চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে ফণী খালের পাড় কেটে মাটি বিক্রির ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য সরোয়ার আলমগীর। আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে উপজেলার সুয়াবিল ইউনিয়নের শোভনছড়ি ভাঙাপুল এলাকায় ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন তিনি।
ঘটনাস্থলে খালের পাড় কেটে মাটি বিক্রির দৃশ্য দেখে বিস্ময় প্রকাশ করেন সরোয়ার আলমগীর। পরে সেখান থেকেই ফটিকছড়ি উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রহমত উল্লাহ ও ভূজপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বিপুল চন্দ্র দেকে ফোন করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন তিনি।
সরোয়ার আলমগীর বলেন, ‘জড়িতদের বিরুদ্ধে মামলা করে দেন, শাস্তি দিয়ে দেন। এতে আর কেউ এমন কাজ করার সাহস পাবে না। মানুষের বাড়িঘরের ভিটার মাটি পর্যন্ত কেটে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে—এত বড় সাহস!’
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সুয়াবিল ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ভাঙাপুল গ্রামের হামিদ মেম্বারবাড়ির সামনে ফণী খালের পাড় কেটে মাটি বিক্রি করা হচ্ছে। স্থানীয় মালেক মেম্বার ও রুবেলসহ কয়েকজন এ কাজে জড়িত রয়েছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দিন-রাত জিপে করে খালের পাড়ের মাটি কেটে বিভিন্ন কৃষিজমি ও বসতভিটা ভরাটের কাজে বিক্রি করা হচ্ছে। এতে খালের পাড় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি ঝুঁকিতে পড়েছে তীরবর্তী বসতবাড়ি ও কৃষিজমি।
স্থানীয়দের আশঙ্কা, এভাবে পাড় কাটা অব্যাহত থাকলে বর্ষা মৌসুমে খালের ভাঙনে ঘরবাড়ি ও ফসলি জমি বিলীন হতে পারে।
ভুক্তভোগী লিলু আক্তার বলেন, ‘গত কয়েক দিন ধরে জোর করে খালের পাড় কেটে মাটি নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। বাধা দিতে গেলে বিভিন্ন ধরনের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। পাড় কাটার কারণে যেকোনো সময় আমার ঘরটা ধসে খালে বিলীন হয়ে যেতে পারে। ভয়ে প্রতিবাদও করতে পারছি না।’
ফটিকছড়ি উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রহমত উল্লাহ বলেন, ‘রাষ্ট্রীয় সম্পদ বিনষ্টকারীদের ছাড় দেওয়া হবে না। সংসদ সদস্য ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। ইতিমধ্যে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ব্যবস্থা নেওয়ার কাজ শুরু হয়েছে। অবৈধভাবে মাটি কাটায় ব্যবহৃত একটি গাড়ি আটক করা হয়েছে। মূল অভিযুক্ত ও জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।’