হোম > সারা দেশ > চট্টগ্রাম

শিক্ষককে হেনস্তার পর টেনেহিঁচড়ে প্রক্টর অফিসে নিয়ে গেলেন চাকসুর শিবির নেতারা

চবি প্রতিনিধি 

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) আইন বিভাগের শিক্ষক হাসান মুহাম্মদ রোমান শুভকে হেনস্তার পর টেনেহিঁচড়ে প্রক্টর অফিসে নিয়ে গেছেন চাকসু নেতারা। ছবি: সংগৃহিত

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) আইন বিভাগের শিক্ষক হাসান মুহাম্মদ রোমান শুভকে হেনস্তার পর টেনেহিঁচড়ে প্রক্টর অফিসে নিয়ে গেছেন চাকসু নেতারা। শিবির-সমর্থিত প্যানেলের আইন সম্পাদক ফজলে রাব্বি তাওহীদ ও দপ্তর সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল নোমান এর নেতৃত্বে ছিলেন। আজ শনিবার (১০ জানুয়ারি) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা চলাকালে এই ঘটনা ঘটে।

জানা গেছে, ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের কলা ও মানববিদ্যা অনুষদভুক্ত বি ইউনিটের প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষায় আইন অনুষদের দায়িত্বে ছিলেন আইন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক হাসান মুহাম্মদ রোমান শুভ। ক্যাম্পাসে তাঁর উপস্থিতির খবর পেয়ে একদল শিক্ষার্থীসহ চাকসু নেতারা আইন অনুষদে হানা দেন।

শিক্ষার্থীদের দাবি, রোমান শুভর ২০২৪ সালের সরকারবিরোধী আন্দোলনে ‘গণহত্যা’য় সমর্থন এবং ফ্যাসিবাদী শক্তির দোসর হিসেবে কাজ করেছেন। তাঁর বিরুদ্ধে বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে তিনটি পৃথক তদন্ত চলমান।

চাকসুর আইনবিষয়ক সম্পাদক শিবির নেতা ফজলে রাব্বি তাওহীদ বলেন, ‘জুলাই আন্দোলনের সময় সংঘটিত গণহত্যার সঙ্গে সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে রোমান শুভর বিরুদ্ধে। আওয়ামী শাসনামলে সহকারী প্রক্টর হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি গণতান্ত্রিক আন্দোলনে যুক্ত শিক্ষার্থীদের ‘জঙ্গি’ আখ্যা দিয়ে মামলা করেন। আইন অনুষদের শিক্ষার্থী জুবায়েরের বিরুদ্ধে এমন মামলার একটি দৃষ্টান্ত তিনি উল্লেখ করেন।

ফজলে রাব্বি আরও বলেন, অভিযুক্ত শিক্ষক ছাত্রলীগকে সরাসরি সহায়তা দিতেন এবং বিভিন্ন সহিংস কর্মকাণ্ডে দিকনির্দেশনা দিতেন। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় ‘গণহত্যা’র অভিযোগে তিনি দীর্ঘদিন আত্মগোপনে ছিলেন। তদন্ত চলমান থাকা অবস্থায় ভর্তি পরীক্ষায় দায়িত্ব পেয়ে ক্যাম্পাসে আসায় শিক্ষার্থীরা প্রশ্ন করলে তিনি পালানোর চেষ্টা করেন।

আটকের বিষয়ে অভিযুক্ত শিক্ষক হাসান মুহাম্মদ রোমান শুভ বলেন, ‘আমি কোনো মৌন মিছিলে অংশ নিইনি। কেউ তা প্রমাণ করতে পারলে আমি যেকোনো শাস্তি মাথা পেতে নেব। আমি একজন আইনের শিক্ষক। জুলাই আন্দোলনে আমি কোথাও অংশ নিইনি।’

CU-Teacher-Shibir-Assault

শিক্ষার্থী বহিষ্কারের অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমি কীভাবে শিক্ষার্থীদের বহিষ্কার করব? আমি বোর্ড অব রেসিডেন্সের সদস্য ছিলাম না। আমি কোনো অপরাধের সঙ্গে জড়িত নই।’

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর হোসেন শহীদ সরওয়ার্দী বলেন, একজন শিক্ষককে প্রক্টর অফিসে আনা হচ্ছে বলে খবর পাওয়ার পর বিষয়টি তিনি জানতে পারেন।

প্রক্টর বলেন, অভিযুক্ত শিক্ষক আগে সহকারী প্রক্টরের দায়িত্বে ছিলেন এবং নীল দলের সক্রিয় সদস্য ছিলেন। পতিত আওয়ামী সরকারের সময় তিনি ফ্যাসিবাদী শক্তির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন—এ বিষয়টি অস্বীকার করার সুযোগ নেই। তাঁর বিরুদ্ধে জুলাই গণহত্যায় সম্পৃক্ততার অভিযোগ তদন্তাধীন। তবে শিক্ষক যদি আগে থেকেই নিরাপত্তা নিয়ে প্রশাসনকে অবহিত করতেন, তাহলে তাঁর মর্যাদা ক্ষুণ্ন হওয়ার পরিস্থিতি এড়ানো যেত।

প্রক্টরের ভাষ্য অনুযায়ী, ‘চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে এখন পর্যন্ত কোনো শিক্ষকের ওপর মব বা হামলার ঘটনা ঘটেনি। ওই শিক্ষকের শরীরে কোনো আঘাত করা হয়নি। তিনি আগে থেকেই ব্যাক পেইনে ভুগছিলেন, আতঙ্কের কারণে কিছুটা শারীরিক অস্বস্তিতে ছিলেন। আমরা তাঁকে সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসা দিয়েছি। তিনি সুস্থ আছেন ও এখন স্বাভাবিকভাবে কথা বলছেন।’

স্মার্ট গ্রুপের এমডির বাড়ি লক্ষ্য করে গুলি, থানায় মামলা হয়নি

সারা দেশে জামায়াত কর্মীদের ওপর নির্মম নির্যাতন করা হচ্ছে: গোলাম পরওয়ার

চট্টগ্রামে কারখানার কর্মী খুনের ঘটনায় গ্রেপ্তার ২

পরীক্ষায় পাস করতে না পেরে কলেজ গেটে তালা

সীতাকুণ্ডে আবুল খায়ের স্টিল কারখানায় হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় আটক ৭

আনোয়ারায় নির্মাণাধীন বহুতল ভবন থেকে পড়ে দুই শ্রমিক নিহত

আনোয়ারায় রূপালী ব্যাংক থেকে নিরাপত্তাকর্মীর লাশ উদ্ধার

চট্টগ্রামের ৬ ফ্লাইট বাতিল, মাসকাটের ফ্লাইট উড্ডয়ন করেছে

চট্টগ্রাম নগরে বাসার পার্কিং থেকে চুরি হওয়া ৪০ লাখ টাকার গাড়ি উদ্ধার

‘চাঁদার জন্য’ চট্টগ্রামের সেই ব্যবসায়ীর বাড়িতে আবারও গুলিবর্ষণ