চট্টগ্রামের জঙ্গল সলিমপুরে স্থাপিত র্যাব ক্যাম্পে সন্ত্রাসী হামলা প্রতিরোধ করতে র্যাব সদস্যরা চায়নিজ রাইফেল, শটগানসহ অন্যান্য অস্ত্র দিয়ে ১০৪টি গুলি ছুড়েছেন। অত্যন্ত শক্তভাবে সন্ত্রাসীদের প্রতিরোধ করা হয়েছে। ফলে তারা ক্যাম্পের ভেতরে প্রবেশ করতে পারেনি। র্যাবের কেউ আহতও হননি।
আজ সোমবার সকালে জঙ্গল সলিমপুরে আলীনগর এলাকায় চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম সাংবাদিক এসব কথা বলেন।
এর আগে হামলার ঘটনার পর এসপি মাসুদসহ চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি মো. মনিরুজ্জামান, র্যাব-৭ অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. হাফিজুর রহমানসহ প্রশাসনের কর্মকর্তা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
মাসুদ আলম বলেন, ‘আমাদের জঙ্গল সলিমপুরে দুটি অস্থায়ী ক্যাম্প আছে। একটি ছিন্নমূলে, আরেকটি আলীনগরে। আলীনগরে বর্তমানে একটি স্কুলে আমাদের ক্যাম্প আছে। সেখানে র্যাব, পুলিশ, এপিবিএন ও আরআরএফ সদস্যরা রয়েছেন। এর কিছু দূরে আমাদের নতুন একটি ক্যাম্প নির্মাণাধীন। সেই ক্যাম্পে এখনো ফোর্স ওঠেনি। মূলত তাদের (সন্ত্রাসীদের) উদ্দেশ্য ছিল, এখানে যাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কোনো ক্যাম্প না থাকে। সে জন্য এই হামলা।’
তিনি আরও বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা যাতে এখান থেকে বের হতে না পারে বা তাঁদের আটকে রাখা যায়—এটাও তাদের উদ্দেশ্য ছিল। এই কারণে রাস্তাঘাট কেটে দেওয়া হয়। হামলায় তারা কিছু আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করেছে। এর জবাবে এখানকার ক্যাম্পের ফোর্স যাঁরা ছিলেন, ওনারাও পাল্টা জবাব দেন। ফোর্সরা চায়নিজ রাইফেল, শটগান, গ্যাসসহ সব মিলিয়ে ১০৪ রাউন্ড গুলি ছুড়েছে। শক্তভাবে প্রতিরোধ করায়, যার কারণে আমাদের ফোর্সদের কোনো ধরনের বা কেউ আহত হয়নি। এটা ছাড়া ওরা এক্সকাভেটর দিয়ে আমাদের ক্যাম্পের কিছু অংশ ভেঙে ফেলেছে।’
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর শক্ত প্রতিরোধে সন্ত্রাসীরা পরে শেষ রাতের দিকে ভোর ৪টা নাগাদ এলাকা থেকে পিছু হটতে বাধ্য হয় বলে জানান এসপি মাসুদ।
এসপি মাসুদ বলেন, ‘জঙ্গল সলিমপুর একটা বড় স্বার্থের জায়গা। এখানে তাদের কোটি কোটি টাকার এই সাম্রাজ্য যখন হাতছাড়া হয়ে যাচ্ছে, সেটার আগে তারা একটু ঝাঁকুনি দিচ্ছে আরকি। তবে তারা যতই ঝাঁকুনি দিক, এখানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অবস্থান থাকবে, সামনে আরও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য এখানে যোগ হবে। আমাদের পেছানোর কোনো সুযোগ নাই।’
তিনি বলেন, ‘শুধু ইয়াছিন না, ইয়াছিন কিংবা যে-ই হোক—এর পেছনে কারা আছে আমরা সবাইকে শনাক্ত করে আইনের আওতায় নিয়ে আসার চেষ্টা করব। আমাদের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে, জঙ্গল সলিমপুরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করা, এই জনপদের শান্তিশৃঙ্খলা ফিরিয়ে নিয়ে আসা এবং এখানে রাষ্ট্রের ভেতরে আরেক রাষ্ট্র হতে না দেওয়া। এ জন্য আমাদের যা যা করণীয় তা করব।’
এর আগে গতকাল রোববার দিবাগত রাত ১টার পর জঙ্গল সলিমপুরের আলীনগর এলাকায় স্থাপিত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ক্যাম্প লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণ করে সন্ত্রাসীরা।
গুলিবর্ষণের পাশাপাশি সন্ত্রাসীরা বুলডোজার দিয়ে ক্যাম্পের দেয়াল গুঁড়িয়ে দিয়ে ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করেছিল। এ ছাড়া ২০০ মিটার দূরে অবস্থিত নবনির্মিত একটি স্থায়ী ক্যাম্প বুলডোজার দিয়ে সম্পূর্ণ গুঁড়িয়ে দিয়েছে। ভোর ৪টার পরে উভয় পক্ষের গুলিবিনিময়ের একপর্যায়ে সন্ত্রাসীরা পিছু হটতে বাধ্য হয়।
হামলার আগে সন্ত্রাসীরা রাতের আঁধারে এক্সকাভেটর দিয়ে আলীনগর প্রবেশের বিভিন্ন সড়ক গভীর গর্ত করে কেটে দেয়। হামলায় তিন শতাধিক সশস্ত্র সন্ত্রাসী অংশ নেয় বলে ধারণা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর।