চট্টগ্রাম নগরের পাঁচলাইশে উম্মে হাবিবা (২৪) নামের তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা এক গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় তাঁর স্বামী মাহমুদুল হাসান ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনের বিরুদ্ধে নির্যাতন করে হত্যার অভিযোগ করেছেন নিহতের ভাই। তাঁর দাবি, যৌতুকসহ বিভিন্ন অজুহাতে দীর্ঘদিন ধরে হাবিবাকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হতো। স্বজনদের দাবি, মৃত্যুর পর তাঁর শরীর ও গলায় আঘাতের চিহ্নও দেখতে পেয়েছেন।
গতকাল সোমবার রাতে পাঁচলাইশ থানার কালারপুল এলাকার একটি বাসা থেকে হাবিবার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় তাঁর স্বামী ও স্বামীর বোনকে আটক করেছে পুলিশ।
নিহত উম্মে হাবিবা কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার রাজাখালী ইউনিয়নের নুরুল কবিরের মেয়ে। তাঁর ভাই মো. ইদ্রিস রানা থানায় দেওয়া অভিযোগে উল্লেখ করেন, গত ২ ফেব্রুয়ারি পারিবারিকভাবে বাঁশখালীর বাণীগ্রামের সাধনপুর এলাকার মোবারক হোসেনের ছেলে মাহমুদুল হাসানের সঙ্গে হাবিবার বিয়ে হয়।
অভিযোগে বলা হয়, বিয়ের এক মাসের মাথায় স্বামী তাঁর বোনের গায়ে হলুদের অনুষ্ঠানের জন্য হাবিবার সব স্বর্ণালংকার নিয়ে যান। এ নিয়ে তাঁদের মধ্যে বিরোধ তৈরি হয়। এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের টিউশন ফির টাকা দেওয়ার জন্য হাবিবাকে নিয়মিত চাপ দিতেন মাহমুদুল হাসান। কোরবানির ঈদে বাবার বাড়ি থেকে ছাগল ও পর্যাপ্ত কাপড়চোপড় দেওয়া হয়নি—এমন অজুহাতেও তাঁকে নির্যাতন করা হতো।
ইদ্রিস রানার দাবি, একাধিকবার মারধরের শিকার হলেও সংসার টিকিয়ে রাখতে হাবিবা বিষয়গুলো সহ্য করতেন। শ্বশুরবাড়ির লোকজনের নির্যাতনে অতিষ্ঠ হয়ে পড়লে পারিবারিক বৈঠকের মাধ্যমে তাঁকে আবার স্বামীর সংসারে পাঠানো হয়। মৃত্যুর সময় হাবিবা ৩-৪ মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। গর্ভাবস্থায়ও মাহমুদুল তাঁর ভরণপোষণ দিতেন না; বরং বাবার বাড়ি থেকে টাকা এনে দেওয়ার জন্য চাপ দিতেন।
পরিবারের সদস্যরা জানান, গত রোববার শ্বশুরবাড়ির লোকজন হাবিবাকে পেকুয়ার রাজাখালী থেকে চট্টগ্রাম নগরের বহদ্দারহাট কাঁচাবাজারের পেছনে কালারপুল এলাকার বাসায় নিয়ে আসেন। পরদিন রাত ৯টা থেকে সাড়ে ৯টার মধ্যে তাঁর বাবাকে ফোন করে মৃত্যুর খবর জানানো হয়।
উম্মে হাবিবার ভাই ইদ্রিস রানা দাবি করেন, খবর পেয়ে তাঁরা বাসায় গিয়ে হাবিবাকে বিছানায় শোয়ানো অবস্থায় দেখতে পান। তাঁর শরীর ও গলায় আঘাতের চিহ্ন ছিল। তাঁর অভিযোগ, স্বামীসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা নির্যাতন করে হাবিবা ও তাঁর অনাগত সন্তানকে হত্যা করেছেন। ঘটনাটি আত্মহত্যা বা স্বাভাবিক মৃত্যু হিসেবে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি।
পাঁচলাইশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোজাম্মেল হক বলেন, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত স্বামী ও তাঁর বোনকে আটক করা হয়েছে। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।