যৌথ বাহিনীর অভিযানে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার জঙ্গল সলিমপুরের আস্তানা ছেড়ে পালানো শীর্ষ সন্ত্রাসী ও অস্ত্র কারবারি ওসমান গণি ওরফে মনাকে (৩৫) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় তাঁর কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, তিনটি ওয়ান শুটার গান ও গোলাবারুদ জব্দ করা হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে ১৮ মামলা রয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলার চিকনদণ্ডী ইউনিয়নের একটি বাসায় অভিযান চালিয়ে গতকাল রোববার মনাকে গ্রেপ্তার করা হয়। আজ সোমবার (২৭ এপ্রিল) দুপুরে চট্টগ্রাম নগরের ষোলোশহরে জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মাদ নাজির আহমেদ খান তাঁর কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান।
নাজির আহমেদ খান বলেন, গত ৯ মার্চ জঙ্গল সলিমপুরে যৌথ বাহিনীর পরিচালিত বিশেষ অভিযানে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার হওয়াসহ অনেক সন্ত্রাসী গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। সেই অভিযানে আমরা সন্ত্রাসীদের নেটওয়ার্ক ভেঙে দিয়েছি। অভিযানের মুখে তখন অনেক শীর্ষ সন্ত্রাসী পালিয়েছিলেন। তাঁদের অনেকেই পরে গ্রেপ্তার হয়েছেন। তিন দিন আগে জঙ্গল সলিমপুরের আরেক শীর্ষ সন্ত্রাসী নলা কাসেমকে আমরা বিদেশি পিস্তলসহ গ্রেপ্তার করেছি।
পুলিশ সুপার বলেন, এর ধারাবাহিকতায় ওসমান গণি ওরফে মনাকে হাটহাজারী চিকনদণ্ডী ইউনিয়নের একটি পাঁচতলা ভবনের বাসা থেকে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছি। তিনি জঙ্গল সলিমপুরের শীর্ষ সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত।
নাজির আহমেদ খান বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মনা অবৈধ অস্ত্র কারবারের সঙ্গে তাঁর সম্পৃক্ততা থাকার কথা স্বীকার করেছেন। তিনি অস্ত্র সংগ্রহের পর তা বিভিন্ন এলাকার সন্ত্রাসীদের কাছে সরবরাহ ও বিক্রি করতেন। এ ছাড়া বিভিন্ন সন্ত্রাসী কার্যক্রমে তিনি নেতৃত্ব দিতেন বলে জানিয়েছেন। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী হৃদয় (৩০) ও রাজু (৩২) নামের দুই আসামিকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, অভিযানে সন্ত্রাসী মনার কাছ থেকে ম্যাগাজিনসহ একটি বিদেশি পিস্তল, তিনটি একনলা শটগান, পিস্তলের ১১টি গুলি, শটগানের ১৭টি কার্তুজ, রাইফেলের গুলি, চাপাতি ও সুইচ গিয়ার ছুরি উদ্ধার করা হয়। তাঁর বিরুদ্ধে ডাকাতি, মাদক ও অস্ত্রসহ মোট ১৮টি মামলা রয়েছে।
দুর্গম পাহাড়ি এলাকা জঙ্গল সলিমপুর দীর্ঘদিন ধরেই অপরাধীদের অভয়ারণ্য হিসেবে পরিচিত। গত জানুয়ারিতে সেখানে অভিযানে গিয়ে অপরাধীদের হামলায় এক র্যাব কর্মকর্তা নিহতের পর এলাকাটি নতুন করে আলোচনায় আসে। ওই ঘটনার পর থেকেই সেখানে সশস্ত্র অপরাধীদের দমনে সমন্বিত অভিযানের পরিকল্পনা ছিল প্রশাসনের। তবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কারণে তা তখন স্থগিত করা হয়েছিল। পরে ৯ মার্চ এলাকাটিতে যৌথ বাহিনীর স্মরণকালের অভিযান চালিয়ে এলাকাটির নিয়ন্ত্রণ নেয় প্রশাসন। অভিযানের আগেই জঙ্গল সলিমপুরের আস্তানা ছেড়ে পালিয়ে যান শীর্ষ সন্ত্রাসীরা।