চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে লরির ধাক্কায় বিশ্ববিদ্যালয়শিক্ষার্থী মাইশা মুশফিরাত (২১) নিহতের প্রতিবাদে মহাসড়ক ও রেলপথ অবরোধের সাত ঘণ্টা পর অবরোধ কর্মসূচি প্রত্যাহার করেছেন বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা।
আজ মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৪টায় চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক ঘটনাস্থলে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনা করে তাদের দাবি বাস্তবায়নের আশ্বাস দিলে বিকেল ৫টার পর কর্মসূচি প্রত্যাহার করেন তাঁরা।
এর আগে সীতাকুণ্ডের কুমিরায় লরির ধাক্কায় উল্টে পড়া মিনিবাসের চাপায় নিহত হন আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রামের (আইআইইউসি) ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের দ্বিতীয় সেমিস্টারের শিক্ষার্থী মাইশা মুশফিরাত। দুর্ঘটনায় রাজিয়া নামে আরেক শিক্ষার্থী আহত হন। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক ও রেলপথ অবরোধ করলে দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়। রেল চলাচলও ব্যাহত হয়।
পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রথমে ঘটনাস্থলে যান সীতাকুণ্ড উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ফখরুল ইসলাম ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা। তবে শিক্ষার্থীরা জেলা প্রশাসকের সরাসরি উপস্থিতি দাবি করলে সেখানে যান জাহিদুল ইসলাম।
তাঁর সঙ্গে ছিলেন পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম, আনসার ও ভিডিপির জেলা কমান্ড্যান্ট মো. সফিউল হোসেন, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সৈয়দ মাহবুবুল হক এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যসহ শিক্ষকেরা। এ সময় মহাসড়কে অনুষ্ঠিত মাইশার জানাজায় অংশ নেন জেলা প্রশাসকসহ উপস্থিত ব্যক্তিরা। পরে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বক্তব্য দেন তিনি।
চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম মিয়া জানান, ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনি বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেছেন। শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো বাস্তবায়নের আশ্বাস দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় গেটে নিহত শিক্ষার্থী মাইশার জানাজায় অংশগ্রহণ করেন। পরে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা মহাসড়ক ও রেলপথ থেকে অবরোধ কর্মসূচি প্রত্যাহার করে নেন।
জেলা প্রশাসক শিক্ষার্থীদের বলেন, ‘আপনাদের দাবিগুলো শোনার আগেই আমি আমার মন্ত্রণালয়ের সচিব মহোদয়ের সঙ্গে কথা বলেছি। সড়ক ও জনপথ বিভাগের সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সঙ্গেও কথা বলেছি।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকসংলগ্ন এলাকায় ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণের বিষয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, ‘আমি আজকেই ফুটওভার ব্রিজের জন্য লিখিতভাবে জানাব, যাতে দ্রুততম সময়ের মধ্যে এখানে ফুটওভার ব্রিজটি নির্মাণ করা যায়।’
পাশাপাশি সড়কের দুই পাশে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি। সেই সঙ্গে কোনো অবৈধ পার্কিং এখানে থাকবে না বলেও ঘোষণা দেন তিনি।
বার আউলিয়া হাইওয়ে থানার সার্জেন্ট শফিউল ইসলাম শুভ জানান, শিক্ষার্থীরা ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক ও রেলপথে যানবাহন এবং রেল চলাচল বন্ধ করে রাখেন। তাঁরা মহাসড়ক থেকে অবরোধ কর্মসূচি প্রত্যাহার করে নিতে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে একাধিকবার আলাপ করেন। তবে মহাসড়ক ও রেলপথ অবরোধে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা জেলা প্রশাসকের সঙ্গে আলোচনার সিদ্ধান্তে অনড় থাকেন।
শফিউল আরও বলেন, বিকেলে জেলা প্রশাসক বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনার পর দাবিগুলো বাস্তবায়নের আশ্বাস দিলে বিকেল ৫টার পর তাঁরা অবরোধ কর্মসূচি প্রত্যাহার করে নেন। শিক্ষার্থীদের অবরোধ কর্মসূচি প্রত্যাহার করা হলেও আটকা পড়া যানবাহন চলাচল এখনো স্বাভাবিক হয়নি বলে জানিয়েছেন তিনি।