চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার নাজিরহাট বাজারে কুড়িয়ে পাওয়া ২০ লাখ টাকা প্রকৃত মালিকের কাছে ফিরিয়ে দিয়ে সততার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন এক নৈশপ্রহরী। বুধবার দিবাগত গভীর রাতে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে তিনি টাকাভর্তি ব্যাগটি ব্যবসায়ীর হাতে তুলে দেন।
সততার এ নজির স্থাপনকারী নৈশপ্রহরীর নাম মো. নুরুল আলম বাঁচা (৪৪)। তিনি নাজিরহাট পৌরসভার বাবুনগর গ্রামের বাসিন্দা এবং নাজিরহাট পৌরসভার নৈশপ্রহরী হিসেবে কর্মরত।
জানা গেছে, বুধবার রাত সোয়া ১২টার দিকে দায়িত্ব পালনকালে নাজিরহাট বাজারের সোসাইটি মাঠসংলগ্ন সড়কে একটি পরিত্যক্ত ব্যাগ দেখতে পান নুরুল আলম। ব্যাগটি খুলে তিনি বিপুল পরিমাণ টাকা দেখতে পান। পরে ব্যাগটি নিরাপদে পৌর কার্যালয়ের একটি কক্ষে সংরক্ষণ করেন এবং প্রকৃত মালিককে খুঁজে বের করার উদ্যোগ নেন।
খোঁজ নিয়ে তিনি জানতে পারেন, টাকাগুলো নাজিরহাট বাজারের ব্যবসায়ী ও এম আর জুয়েলার্সের মালিক দুর্লভ ধরের। বিষয়টি বিভিন্ন সূত্রে নিশ্চিত হওয়ার পর নাজিরহাট পৌরসভার কর্মচারী মো. ওমর ফারুক, ব্যবসায়ী মামুন, জিকু, নির্জন, রিপন ও রাজেশের উপস্থিতিতে টাকাভর্তি ব্যাগটি মালিকের হাতে তুলে দেন।
নুরুল আলম বাঁচা বলেন, ‘পরিত্যক্ত ব্যাগটি পাওয়ার পর আমি সেটি নিরাপদে পৌর কার্যালয়ে নিয়ে যাই। পরে বিষয়টি সহকর্মীদের জানাই এবং প্রকৃত মালিক শনাক্তের চেষ্টা করি। নিশ্চিত হওয়ার পর সবার উপস্থিতিতে ব্যাগটি মালিকের কাছে হস্তান্তর করেছি।’
নাজিরহাট পৌরসভার কর্মচারী মো. ওমর ফারুক বলেন, ‘নুরুল আলম বিষয়টি আমাকে জানান। পরে যাচাই-বাছাই শেষে সবার উপস্থিতিতে টাকাগুলো ব্যবসায়ীর কাছে ফেরত দেওয়া হয়। তাঁর সততায় মুগ্ধ হয়ে ব্যবসায়ী তাঁকে পুরস্কৃতও করেছেন।’
হারানো টাকা ফিরে পেয়ে উচ্ছ্বসিত ব্যবসায়ী দুর্লভ ধর বলেন, ‘টাকাগুলো হারিয়ে আমি গভীর উদ্বেগে পড়ে গিয়েছিলাম। এগুলো ছিল ব্যবসায়িক লেনদেন ও গ্রাহকদের আমানতের টাকা। বর্তমান সময়ে এমন সৎ মানুষ পাওয়া সত্যিই বিরল। তিনি সততার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।’
ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে। অনেকেই নুরুল আলমের সততার ভূয়সী প্রশংসা করে মন্তব্য করেছেন, তাঁর এই কাজ পুরো উপজেলার জন্য গর্বের বিষয়। তাঁরা মনে করেন, সততা ও নৈতিকতার এমন উদাহরণ সমাজের জন্য অনুকরণীয় হয়ে থাকবে।