হোম > সারা দেশ > চট্টগ্রাম

চট্টগ্রাম বিভাগ: ভোটারদের মতে বিএনপি এগিয়ে

সবুর শুভ, চট্টগ্রাম    

প্রচারের শেষ দিনে গতকাল গণসংযোগে চট্টগ্রাম-১৩ আসনে বিএনপির প্রার্থী সরওয়ার জামাল নিজাম। ছবি: আজকের পত্রিকা

সংসদ নির্বাচনে অঙ্কের হিসাবে একসময় বিএনপি অধ্যুষিত বিভাগ হিসেবে পরিচিতি ছিল চট্টগ্রামের। এই বিভাগের ৫৮টি আসনের মধ্যে বেশির ভাগ আসনে এবার ভালো ফল করতে কোমর বেঁধে নেমেছে দলটি। তবে আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতিতে জামায়াত তাদের জোটসঙ্গীদের নিয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিতে চায় বিএনপিকে।

ভোটে জয়ের ক্ষেত্রে উভয় দলেরই কিছু দুর্বলতা আছে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। ৫৮ আসনের মধ্যে ১১টিতে দলীয় বিদ্রোহী প্রার্থীরা বিএনপিকে বেকায়দায় ফেলতে পারেন বলে ধারণা ভোটারদের। অন্যদিকে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের দুর্বলতার একটি হচ্ছে—শরিক দলের অপেক্ষাকৃত কম শক্তিশালী প্রার্থী।

ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে যে ধারণা পাওয়া যায়, তাতে ৫৮ আসনের মধ্যে অন্তত ৩৫টিতে বিএনপি এবং ১২টিতে জামায়াত ও তাদের জোটসঙ্গীর অবস্থা ভালো। এর বাইরে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থীদের কারণে আরও কয়েকটি আসন জামায়াত জোটের খাতায় যোগ হতে পারে বলে মনে করছেন ভোটাররা।

চট্টগ্রাম জেলার চিত্র

চট্টগ্রামের ১৬টি আসনের মধ্যে প্রতিটিতে প্রার্থী রয়েছে ধানের শীষের। জামায়াতের প্রার্থীরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ১৩টিতে। বাকি ৩টি আসন ১১ দলীয় জোট শরিকদের দেওয়া হয়েছে। তবে শরিকদের ছেড়ে দেওয়া একটি আসনে জামায়াতের প্রার্থীও ভোটে রয়েছেন। ১৬ আসনের মধ্যে বিএনপির ‘বিদ্রোহী’ রয়েছে দুটিতে।

ভোটারদের মতে, জেলার ১০টি আসনে বিএনপির অবস্থান ভালো। আর জামায়াত ২টি আসনে, জামায়াতের জোটসঙ্গী এলডিপি ১টি আসনে শক্ত অবস্থানে রয়েছে। বাকি ৩টিতে বিএনপি-জামায়াতের প্রার্থীদের মধ্যে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা হতে পারে।

এ বিষয়ে চট্টগ্রাম-১৬ (বাঁশখালী) আসনের কালীপুর এলাকার ভোটার আবদুল করিম বলেন, ‘আমরা একটি সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ ভোটের জন্য মুখিয়ে আছি। এখানে জামায়াত, বিএনপি ও বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থীর মধ্যে সমানতালে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে।’

ভোটাররা বলছেন, চট্টগ্রাম-১ (মিরসরাই), চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি), চট্টগ্রাম-৩ (সন্দ্বীপ), চট্টগ্রাম-১৩ (আনোয়ারা-কর্ণফুলী), চট্টগ্রাম-১২ (পটিয়া), চট্টগ্রাম-৬ (রাউজান), চট্টগ্রাম-৭ (রাঙ্গুনিয়া), চট্টগ্রাম-১১ (বন্দর-পতেঙ্গা-সদরঘাট), চট্টগ্রাম-৫ (হাটহাজারী ও নগরীর একাংশ) ও চট্টগ্রাম-৮ (বোয়ালখালী-চান্দগাঁও-পাঁচলাইশ) আসনে বিএনপির প্রার্থীরা শক্ত অবস্থানে আছেন।

