হোম > সারা দেশ > চট্টগ্রাম

চট্টগ্রাম বন্দরে ২৫০ কনটেইনার বিতর্কে মুখোমুখি বন্দর-কাস্টমস, উভয় পক্ষের ক্ষতিপূরণ দাবি

 আবু বকর ছিদ্দিক, চট্টগ্রাম

চট্টগ্রাম বন্দর। ছবি: আজকের পত্রিকা

চট্টগ্রাম বন্দরে ২৫০টি নিখোঁজ কনটেইনারকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ (সিপিএ) ও চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের মধ্যে প্রকাশ্য বিরোধ তৈরি হয়েছে। অপারেশনাল ব্যর্থতা ও আর্থিক ক্ষতির দায় নিয়ে দুই সংস্থা একে অপরকে দুষছে। একই সঙ্গে ই-নিলামে বিক্রি হওয়া একটি কনটেইনার বুঝিয়ে দিতে না পারা ও দীর্ঘদিন নিলামযোগ্য পণ্য পড়ে থাকা নিয়ে উভয় পক্ষ ক্ষতিপূরণও দাবি করেছে।

গত ৯ মাসে অ্যাসাইকুডা ওয়ার্ল্ড সিস্টেমে অডিট, ইন্টেলিজেন্স অ্যান্ড রিস্ক ম্যানেজমেন্ট (এআইআর) ইউনিটের ‘লক’ করা ২৫০টি কনটেইনারের অবস্থান বন্দর কর্তৃপক্ষ জানাতে পারেনি বলে কাস্টমস দাবি করে। এই দাবিকে কেন্দ্র করেই বিরোধের সূত্রপাত। তবে বন্দর কর্তৃপক্ষ অভিযোগ নাকচ করে বলেছে, কাস্টমসের দেওয়া তথ্য ভুল ও অসম্পূর্ণ।

চলতি বছরের ২০ জানুয়ারি অতিরিক্ত কাস্টমস কমিশনার মোহাম্মদ মাহবুব হাসান চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষকে চিঠি দিয়ে ১ কোটি ৬ লাখ ২২ হাজার ৫০০ টাকা ফেরত দেওয়ার অনুরোধ জানান। চিঠিতে বলা হয়, ৪০ ফুটের একটি কনটেইনারে থাকা ৪৭৮ রোল ইন্ডিগো রঙের কাপড় ই-নিলাম নম্বর ০৩/২০২৪-এর মাধ্যমে ১ কোটি ৬ লাখ ২২ হাজার ৫০০ টাকায় বিক্রি করা হয়। এই অর্থের মধ্যে বিড মূল্য, অগ্রিম আয়কর ও ভ্যাট অন্তর্ভুক্ত ছিল।

কাস্টমস জানায়, ক্রেতা পুরো অর্থ পরিশোধের পর ডেলিভারি অর্ডার ইস্যু করা হয়। কিন্তু পণ্য নিতে গেলে বন্দর কর্তৃপক্ষ জানায়, কনটেইনারটির অবস্থান শনাক্ত করা যাচ্ছে না। পরে বন্দর কর্তৃপক্ষ কাস্টমসকে জানায়, যৌথ তদন্ত কমিটি কনটেইনারটির কোনো হদিস পায়নি। ফলে সেটি ক্রেতাকে বুঝিয়ে দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।

এই অবস্থায় ক্রেতা টাকা ফেরতের আবেদন করায় সরকার নিলাম থেকে পাওয়া অর্থ হারানোর ঝুঁকিতে রয়েছে বলে দাবি করেছে কাস্টমস। চিঠিতে কাস্টমস আইন, ২০২৩-এর ৮ ও ১৩০ ধারার উল্লেখ করে বলা হয়, কাস্টম ওয়্যারহাউসে সংরক্ষিত আমদানি পণ্যের নিরাপদ হেফাজত ও যথাযথ সরবরাহ নিশ্চিত করার দায়িত্ব বন্দর কর্তৃপক্ষের।

অন্যদিকে, ২ জুলাই জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে (এনবিআর) পাঠানো এক চিঠিতে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ অভিযোগ করে, বছরের পর বছর হাজার হাজার নিলামযোগ্য কনটেইনার ও পণ্য নিষ্পত্তি না হওয়ায় বন্দরের কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

