১৮ কোটি লোকের আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করা কঠিন কাজ বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘আপনারা সব সময় বলেন, আইনশৃঙ্খলা কন্ট্রোল করি না। দেখেন এখানে আপনারা কয়জন সাংবাদিক, এই কয়জনের কথা বলাটা বন্ধ করতে অনেক সময় লেগে যায়। তো দেশের ১৮ কোটি লোকের আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করা অনেক ডিফিকাল্ট কাজ।’
আজ রোববার চট্টগ্রামের আগ্রাবাদে ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে ‘ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট-২০২৬’ উপলক্ষে আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
নির্বাচন ঘিরে চট্টগ্রামে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর যে প্রস্তুতি রয়েছে, তা সন্তোষজনক উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, ‘তারা যেভাবে পরিকল্পনা করেছে, সেভাবে এগিয়ে গেলে নির্বাচন সুষ্ঠু, উৎসবমুখর ও নিরপেক্ষ হবে। ভোটকেন্দ্র নিরাপদ থাকবে। কোনো ধরনের অসুবিধা হবে না।’
নির্বাচন লেভেল প্লেয়িং ফিল্ডেই হবে জানিয়ে জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড অনেক পুরোনো শব্দ। কিছু কিছু শব্দ আছে যেগুলো সব সময় ব্যবহার হয়। কেউ বলবে ফিল্ড লেভেল, কেউ বলবে ফিল্ড লেভেল না। কিন্তু আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি। নির্বাচনটা যেন লেভেল প্লেয়িং ফিল্ডেই হয়।’
নির্বাচনের সময় ইন্টারনেট ব্যবহার প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, ‘আমাদের পরিকল্পনা হলো এটা খোলা থাকবে। ইন্টারনেট যদি কেউ বন্ধ করে, আমরা তাকে আইনের আওতায় নিয়ে আসব।’
তিনি বলেন, ফেসবুক বা ইন্টারনেট বন্ধ করা এখন আর গ্রহণযোগ্য নয়। সবাই স্বাধীনভাবে লিখবেন, মতপ্রকাশ করবেন। আগে সাংবাদিকেরাও নিয়ন্ত্রণের মধ্যে ছিলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সামনে গিয়ে প্রশ্ন করার সাহস পেতেন না। এখন সেই পরিবেশ বদলে গেছে।’
সাংবাদিকদের উদ্দেশে জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, ‘আপনাদের মুখ একেবারে খোলা। সত্যি কথা প্রকাশ করার জন্যই তো আপনারা। আপনারা যদি সত্য তথ্য প্রকাশ করতে না পারেন, জনগণ সঠিক তথ্য পাবে না। তাই আমরা চাই, সাংবাদিকেরা স্বাধীনভাবে কাজ করুক, সত্য কথা বলুক।’
নির্বাচনকালীন সহিংসতার এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, এই সময় যে সহিংসতাগুলো হচ্ছে, তার অনেকটাই নিজেদের দলের ভেতরেই। একই দল বা একই সংগঠনের ভেতরের দ্বন্দ্ব থেকেই অনেক সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে।
এ ক্ষেত্রে রাজনৈতিক দল ও সংশ্লিষ্ট সবাইকে আরও সচেতন হতে হবে। পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে যেই জায়গায় যত সদস্য প্রয়োজন, সেভাবে তা মোতায়েন করা হচ্ছে বলে জানান স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা।
এ সময় স্বরাষ্ট্রসচিব নাসিমুল গণি, চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দীন, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা, চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি মো. আহসান হাবীব পলাশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।