চট্টগ্রামের কর্ণফুলীতে কোরিয়ান ইপিজেড (কেইপিজেড) এলাকায় পাহাড় থেকে গাছ কেটে নেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়েছে। এতে কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন এবং পুলিশের গাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে। গতকাল সোমবার (৪ মে) রাত ৯টায় কর্ণফুলী উপজেলার বড়উঠান ইউনিয়নের কেইপিজেড দৌলতপুর গেট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গাছ কাটার ঘটনায় দায়ের করা মামলার আসামিদের ধরতে গেলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। রাত ৯টার দিকে কয়েক দফা সংঘর্ষে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে। হামলাকারীরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে অবস্থান নিলে এলাকায় আতঙ্ক ও থমথমে পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। পরে শিল্প পুলিশ ও থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
সংঘর্ষে শিল্প পুলিশ ও থানা-পুলিশের দুটি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। এ ঘটনায় তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সন্ধ্যার দিকে একদল লোক হঠাৎ কেইপিজেডের নিরাপত্তারক্ষীদের লক্ষ্য করে ঢিল ছোড়া শুরু করে। পরে উভয় পক্ষের মধ্যে ইট-পাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে, যা একপর্যায়ে সংঘর্ষে রূপ নেয়।
পুলিশ জানায়, কেইপিজেড এলাকায় গাছ কাটতে গিয়ে নিরাপত্তারক্ষীদের বাধার মুখে পড়ে দুর্বৃত্তরা। এ সময় তারা নিরাপত্তারক্ষীদের ওপর হামলা চালায়। খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে পুলিশ সরে যাওয়ার পর আবারও সংঘর্ষ শুরু হলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। জড়িতদের ধরতে রাত থেকেই অভিযান চালানো হচ্ছে।
মামলার সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) বিকেলে কেইপিজেডের দৌলতপুর নর্থ-২ ব্লকের একটি পাহাড় থেকে প্রায় ১৫টি গাছ কেটে নেওয়ার সময় নিরাপত্তারক্ষীদের ওপর হামলা চালানো হয়। এতে গার্ড কমান্ডার তোবারক মিয়া গুরুতর আহত হন। এ ঘটনায় শনিবার কর্ণফুলী থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়।
কেইপিজেড কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, মামলার আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চালানোর সময় সোমবার রাতে তারা পুনরায় সংঘবদ্ধ হয়ে মূল ফটকে হামলা চালায়।
শিল্প পুলিশের সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) মিজানুর রহমান বলেন, গাছ কাটার সঙ্গে জড়িতদের ধরতে গেলে তারা পুলিশের সঙ্গে বিরূপ আচরণ করে এবং নিরাপত্তারক্ষীদের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ায়।
নিরাপত্তাকর্মীরা জানান, স্থানীয় একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে রাতে পাহাড় থেকে গাছ কেটে বাইরে পাচার করে আসছে। বাধা দিলে তারা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়।
কর্ণফুলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহীনূর আলমের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও কথা বলা যায়নি।
কোরিয়ান ইপিজেডের সহকারী উপমহাব্যবস্থাপক মুশফিকুর রহমান বলেন, গাছ কাটায় বাধা দেওয়ায় এক নিরাপত্তারক্ষীকে মারধর করে তাঁর হাত ভেঙে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় মামলা হওয়ার পর আসামিদের ধরতে গেলে পুলিশ নতুন করে হামলার মুখে পড়ে।
চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের সহকারী কমিশনার (কর্ণফুলী) জামাল উদ্দীন চৌধুরী বলেন, গাছ কাটাকে কেন্দ্র করেই সংঘর্ষের সূত্রপাত। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে জড়িতদের শনাক্ত করা হয়েছে এবং তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
এর আগে গত বছরের ১৫ সেপ্টেম্বর একই এলাকায় গাছ কাটার সময় চারজনকে আটক করে শিল্প পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়েছিল।