চট্টগ্রাম-৪ (সীতাকুণ্ড) আসনে বিএনপির প্রার্থী আসলাম চৌধুরীর প্রার্থিতা বাতিলের প্রতিবাদে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সীতাকুণ্ড অংশে অবরোধ কর্মসূচি পালন করছেন তাঁর সমর্থক বিএনপির বিক্ষুব্ধ নেতা-কর্মীরা। আজ মঙ্গলবার বিকেল ৪টার পর উপজেলার ১৫ থেকে ২০টি স্থানে সড়ক অবরোধের ফলে প্রায় ২৫ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। এতে শত শত দূরপাল্লার যানবাহন আটকা পড়ে এবং চরম ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ যাত্রী, শিক্ষার্থী ও চাকরিজীবীরা।
আপিল বিভাগে আসলাম চৌধুরীর প্রার্থিতা বাতিলের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর দুপুর থেকেই উপজেলার বিভিন্ন স্থানে তাঁর সমর্থকেরা বিক্ষোভ সমাবেশ শুরু করেন। পরে বিকেলে ছোট দারোগার হাট, পৌর সদর, সিরাজ ভূঁইয়া রাস্তার মাথা, বাড়বকুণ্ড, বাঁশবাড়িয়াসহ বিভিন্ন স্থানে অবস্থান নিয়ে মহাসড়ক অবরোধ করেন।
একপর্যায়ে বিক্ষুব্ধ নেতা-কর্মীরা গাছ কাটার ইলেকট্রিক করাত দিয়ে মহাসড়কের পাশের গাছ কেটে সড়কের ওপর ফেলে দেন। কোথাও কোথাও পুরো গাছ ফেলে সড়ক বন্ধ করে দেওয়া হয়। এ ছাড়া সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়া হয়। এতে দারোগার হাট থেকে সিটি গেট পর্যন্ত মহাসড়কের উভয় পাশে প্রায় ২৫ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়।
বিএনপির কয়েকজন নেতা বলেন, আসলাম চৌধুরী দলের দুর্দিনের ত্যাগী নেতা এবং জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধি। তাঁকে পুনরায় সংসদ সদস্য হিসেবে ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানিয়ে তাঁরা বলেন, দাবি পূরণ না হলে আরও বৃহত্তর আন্দোলনের কর্মসূচি দেওয়া হবে।
এদিকে, ফেসবুকে এক ভিডিও বার্তায় নেতা-কর্মীদের হতাশ না হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন আসলাম চৌধুরী।
বার আউলিয়া হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কে এম হক বলেন, বিএনপির বিক্ষুব্ধ নেতা-কর্মীদের অবস্থানের কারণে মহাসড়কের উভয় পাশে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। অবরোধ তুলে যান চলাচল স্বাভাবিক করতে কাজ করছে পুলিশ।
সীতাকুণ্ড থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মহিনুল ইসলাম বলেন, মহাসড়ক থেকে অবরোধকারীদের সরিয়ে দিতে এবং সড়কে ফেলে রাখা গাছ অপসারণ করে যান চলাচল স্বাভাবিক করতে পুলিশ কাজ করছে।
উল্লেখ্য, গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-৪ (সীতাকুণ্ড) আসনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে অংশ নেন আসলাম চৌধুরী। নির্বাচনে তিনি ১ লাখ ৪২ হাজার ৬৭৪ ভোট পেয়ে জয়ী হন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আনোয়ার সিদ্দিক চৌধুরী পান ৮৯ হাজার ২৬৮ ভোট। আদালতের নির্দেশে ওই আসনের ফলাফল প্রকাশ স্থগিত রাখা হয়।
এর আগে গত ৩ ফেব্রুয়ারি আনোয়ার সিদ্দিকীর করা আপিলের শুনানি শেষে আপিল বিভাগ নির্বাচন কমিশনকে আসলাম চৌধুরীকে নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ দিতে নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত চট্টগ্রাম-৪ আসনের চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশ না করার নির্দেশ দেওয়া হয়। পরে ১৫ জুন আপিল বিভাগ রায় ঘোষণার জন্য ৩০ জুন দিন ধার্য করেন। আজ আপিলের রায় ঘোষণার পর আসলাম চৌধুরীর প্রার্থিতা বাতিলের বিষয়টি নিশ্চিত হয়। এই প্রেক্ষাপটে আসনটিতে কি আবার নির্বাচন হবে নাকি দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ভোট পাওয়া প্রার্থীকে নির্বাচিত ঘোষণা করা হবে—এমন আলোচনা সামনে এসেছে।