হোম > সারা দেশ > চট্টগ্রাম

আনোয়ারায় টানা বৃষ্টিতে খাল খননের মাটি ও পানি ঢুকছে ঘরে, ভোগান্তি

কর্ণফুলী (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি 

পানিবন্দী হয়ে পড়েছে এলাকা। ছবি: আজকের পত্রিকা

টানা কয়েক দিনের টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে ভোগান্তিতে পড়েছে চট্টগ্রামের আনোয়ারার বিভিন্ন ইউনিয়নের প্রায় ১০ হাজার পরিবার। বিশেষ করে এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে উপজেলার কান্দরিয়া খালপাড়ের বাসিন্দারা বেশি ভোগান্তি পোহাচ্ছেন। খাল পুনঃখননের পর অপরিকল্পিতভাবে স্তূপ করে রাখা খননের মাটি ধুয়ে কাদাপানি মানুষের বাড়িঘরে ঢুকে পড়ছে।

গত মঙ্গলবার বিকেলে সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার বৈরাগ আমানউল্লাহ পাড়া থেকে শুরু করে চাতরীর টানেল মোড় পর্যন্ত কূল ঘেঁষে বয়ে গেছে। বৃষ্টিতে খাল খননের মাটি ও পানি একাকার হয়ে গেছে। এসব কাদাপানি মানুষের বসতবাড়িতে ঢুকে পড়েছে। সেখানে অন্তত ৫০০ পরিবার পুরোপুরি পানিবন্দী হয়ে পড়েছে।

স্থানীয় লোকজন জানায়, সাম্প্রতিক সময়ে এলাকার পানি নিষ্কাশনের জন্য কান্দরিয়া খাল পুনঃখনন করা হয়। কিন্তু নিয়ম মেনে খালের মাটি দূরে না সরিয়ে, খালের পাড় ও সড়কে স্তূপ করে রাখা হয়েছিল। গত কয়েক দিনের টানা মুষলধারে বৃষ্টির কারণে পাড়ে জমে থাকা সেই মাটি ধুয়ে এবং খালের উপচে পড়া নোংরা পানি লোকালয়ে ছড়িয়ে পড়ছে। পানির তোড়ে মাটি গলে কাদায় সয়লাব হয়ে গেছে। অনেক কাঁচা ও পাকা ঘরের ভেতরে হাঁটু পর্যন্ত কাদাপানি প্রবেশ করেছে। এতে ঘরের আসবাব ও খাদ্যসামগ্রী নষ্ট হচ্ছে। বিশেষ করে রান্নার চুলা তলিয়ে যাওয়ায় অনেক পরিবারে দুই দিন ধরে রান্না বন্ধ রয়েছে।

ভুক্তভোগী স্থানীয় বাসিন্দা মোহাম্মদ মুবিন, মোহাম্মদ হৃদয়, নুরুল হক, পারভেজ, আমিনুল হক, মোহাম্মদ হাকিম, তৌকির উদ্দিন হৃদয়, রায়হান, মোহাম্মদ সোহেলসহ একাধিক বাসিন্দা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘খাল খনন করা হয়েছিল আমাদের উপকারের জন্য। কিন্তু মাটিগুলো সড়কে রেখে দেওয়ায় এখন তা আমাদের গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। টানা বৃষ্টি আর পাহাড়ি ঢলে সব মাটি ধুয়ে আমাদের ঘরের ভেতর ঢুকে পড়েছে। এখন ঘরে থাকার কোনো পরিবেশ নেই।’

বাসিন্দারা জানান, তাঁরা ঘরবন্দী নারী, শিশু ও বৃদ্ধদের নিয়ে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন। রান্নাঘরে পানি জমে থাকায় অন্যের বাড়িতে গিয়ে রান্না করতে হচ্ছে অনেক পরিবারকে। খাল খননের মাটি সড়কে রাখার সময় স্থানীয় লোকজন বাধা দিলেও ঠিকাদার ও নিয়োজিত ব্যক্তিরা শোনেননি।

স্থানীয় বাসিন্দা মো. ইকবাল বাহার বলেন, অপরিকল্পিত প্রকল্প ও ঠিকাদারদের স্বেচ্ছাচারিতা এবং অর্থের বিনিময়ে কোথাও সরু, আবার কোথাও প্রশস্ত করে খাল কাটা হয়েছে। টানেল মোড় থেকে পাঁচ সিকদার বাড়ি কালভার্ট পর্যন্ত নামমাত্র খাল খনন করেছে। ঠিকাদার এলাকার সাধারণ মানুষের কাছ থেকে টাকা নিয়ে খালের ভেতর গড়ে ওঠা স্থাপনা ও গাছপালা অপসারণ না করে কেবল খাল থেকে অল্প কাদা তুলে সড়কে স্তূপ করে রাখেন। সড়কে স্তূপ করে রাখা এসব কাদামাটি বৃষ্টি আর পাহাড়ি ঢলে এখন সবার ঘরের মধ্যে ঢুকে পড়েছে। পানিবন্দী সুজারপাড়া, আলী মিয়া সওদাগর বাড়ি, আমিনুর বাড়ি, আবুল বশর ডাক্তারের বাড়ি, পাঁচ সিকদার বাড়ি, কাজী বাড়িসহ বেশ কয়েকটি গ্রাম।

এ বিষয়ে জানতে কান্দরিয়া খালটি পুনঃখনন প্রকল্পের সভাপতি বৈরাগ ইউনিয়নের ৭, ৮ ও ৯ নম্বরের মহিলা ইউপি সদস্য বুলবুল আকতারের সঙ্গে মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও কোনো সাড়া মেলেনি। এ বিষয়ে বৈরাগ ইউনিয়ন পরিষদের সচিব কাজী মানছুর আহমেদও কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

আনোয়ারা উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) উমা খান কাফি বলেন, ‘ভারী বৃষ্টির কারণে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে যোগাযোগ ও বিদ্যুৎ ব্যবস্থার বিপর্যয় ঘটেছে। বিভিন্ন স্থানে সড়কও ডুবে গেছে। আজ বুধবার উপজেলার বিভিন্ন স্থানে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলো সরেজমিনে পরিদর্শন করা হয়েছে এবং তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

রেললাইনে পানি ওঠায় চবির শাটল ট্রেন চলাচল বন্ধ

ফ্লাইওভারে ট্রাকের পেছনে মোটরসাইকেলের ধাক্কা, এনসিপি নেতা নিহত

ওমানে বিদ্যুতায়িত হয়ে প্রবাসী বাংলাদেশির মৃত্যু

সাতকানিয়ায় তলিয়েছে রাস্তাঘাট, পানিবন্দী মানুষ

চট্টগ্রামে পাহাড় ধসে প্রাণ গেল কিশোরীর

কর্ণফুলী টানেলে প্রাইভেট কারের ধাক্কা, দেয়ালের বোর্ড ক্ষতিগ্রস্ত

জঙ্গল সলিমপুরে পাহাড়ধস, মাটিচাপা পড়ে ১০ মাসের শিশুর মৃত্যু

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ ঘোষণা

টানা বর্ষণে জলমগ্ন চট্টগ্রাম, কক্সবাজারগামী ‘পর্যটক এক্সপ্রেস’ ট্রেনের যাত্রা বাতিল

৪৩ বছরের সর্বোচ্চ বৃষ্টিতে জলাবদ্ধ চট্টগ্রাম, বাড়ছে বন্যা-ভূমিধসের শঙ্কা