চট্টগ্রাম-১০ (ডবলমুরিং-পাহাড়তলী) আসনের বিএনপি প্রার্থী সাঈদ আল নোমান বলেন, ‘চট্টগ্রাম বিএনপির ঘাঁটি। বিএনপি সরকারের সময় এখানে ব্যাপক উন্নয়ন কর্মকাণ্ডও হয়েছে। ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে চট্টগ্রামের মানুষ ধানের শীষকে নিরঙ্কুশভাবে গ্রহণ করবে বলে বিশ্বাস করি।’

তবে চট্টগ্রাম-১৪ (চন্দনাইশ-সাতকানিয়া আংশিক) ও চট্টগ্রাম-১৬ (বাঁশখালী)—এই দুই আসনে বিএনপির বিদ্রোহী থাকায় ভোটের মাঠে এর প্রভাব পড়তে পারে।

এদিকে জোটের কারণে জামায়াত জেলার তিনটি আসনে ছাড় দিয়েছে। এর মধ্যে চট্টগ্রাম-১৪ (চন্দনাইশ) আসনে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি, চট্টগ্রাম-৮ (বোয়ালখালী-চান্দগাঁও-পাঁচলাইশ) আসনে এনসিপি এবং চট্টগ্রাম-৫ (হাটহাজারী) খেলাফত মজলিসকে ছেড়ে দেওয়া হয়। তবে চট্টগ্রাম-৮ আসনে এনসিপির প্রার্থীর পাশাপাশি জামায়াতের প্রার্থীও ভোটে রয়েছেন। সে ক্ষেত্রে বিএনপির জন্য সুযোগ হয়েছে এই আসনে।

এর বাইরে চট্টগ্রাম-১০ (ডবলমুরিং-পাহাড়তলী), চট্টগ্রাম-৪ (সীতাকুণ্ড) এবং চট্টগ্রাম-৯ (কোতোয়ালি-বাকলিয়া) আসনে জোর প্রতিদ্বন্দ্বিতা হওয়ার আভাস মিলেছে জামায়াত ও বিএনপির প্রার্থীর মধ্যে।

তবে জামায়াতের চট্টগ্রাম মহানগর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মোহাম্মদ উল্লাহ বলেন, ‘১৬ আসনেই আমরা ভালো করার প্রত্যয় নিয়ে কাজ করছি।’ চট্টগ্রামে ভোটের মাঠে জামায়াতের নেতৃত্বে গঠিত ১১ দলীয় জোট বেশ সুবিধাজনক অবস্থানে আছে বলেও দাবি করেন তিনি।

কুমিল্লার চিত্র

কুমিল্লার ১১টি আসনে মোট ৮১ প্রার্থী থাকলেও ভোটের মাঠে লড়াই সীমিত ২২ জনকে ঘিরে। এর মধ্যে বিএনপি জোটের ৫ জন, ১১ দলীয় জোটের ৪ জন এবং বিএনপির ২ বিদ্রোহী প্রার্থী বেশ আলোচনায় রয়েছেন।

এর মধ্যে কুমিল্লা-৪ আসনে বিএনপির প্রার্থী মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর মনোনয়ন বাতিল হওয়ায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছেন জামায়াত জোটের প্রার্থী এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সমন্বয়ক হাসনাত আব্দুল্লাহ। তবে গণঅধিকার পরিষদের জসিম উদ্দিনকে সমর্থন দিয়েছে বিএনপি।

নোয়াখালীর চিত্র

জেলার ছয়টির মধ্যে নোয়াখালী-১, ২, ৩ ও ৪ আসনে বিএনপির অবস্থান শক্ত বলে ধারণা ভোটারদের। তাঁদের মতে, বাকি দুই আসনে জামায়াত জোটের অবস্থান ভালো।

চাঁদপুরের চিত্র

জেলার পাঁচটির মধ্যে তিনটি আসনে বিএনপি-জামায়াত ও বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থীর মধ্যে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতার আভাস দিচ্ছেন ভোটাররা। বাকি দুটিতে ১১ দলীয় জোটের শরিক হিসেবে এলডিপির প্রার্থী থাকায় বিএনপির প্রার্থীরা শক্ত অবস্থানে রয়েছেন। এমনটিই বলছেন সংশ্লিষ্ট এলাকার ভোটাররা।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার চিত্র

