‘চাঁদার জন্য’ চট্টগ্রামে স্মার্ট গ্রুপের এমডি মুজিবুর রহমানের বাসভবন লক্ষ্য করে গুলির ঘটনায় থানায় কোনো মামলা হয়নি। পুলিশ বলছে, একই ব্যবসায়ীর বাড়িতে আগের বারে গুলির ঘটনায় করা মামলার তদন্তে নতুন করে এটি যুক্ত হবে।
এর আগে গত ২ জানুয়ারি মাইক্রোবাসে আটজন মুখোশধারী এসে ওই বাস লক্ষ্য করে একইভাবে গুলিবর্ষণ করে। এর পর থেকে সেই বাড়িতে পুলিশের পাহারা বসানো হয়। তবে সেবার বাড়ির সামনে থেকে গুলিবর্ষণ করা হলেও এবার পেছন থেকে গুলি করে চলে যায় সন্ত্রাসীরা।
এ ঘটনায় চকবাজার থানায় ভুক্তভোগীর দায়ের করা মামলায় পুলিশ তদন্ত করে ঘটনার সঙ্গে এইট মার্ডারে আলোচিত শীর্ষ সন্ত্রাসী বিদেশে পলাতক সাজ্জাদ আলী খান ওরফে বড় সাজ্জাদের অনুসারীদের সম্পৃক্ততার তথ্য পেয়েছে। ১০ কোটি টাকা চাঁদার দাবিতে ওই হামলা করা হয়েছিল বলে জানা যায়।
বিষয়টি নিশ্চিত করে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের মুখপাত্র সহকারী কমিশনার (সদর) মো. আমিনুর রশীদ আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘শনিবার ব্যবসায়ীর বাড়ি লক্ষ্য করে যে গুলির ঘটনা ঘটেছে—এটিতে নতুন করে থানায় কোনো মামলা হচ্ছে না।’
তিনি বলেন, ‘ব্যবসায়ী মুজিবুর রহমানের বাড়ি লক্ষ্য করে আগে একবার মাইক্রোবাসে করে এসে গুলি করার ঘটনা ঘটেছিল। তখন তিনি চকবাজার থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।
‘সেই মামলায় পুলিশের হাতে চারজন গ্রেপ্তার আছেন। মামলাটির তদন্ত এখনো চলমান রয়েছে। ওই মামলার তদন্তের সঙ্গে শনিবার নতুন করে গুলির ঘটনাটি যুক্ত হবে। আমরা বিষয়টি তদন্ত করে দেখছি।’
গতকাল শনিবার ভোরে নগরীর চন্দনপুরা এলাকায় স্মার্ট গ্রুপের এমডি মুজিবুর রহমানে বাড়ি লক্ষ্য করে গুলি করে দুর্বৃত্তরা। হামলার সময় ব্যবসায়ী মুজিবুর রহমান ও পরিবারের সদস্যরা বাড়িতে ছিলেন।
অস্ত্রধারীদের এলোপাতাড়ি গুলিতে বহুতল ভবনটির দ্বিতীয় তলার জানালার কাচ ভেঙে যায়। এতে কেউ হতাহত না হলেও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে পুরো এলাকায়।
ভবনের সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, মুখোশ পরা চারজন ব্যক্তি আগ্নেয়াস্ত্র হাতে নিয়ে বহুতল ওই ভবনের পেছন দিকে আসে। এরপর বাসাটি লক্ষ্য করে অস্ত্র উঁচিয়ে গুলি ছুড়তে থাকে।
চারজনের মধ্যে একজনের দুই হাতে দুটি পিস্তল এবং বাকি তিনজনের হাতে অ্যাসল্ট রাইফেল ও শটগান দেখা গেছে। সবগুলো অস্ত্র থেকে গুলি ছোড়ার পর সন্ত্রাসীরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
পুলিশ প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে, ওই ব্যবসায়ীর কাছ থেকে চাঁদা না পেয়ে পলাতক সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলীর লোকজন এ ঘটনা ঘটিয়েছে।