চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় পাম্প থেকে মোটরসাইকেলে জ্বালানি তেল সংগ্রহকালে এক পুলিশ সদস্যকে ৫০০ টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ ঘটনায় পুলিশ সদস্যদের মনে বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করে বিবৃতি দিয়েছে জেলা পুলিশ।
জানা যায়, শুক্রবার আলমডাঙ্গা থানায় কর্মরত এক পুলিশ সদস্য ইউনিফর্ম ও হেলমেট পরিহিত অবস্থায় স্থানীয় একটি তেলের পাম্পে জ্বালানি নিতে গেলে তাঁকে জরিমানা করেন জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শাকিল মো. ছফিউল্লাহ।
পরে চুয়াডাঙ্গা জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) ও মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স অফিসার জামাল আল নাসের স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে বলা হয়, গতকাল বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) বেলা ১১টার দিকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ওই পুলিশ সদস্যকে জরিমানা করা হয়। অথচ এর আগে ২৯ মার্চ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে জ্বালানি তেল-সংক্রান্ত এক সভায় সিদ্ধান্ত হয়েছিল, জরুরি সেবায় নিয়োজিত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, ফায়ার সার্ভিস, সিভিল প্রশাসন ও সাংবাদিকেরা বিকল্প লাইনে তেল সংগ্রহ করতে পারবেন।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ওই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী চুয়াডাঙ্গা জেলার বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে সিভিল প্রশাসন, পুলিশ, সাংবাদিক ও ফায়ার সার্ভিসসহ জরুরি কাজে নিয়োজিত সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এত দিন বিকল্প লাইন থেকে তেল সংগ্রহ করে আসছিলেন।
জেলা পুলিশের বিবৃতিতে বলা হয়, বাংলাদেশ পুলিশ একটি সুশৃঙ্খল বাহিনী হিসেবে সব সময় জনগণের নিরাপত্তা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও জনসেবায় নিয়োজিত। বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের মধ্যে তেলের সুষম বণ্টন নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় রেখে কাজ করছে পুলিশ। এ অবস্থায় জরুরি সেবায় নিয়োজিত একজন পুলিশ সদস্যকে জরিমানা করা হলে তা বাহিনীর সদস্যদের মনোবলে বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে এবং জনসেবায় নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হতে পারে।
ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে সংশ্লিষ্ট সব কর্তৃপক্ষের মধ্যে যথাযথ সমন্বয়, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, দায়িত্বশীল আচরণ ও সহযোগিতা কামনা করেছে জেলা পুলিশ।
এ বিষয়ে জানতে চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহারের মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, তিনি ছুটিতে ঢাকায় আছেন। এ বিষয়ে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের সঙ্গে কথা বলতে বলেন।
অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বি এম তারিক-উজ-জামান বলেন, ‘ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে কী ধরনের অভিযোগ উঠেছিল, সেটি ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিষয়। তিনি অর্ডার শিটে বিষয়টি উল্লেখ করবেন। আমার কাছে এখনো অর্ডার শিটটি পৌঁছায়নি। জেলা পুলিশের দেওয়া বিবৃতির বিষয়টিও আমরা পর্যবেক্ষণ করছি।’