কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে ‘কিশোর গ্যাংয়ের’ হামলায় মাইনুল ইসলাম পাভেল (১৮) নামে এক কলেজছাত্রের মৃত্যুর ঘটনায় চার আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আজ রোববার দুপুর ১২টার দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জেলা পুলিশ সুপার আব্দুল মান্নান।
গ্রেপ্তারকৃত আসামিরা হলেন-ফেনী সদর থানার গজারিয়াকান্দি এলাকার ফারুক আহাম্মদের ছেলে আবু হুরাইয়া অনিক (১৯), চৌদ্দগ্রাম উপজেলার আলকরা ইউনিয়নের কুলাসার এলাকার আবু বক্কর সিদ্দিকের ছেলে সালমান হোসেন (২২), একই এলাকার রবিউল হক ওরফে জানু মিয়ার ছেলে নাঈমুল হক রাকিব (১৯) ও উপজেলার আলকরা ইউনিয়নের ধোপাখিল এলাকার শামসুল হকের ছেলে নাজিমুল হক জয় (১৯)।
জানা গেছে, প্রায় তিন মাস আগে মাইনুল ইসলাম পাভেলের সাথে ‘কিশোর গ্যাংয়ের’ নেতা মেহেরাজ গ্রুপের সদস্য একই গ্রামের রাফির বাগ্বিতণ্ডা হয়। এর পর থেকেই মেহেরাজ গ্রুপ দীর্ঘদিন পাভেলের ওপর নজর রাখে। কখন সে নানা বাড়ি ধোপাখিলাতে আসবে। গত ১ ডিসেম্বর বিকেলে পাভেল নানা বাড়িতে আসলে মেহেরাজ গ্রুপ বিষয়টি জানতে পারে। সন্ধ্যায় পাভেল তাঁর নানা বাড়ির পাশে একটি মাঠে ব্যাডমিন্টন খেলতে গেলে মেহেরাজ গ্রুপ খবর পেয়ে জানতে পেরে মোটরসাইকেলে করে মাঠে আসে। এ সময় মেহেরাজ গ্রুপ ব্যাডমিন্টন আগে খেলবে বললে পাভেলের সঙ্গে উপস্থিতদের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা হয়।
এরই জেরে পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী মেহেরাজ, সালমান, রাকিব, জয় ও রাকিব ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি আঘাত করতে থাকে। এ সময় পাভেলের বন্ধু সিয়াম, রবিন, সৈকত ও বিজয় বাধা দিতে গেলে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে তাঁরাও আহত হয়। তাদের চিৎকারে এলাকাবাসী এগিয়ে এলে গ্যাংয়ের সদস্যরা মোটরসাইকেলে করে পালিয়ে যায়। পরে রক্তাক্ত অবস্থায় আহতদের উদ্ধার করে ফেনী সরকারি হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক পাভেলকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় সিয়াম, রবিন ও সৈকতকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। এ হত্যার ঘটনায় আজ চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
জেলা পুলিশ সুপার বলেন, কিশোর গ্যাংয়ের হামলায় কলেজছাত্রের মৃত্যুর ঘটনায় আজ চার আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ বিষয়ে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।