চট্টগ্রামের পটিয়ায় আধিপত্য বিস্তার ও চুরির ঘটনায় অভিযুক্ত এক কিশোরকে শাসানোকে কেন্দ্র করে যুবদলের দুই পক্ষের মধ্যে তিন দফা সংঘর্ষ হয়েছে। গতকাল শুক্রবার রাতে জঙ্গলখাইন ইউনিয়নের বাদামতল এলাকা এবং পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ভেতরে ও প্রবেশমুখে সংঘর্ষে অন্তত ১৩ জন আহত হন। গুরুতর আহত যুবদল নেতা মো. সুজনকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
আহত ব্যক্তিরা হলেন যুবদল নেতা মো. সুজন ও মো. আমজাদ এবং ছাত্রদলকর্মী জাহাঙ্গীর, টিপু, আজাদ, ইরফান, শুভ, বোরহান, রায়হান, মাশফি, আফজল, রাফি ও আরফান।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, তিন দিন আগে জঙ্গলখাইন ইউনিয়নের বাদামতল এলাকায় নুরুল ইসলাম চেয়ারম্যানের বাড়িতে চুরির ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য হিসেবে পরিচিত ইরফান নামের এক কিশোরকে সন্দেহ করা হয়।
শুক্রবার সন্ধ্যায় হাবিলাসদ্বীপ ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সদস্য ও দক্ষিণ জেলা যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. সুজন ওই কিশোরকে ডেকে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা না ঘটানোর জন্য শাসিয়ে দেন। স্থানীয় যুবদল নেতা হিসেবে পরিচিত আমজাদ এর বিরোধিতা করলে সুজনের সঙ্গে থাকা লোকজন তাঁকে টেনেহিঁচড়ে মাটিতে ফেলে দেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
ঘটনার পর দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। রাত আটটার দিকে আমজাদের পক্ষের লোকজন এসে সুজনসহ চার-পাঁচজনকে মারধর করেন। আহত সুজনকে পরে পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়।
রাত সাড়ে নয়টার দিকে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে সুজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চমেক হাসপাতালে নেওয়ার সময় হাসপাতালের প্রবেশমুখে আবার সংঘর্ষে জড়ান দুই পক্ষের লোকজন। সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ১৩ জন আহত হন। খবর পেয়ে পটিয়া থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
স্থানীয় সূত্র আরও জানায়, আমজাদ ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক সেলিম উদ্দীনের অনুসারী। সুজন হাবিলাসদ্বীপ ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও জেলা বিএনপির সদস্য শফিকুল ইসলামের অনুসারী হিসেবে পরিচিত।
সম্প্রতি হুলাইন পাইরোল উচ্চবিদ্যালয়ে একটি সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনার পর থেকে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে তাঁদের মধ্যে উত্তেজনা চলছিল বলে দাবি স্থানীয়দের।
পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক মো. হাদী জানান, সুজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে চমেক হাসপাতালে পাঠানোর সময় হাসপাতাল এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পরে তিনি পুলিশকে খবর দেন। সংঘর্ষে আহত ১০ জন পটিয়া হাসপাতাল থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।
জঙ্গলখাইন ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক সেলিম উদ্দীন বলেন, ‘প্রথমে হাবিলাসদ্বীপ ইউনিয়নের লোকজন এসে জঙ্গলখাইন ইউনিয়নের লোকজনকে মারধর করেন। এর জের ধরেই পরবর্তী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।’
পটিয়া উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সাবেক সদস্য জসিম উদ্দিন জানান, একটি চুরির ঘটনাকে কেন্দ্র করেই সংঘাতের সূত্রপাত হয়েছে। তবে দুই পক্ষের আধিপত্য বিস্তারের দ্বন্দ্বে সংঘর্ষের ব্যাপকতা বেড়েছে।
জঙ্গলখাইন ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বখতিয়ার উদ্দিন বকুল বলেন, ‘তুচ্ছ একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়েছে। তবে দুই পক্ষের আধিপত্য বিস্তারের বিষয়টিও উড়িয়ে দেওয়া যায় না।’
পটিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জিয়াউল হক জানান, দুই পক্ষের মারামারির খবর পেয়ে দ্রুত পুলিশ পাঠানো হলে পরিস্থিতি শান্ত হয়। এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।