চট্টগ্রামের পটিয়ায় গভীর রাতে চায়নিজ কুড়াল দিয়ে কুপিয়ে এক ভিডিওগ্রাফারসহ দুই যুবককে গুরুতর আহত করেছে ছিনতাইকারীরা। আহত যুবকেরা হলেন চন্দনাইশ উপজেলার মহাজনঘাটা এলাকার বিজন দাশের ছেলে রনি দাশ (৩০) ও পটিয়া উপজেলার শোভনদণ্ডী রশিদাবাদ এলাকার মো. তানভীর (২৯)।
গতকাল বুধবার দিবাগত রাত ২টার দিকে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার আরাকান সড়কের পটিয়া উপজেলার গৈড়লার টেক এলাকায় এ ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে। পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় দুজনকে পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
স্থানীয় ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা গেছে, গতকাল রাতে চন্দনাইশের একটি অনুষ্ঠান শেষ করে ভিডিওগ্রাফার রনি দাশ ও তাঁর সহযোগীরা মোটরসাইকেলযোগে চট্টগ্রাম শহর থেকে বাড়ি ফিরছিলেন। পথিমধ্যে তাঁরা চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের পটিয়ার গৈড়লার টেক এলাকায় পৌঁছালে ওত পেতে থাকা একদল ছিনতাইকারী তাঁদের গতি রোধ করে। কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই ছিনতাইকারীরা চায়নিজ কুড়াল দিয়ে রনির শরীরে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকে। একই সময় তানভীরকেও হকিস্টিক দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর জখম করে।
এ সময় পেছনের অন্য একটি মোটরসাইকেলে থাকা রনির বন্ধুরা এগিয়ে এলে ছিনতাইকারীরা রনির সঙ্গে থাকা ভিডিও ক্যামেরা, মোবাইল ফোন, মোটরসাইকেল, নগদ টাকাসহ প্রায় ৭ লাখ টাকার মালামাল ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায়। পরে বন্ধুরা রক্তাক্ত অবস্থায় তাঁদের উদ্ধার করে প্রথমে পটিয়া হাসপাতাল ও পরে চমেক হাসপাতালে নিয়ে যায়।
আহত রনির ছোট ভাই ইমন দাশ জানান, তাঁর ভাই অনুষ্ঠান শেষ করে বাড়ি ফেরার পথে হঠাৎ চার-পাঁচজন ছিনতাইকারী দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে। চিৎকার করারও সুযোগ দেয়নি। কুড়াল দিয়ে কোপ মারার পর তাঁর ভাই মাটিতে পড়ে যান। এরপর ছিনতাইকারীরা মোটরসাইকেল, টাকা, ভিডিও ক্যামেরাসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম নিয়ে যায়। রাতে ঘটনাটি পুলিশকে জানানো হয়।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে পটিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিয়াউল হক বলেন, ‘এটা নিয়ে আমাদের টিম কাজ করছে। যদিও এ বিষয়ে লিখিত কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’