এই জেলার ছয়টি আসনের মধ্যে দুটি জোট প্রার্থী জমিয়তে উলামা বাংলাদেশ ও গণসংহতি আন্দোলনকে ছেড়ে দেয় বিএনপি। ফলে ওই দুই আসনে সুযোগ নিতে চায় ১১ দলীয় জোট ও স্বতন্ত্র (বিদ্রোহী) প্রার্থীরা। আবার জামায়াতও দুটি আসন ছেড়েছে খেলাফত মজলিস ও এনসিপিকে। সেখানে বিএনপি সুযোগ নিতে পারে বলে মত ভোটারদের।

ফেনীর চিত্র

ফেনীর তিনটি আসনের মধ্যে প্রচারে এগিয়ে বিএনপি, ১১ দলীয় জোটের জামায়াত ও এবি পার্টির প্রার্থীরা। এর মধ্যে দুটিতে বিএনপি ও জামায়াতের প্রার্থীর লড়াই হবে। অন্যটিতে বিএনপির সঙ্গে এবি পার্টির প্রার্থীর প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বলে ধারণা ভোটারদের।

লক্ষ্মীপুরের চিত্র

জেলার চারটি আসনের মধ্যে লক্ষ্মীপুর-১, ২ ও ৩ এবার বিএনপির খাতায় যোগ হতে পারে বলে আভাস দিয়েছে ভোটাররা। অপরটিতে ত্রিমুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতার কথা বলছেন তাঁরা।

কক্সবাজারের চিত্র

কক্সবাজারে চারটি আসনের মধ্যে জামায়াত ও বিএনপির মধ্যে দুটি করে ভাগ হবে বলে মত ভোটারদের। এর মধ্যে কক্সবাজার-১ (চকরিয়া-পেকুয়া) আসনটি বেশি আলোচিত বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের কারণে। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের আবদুল্লাহ আল ফারুখ।

তিন পার্বত্য জেলা

খাগড়াছড়ি জেলার একটিমাত্র আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ১১ প্রার্থী। বিএনপি, জামায়াত, ইসলামী আন্দোলন, জাতীয় পার্টিসহ ৮টি জাতীয় দলের পাশাপাশি ৩ জন স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। আঞ্চলিক দলগুলো সরাসরি কোনো প্রার্থীকে সমর্থন না দিলেও নির্বাচনে জয়-পরাজয়ের ক্ষেত্রে দলগুলোর ভোট ব্যাংক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে বলে জানান ভোটাররা।

আর রাঙামাটির একটি আসনে এবার প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন সাত প্রার্থী। এর মধ্যে বিএনপি, ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী আলোচনায় রয়েছেন। জামায়াত প্রার্থী না দিয়ে খেলাফত মজলিসের প্রার্থীকে সমর্থন দিয়েছে। ভোটারদের মতে, বিএনপির প্রার্থী এই আসনে বেশ শক্তিশালী।

অন্যদিকে বান্দরবান আওয়ামী লীগের ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত ছিল। এবারের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ না থাকায় বিএনপি ও এনসিপির প্রার্থীর মধ্যে লড়াই হবে। এর মধ্যে বিএনপির প্রার্থীর অবস্থান শক্ত বলে ধারণা ভোটারদের।

চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়ক ইব্রাহিম আটক

চট্টগ্রাম বন্দরের এনসিটি চুক্তি: আপিল শুনানি আগামীকাল পর্যন্ত মুলতবি

ভোটকেন্দ্র পাহারা দিতে না পারলে ঘুঘু ধান খেয়ে ফেলবে: আমীর খসরু

চট্টগ্রাম বন্দরে ধর্মঘট স্থগিত

চট্টগ্রাম বন্দর: আন্দোলনকারী ১৫ কর্মচারীর বাসার বরাদ্দ বাতিল

কক্সবাজারে আশ্রয়শিবিরের বাইরে বাস করা ৬২২ রোহিঙ্গাকে আটক করে ক্যাম্পে ফেরত

বন্দর সচল বললেন চেয়ারম্যান, বাস্তবে দেখা গেছে ভিন্ন চিত্র

চট্টগ্রাম বন্দর অচল, লাগাতার কর্মবিরতি শুরু

চট্টগ্রাম বন্দর এবার পুরো অচল হচ্ছে

কাল থেকে চট্টগ্রাম বন্দরে লাগাতার ধর্মঘটের ডাক