হোম > সারা দেশ > চট্টগ্রাম

সড়ক থেকে উদ্ধার সেই শিশু দাদির জিম্মায়, বাবা কারাগারে

কর্ণফুলী (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি 

চট্টগ্রামের আনোয়ারায় রাতে সড়কের পাশ থেকে উদ্ধার শিশু আয়েশাকে আজ সোমবার আদালতের নির্দেশে তার দাদির জিম্মায় হস্তান্তর করা হয়। ছবি: আজকের পত্রিকা

চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলায় শীতের রাতে সড়কের পাশ থেকে উদ্ধার শিশু আয়েশাকে আদালতের নির্দেশে দাদির জিম্মায় হস্তান্তর করা হয়েছে। আজ সোমবার (১২ জানুয়ারি) দুপুরে চট্টগ্রাম জেলা ও দায়রা জজ আদালতের নারী ও শিশু অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ সাক্ষ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা শেষে শিশুটিকে তার দাদি পারভিনা আক্তারের কাছে বুঝিয়ে দেন।

এ সময় অরক্ষিত অবস্থায় শিশুকে ফেলে যাওয়ায় এবং নির্যাতনের অভিযোগের মামলায় আয়েশার বাবা খোরশেদ আলমকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়। শুনানি শেষে আদালত তাঁর জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে পুনরায় কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, শিশুটির নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎ কল্যাণ বিবেচনায় তার দাদির জিম্মায় দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী নির্ধারিত আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে হস্তান্তর কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়।

আনোয়ারার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তাহমিনা আক্তার বলেন, আদালতের মাধ্যমে শিশু আয়েশাকে তার দাদির কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। সে এখন খাগড়াছড়ির মানিকছড়িতে দাদির সঙ্গে বসবাস করবে। শিশুটির বাবা এখনো জামিন পাননি। আদালত জানিয়েছেন, বিষয়টি বিবেচনাধীন রয়েছে।

তাহমিনা আক্তার আরও বলেন, শিশুটির বাবা জামিনে মুক্ত হলে তাঁর কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে। এ বিষয়ে একটি সংস্থার সঙ্গে প্রশাসনের যোগাযোগ হয়েছে।

শিশু আয়েশাকে ফিরে পেয়ে আবেগাপ্লুত দাদি পারভিনা আক্তার বলেন, ‘নাতনিকে ফিরে পাওয়ার আশায় বুকভরা কষ্ট নিয়ে দিন কাটিয়েছি। আদালতের মাধ্যমে তাকে আমার কাছে বুঝিয়ে দেওয়ায় আল্লাহর কাছে শুকরিয়া। আমি আমার নাতনিকে আগলে রাখব।’

গত ২৮ ডিসেম্বর রাতে চট্টগ্রামের পিএবি সড়কের পাশ থেকে অভিভাবকহীন অবস্থায় শিশু আয়েশা ও তার ছোট ভাই মোর্শেদকে উদ্ধার করেন এক সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালক। পরে জেলা ও উপজেলা প্রশাসন মানবিক বিবেচনায় শিশু দুটির দায়িত্ব নেয়। উদ্ধারের পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় আয়েশার ছোট ভাই মোর্শেদের মৃত্যু হলে ঘটনাটি ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে। এ ঘটনায় আদালতের নির্দেশে শিশুদের বাবা-মায়ের বিরুদ্ধে অরক্ষিত অবস্থায় শিশু পরিত্যাগ ও নির্যাতনের অভিযোগে মামলা করা হয়। বর্তমানে শিশুটির বাবা কারাগারে রয়েছেন।

শিশুদের উদ্ধারকারী ও আশ্রয়দাতা সিএনজিচালক মো. মহিম উদ্দিন বলেন, ‘সেদিন রাতে রাস্তার পাশে দুই শিশুকে অসহায় অবস্থায় দেখে মানবিক দায়িত্ব থেকে তাদের উদ্ধার করি। নিজের সন্তান মনে করেই নিরাপদ স্থানে রাখি এবং প্রশাসনকে জানাই। আজ আয়েশাকে তার দাদির কাছে তুলে দিতে পেরে স্বস্তি পাচ্ছি।’

হস্তান্তরের সময় আদালত প্রাঙ্গণে উপস্থিত ছিলেন আয়েশার দাদি পারভিনা আক্তার, বারখাইন ইউনিয়ন পরিষদের নারী সদস্য আফরোজা আক্তার মিতা, শিশুদের আশ্রয়দাতা অটোরিকশাচালক মো. মহিম উদ্দিন, স্বপ্নযাত্রী ফাউন্ডেশনের সদস্য সাফায়েত রায়হান শিহাব ও খাগড়াছড়ির মানিকছড়ি উপজেলার চৌকিদার হাশেম।

‘সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা সৃষ্টি করতে পরিকল্পিতভাবে হিন্দুদের বাড়িতে আগুন’

টেকনাফে গুলিবিদ্ধ শিশুটিকে পাঠানো হচ্ছে ঢাকায়, মাথার খুলির এক পাশ খুলে রাখা হয়েছে

মেরিন একাডেমি অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের মিলনমেলা

চট্টগ্রামে নালা থেকে বস্তাবন্দী মরদেহ উদ্ধার

চট্টগ্রামে ছুরিকাঘাতে পুলিশ সদস্য হত্যা মামলায় ১০ জনের যাবজ্জীবন

মিয়ানমার সীমান্তে গোলাগুলি: টেকনাফের গুলিবিদ্ধ শিশুটি লাইফ সাপোর্টে

ফেনী হাসপাতালে অপারেশন থিয়েটারে রান্না করার ঘটনায় দুই নার্স বরখাস্ত

নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাস ঢুকল ফলের দোকানে

চট্টগ্রামে পোর্ট কলোনিতে মোটরসাইকেলচালকের ছুরিকাহত মরদেহ, পুলিশ বলছে হামলা অন্য এলাকায়

ব্যাংক থেকে টাকা তুলে বের হতেই ছোঁ মেরে নিয়ে গেল ছিনতাইকারী