বন্দরের তথ্য অনুযায়ী, গত ৩০ জুন পর্যন্ত বন্দরে নিলামের অপেক্ষায় ছিল ৯ হাজার ৩৩০ টিইইউ কনটেইনার, ১ লাখ ২৪ হাজার ৭৯৯ প্যাকেজ এলসিএল কার্গো, ৬ হাজার ৭৯২ প্যাকেজ বন্ডেড কার্গো, ৭৭৫ প্যাকেজ বিপজ্জনক রাসায়নিক এবং আরও ৩৩০ টিইইউ ঝুঁকিপূর্ণ কনটেইনার। এর মধ্যে ৪৪টি কনটেইনার দীর্ঘদিন পড়ে থেকে জরাজীর্ণ হয়ে গেছে।

বন্দর কর্তৃপক্ষের দাবি, এসব কনটেইনার বন্দরের মোট ইয়ার্ড ধারণক্ষমতার ২০ থেকে ২২ শতাংশ জায়গা দখল করে রেখেছে। এতে জাহাজ থেকে নতুন কনটেইনার নামাতে সমস্যা হচ্ছে, জাহাজের টার্নঅ্যারাউন্ড টাইম বাড়ছে, রপ্তানি পণ্য সময়মতো পাঠানো যাচ্ছে না এবং জাহাজকে বহির্নোঙরে অপেক্ষা করতে হচ্ছে।

বন্দর কর্তৃপক্ষ আরও দাবি করেছে, তিন দশক ধরে এসব কনটেইনারের বিপরীতে স্টোর রেন্ট আদায় করতে না পারায় ৮ থেকে ১০ হাজার কোটি টাকার সম্ভাব্য রাজস্ব থেকে তারা বঞ্চিত হয়েছে। একই সঙ্গে দ্রুত নিলাম সম্পন্ন, পণ্যের দায় কাস্টমসের ওপর ন্যস্ত করা ও আর্থিক ক্ষতিপূরণ দেওয়ার জন্য এনবিআরের হস্তক্ষেপও চেয়েছে সংস্থাটি।

এদিকে অ্যাসাইকুডা ওয়ার্ল্ড সিস্টেমে লক স্ট্যাটাসে থাকা ২৫০টি কনটেইনারের অস্তিত্ব পায়নি বলে কাস্টম হাউস দাবি করেছে। কাস্টমসের তথ্যমতে, এর মধ্যে ২০২১ সালে ডেলিভারি কার্যক্রম লক করা কনটেইনার ছিল ৮৩টি, ২০২২ সালে ৬১, ২০২৩ সালে ৪০ ও ২০২৪ সালে ৬৬টি। কনটেইনারগুলোর হদিস চেয়ে একে একে পাঁচটি চিঠি দেওয়া হলেও বন্দর কর্তৃপক্ষ তার জবাব দেয়নি বলে দাবি করে কাস্টমস। চলতি বছরের ২৫ জানুয়ারি চট্টগ্রাম বন্দরের টার্মিনাল ম্যানেজারকে দেওয়া ওই চিঠিতে স্বাক্ষর করেন চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের ডেপুটি কমিশনার তারেক মাহমুদ।

তবে আজ সোমবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক প্রতিবাদপত্রে ২৫০ কনটেইনার নিখোঁজের দাবি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। বন্দর বলেছে, এ ধরনের প্রতিবেদন ‘মিথ্যা, অনুমাননির্ভর ও ভিত্তিহীন’।

সিপিএর দাবি, কাস্টমস ২৫০টি নয়, ২৪৭টি চালানের তালিকা দিয়েছিল। এর মধ্যে ১৬৪টি এফসিএল চালানে মোট ২৯৩টি কনটেইনার ও ৮৩টি এলসিএল চালান ছিল।

বন্দর কর্তৃপক্ষের হিসাবে, ২৯৩টি কনটেইনারের মধ্যে ৮৮টি কাস্টমস আউটপাসের মাধ্যমে ডেলিভারি দেওয়া হয়েছে, ৭০টি আইজিএম অনুযায়ী বেসরকারি আইসিডিতে পাঠানো হয়েছে এবং ১৩১টি এখনো বন্দরের বিভিন্ন ইয়ার্ডে রয়েছে। অন্য চারটি কনটেইনার নম্বরের প্রিফিক্স বা ডিজিট ভুল ছিল।

