্ত্র বাহিনী দিয়ে এই মাটি কেটে নিয়ে গেছেন। বিদ্যুৎ, সড়ক ও জনপথ ও কৃষি বিভাগ এই বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ নেয়নি।’
পল্লী বিদ্যুৎ কুমিল্লার পদুয়ার বাজার সদর দপ্তরের জেনারেল ম্যানেজার দিলীপ চৌধুরী বলেন, সামুকসার এলাকায় মাটি কাটার কারণে পল্লী বিদ্যুতের সঞ্চালন লাইনের পাঁচটি খুঁটি ঝুঁকিতে পড়েছে। ইতিমধ্যে একটি খুঁটি অনেকটা হেলে পড়েছে। এই বিষয়ে চৌদ্দগ্রামের ডিজিএমকে মামলা করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
পাওয়ার গ্রিড কুমিল্লা অঞ্চলের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জসিম উদ্দিন বলেন, সামুসকার এলাকায় জাতীয় পাওয়ার গ্রিডের একটি টাওয়ারের চারপাশ থেকে মাটি কেটে নেওয়ায় সেটি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। এই ঘটনায় সহকারী প্রকৌশলী ফারুক আহমেদ পাটোয়ারীকে বাদী হয়ে মামলা করতে বলা হয়েছে।
ফারুক আহমেদ পাটোয়ারী বলেন, ‘আমি মাটি কাটার ঘটনায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের বিবাদী করে থানায় অভিযোগ নিয়ে গিয়েছিলাম। অভিযোগে আসামির নাম না থাকায় ওসি মামলা নিতে অপারগতা প্রকাশ করে আমাকে ফেরত পাঠান।’
চৌদ্দগ্রাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফ হোছাইন বলেন, ‘প্রথমে আসামিদের নাম উল্লেখ করে একজন একটি অভিযোগ নিয়ে এসেছিলেন। কিন্তু হুট করে তিনি আবার আসামিদের নাম বাদ দিয়ে অজ্ঞাতনামাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দিতে চেয়েছিলেন। কিন্তু আমি তাঁকে আসামিদের নাম দিয়ে অভিযোগ দেওয়ার পরামর্শ দিলে তিনি সংশোধন করে আসতেছি বলে চলে যান।’
সওজের কুমিল্লা অঞ্চলের নির্বাহী প্রকৌশলী খন্দকার গোলাম মোস্তফা বলেন, মাটি কেটে নিয়ে যাওয়া জায়গাগুলো সড়ক ও জনপথের। কিন্তু বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে জাতীয় পাওয়ার গ্রিডের টাওয়ার ও পল্লী বিদ্যুতের সঞ্চালন লাইনের খুঁটি। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য চৌদ্দগ্রাম থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত বাহাদুর মুঠোফোনে বলেন, ‘আমরা সওজের জায়গা থেকে কোনো মাটি কাটিনি। কিন্তু মহাসড়ক থেকে ৩০০ ফুট দূরে ব্যক্তিমালিকানার জায়গার মাটি কিনে সেগুলো সওজের জায়গার রাস্তা ব্যবহার করে অন্যত্র বিক্রি করেছি।’