চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মাইশা মুশফিরাত নিহতের ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয় গেটসংলগ্ন ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে অবৈধ পার্কিং বন্ধে অভিযান চালিয়েছেন বিআরটিএর ভ্রাম্যমাণ আদালত। আজ বুধবার দুপুর থেকে বিকেল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত চলা অভিযানে ১৫টি পৃথক মামলায় লরি ও কাভার্ড ভ্যানচালকদের কাছ থেকে ৫৫ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়।
উপজেলার আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় গেটসংলগ্ন এলাকায় বিআরটিএর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দীপক ত্রিপুরার নেতৃত্বে অভিযানটি পরিচালিত হয়। অভিযানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের পাশাপাশি বার আউলিয়া হাইওয়ে পুলিশের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দীপক ত্রিপুরা জানান, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী নিহতের ঘটনার পর শিক্ষার্থীদের প্রস্তাবিত দাবিগুলোর মধ্যে প্রথম দাবি ছিল বিশ্ববিদ্যালয় গেটসংলগ্ন এলাকায় অবৈধ পার্কিং বন্ধ করা। ওই দাবির ধারাবাহিকতায় এ অভিযান চালানো হয়েছে।
অভিযানে মহাসড়কে অবৈধভাবে পার্কিং করা ১৫টি লরি ও কাভার্ড ভ্যানের চালকের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। রোড পারমিট, ফিটনেস ও ট্যাক্স টোকেন সনদবিহীন যানবাহনের চালক ও মালিকদের সতর্ক করা হয়।
টোটাল গ্যাস, কেডিএসসহ বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের যানবাহন চলাচল ও পার্কিংয়ের ক্ষেত্রে আরও সতর্কতা অবলম্বন এবং ট্রাফিক আইন মেনে চলার নির্দেশনা দেওয়া হয়।
গতকাল মঙ্গলবার সকালে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় গেট এলাকায় বেপরোয়া গতির লরিচাপায় আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের শিক্ষার্থী মাইশা মুশফিরাত (২১) নিহত হন। দুর্ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের অপর এক শিক্ষার্থীসহ মহাসড়কে উল্টে যাওয়া মিনিবাসের আরও ১০ যাত্রী আহত হন।
দুর্ঘটনার পর বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক ও রেলপথ অবরোধ করেন। বিশ্ববিদ্যালয় গেট এলাকায় অবৈধ পার্কিং বন্ধসহ বিভিন্ন দাবি জানান তাঁরা।
ওইদিন বিকেলে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক ঘটনাস্থলে এসে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনা করেন। দাবিগুলো বাস্তবায়নের আশ্বাস দেওয়ার পর শিক্ষার্থীরা মহাসড়ক ও রেলপথ থেকে অবরোধ প্রত্যাহার করেন।