বন্দর আরও জানিয়েছে, ৮৩টি এলসিএল চালানের মধ্যে আটটি ডেলিভারি দেওয়া হয়েছে, ৩৫টি এখনো বন্দরের শেডে রয়েছে ও অন্য ৪০টির বিল অব লেডিং নম্বর কাস্টমসের দেওয়া তথ্যের সঙ্গে মিলছে না। কাগজে-কলমে এসব চালান আগেই কাস্টমসের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে এবং বিষয়টি চিঠির মাধ্যমে কাস্টমসকে অবহিতও করা হয়েছে বলে দাবি করেছে বন্দর। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব কেফায়েত হামিম গণমাধ্যমে পাঠানো প্রতিবাদপত্রে এ দাবি তুলে ধরেন।

বন্দর কর্তৃপক্ষের ৮ থেকে ১০ হাজার কোটি টাকার ক্ষতিপূরণের দাবি আইনগতভাবে টেকসই নয় বলে মনে করছে কাস্টমস। চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের মুখপাত্র শরীফ আল আমিন বলেন, পরিত্যক্ত পণ্য চাইলেই নিলাম বা ধ্বংস করা যায় না। অনেক চালান আদালতের মামলা, হাইকোর্টের স্থগিতাদেশ বা অন্যান্য আইনি জটিলতার মধ্যে থাকে।

শরীফ আল আমিন বলেন, নিলামের আগে প্রতিটি কনটেইনারের পূর্ণাঙ্গ ইনভেন্টরি করা হয়। এরপর দেখা হয়, সেটির বিরুদ্ধে কোনো মামলা বা আইনি বাধা রয়েছে কি না। তিনি বলেন, মামলা চলমান থাকা অবস্থায় কোনো পণ্য নিলাম করে দেওয়া হলে পরে প্রকৃত দাবিদার আদালতে জিতে গেলে সরকারকে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধেও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।

শরীফ আল আমিন জানান, এসব মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য কাস্টমসের কর্মকর্তারা নিয়মিত হাইকোর্ট, সুপ্রিম কোর্ট ও কাস্টমস ট্রাইব্যুনালে কাজ করছেন।তিনি বলেন, কিন্তু আদালতের কার্যক্রম অনেক সময় দীর্ঘ হয়। কোনো কোনো মামলার পরবর্তী শুনানির তারিখ ছয় মাস পরও পড়ে। এসব বিষয় কাস্টমসের নিয়ন্ত্রণে নেই।

বন্দরের ৮ থেকে ১০ হাজার কোটি টাকার স্টোর রেন্ট দাবির বিষয়ে শরীফ আল আমিন বলেন, বন্দর আইনের মাধ্যমে পণ্যের কাস্টোডিয়ান হিসেবে দায়িত্ব পালন করে। কাস্টমসের কাছে স্টোর রেন্ট দাবি করার কোনো আইনি ভিত্তি নেই। নিলাম হলে আইন অনুযায়ী বন্দর যে অংশ পাওয়ার কথা, সেটিই পেয়ে থাকে।

চেকের মামলায় এস আলমের বিরুদ্ধে আদালতের চার্জ গঠন

চট্টগ্রামে তরুণীকে ধর্ষণ, যুবকের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

টানা বর্ষণে সাঙ্গু নদীর পানি বৃদ্ধি, দুর্ঘটনা এড়াতে থানচির পর্যটনকেন্দ্রে ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা

ইস্পাত কারখানায় অবরুদ্ধ সীতাকুণ্ডের ত্রিপুরাপাড়া

পাইলসের চিকিৎসার জন্য নিয়ে জানা গেল, দীর্ঘদিন ধরে ধর্ষণের শিকার মাদ্রাসাছাত্রটি

পতেঙ্গায় পানিসংকট নিরসনে পাইলট প্রকল্পে আগ্রহ নেদারল্যান্ডসের

বোয়ালখালীতে লোকালয়ে বন্য হাতির হানা, ফসল-বাগান ও বসতবাড়ির ক্ষতি

ফটিকছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নার্সকে হেনস্তার অভিযোগে মানববন্ধন, গ্রেপ্তার ও শাস্তির দাবি

চট্টগ্রামে মোটরসাইকেল ও অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষ, আনসার কর্মকর্তা নিহত

চট্টগ্রামে লরিচাপায় দুই মোটরসাইকেল আরোহী নিহত