কমিটি ঘোষণার দুই দিন পর ব্রাহ্মণবাড়িয়া বিএনপির দুপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। আজ শনিবার শহরে দলীয় কর্মসূচি পালনের সময় উভয় পক্ষের নেতা-কর্মীদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এ সময় কমপক্ষে ১০ জন আহত হয়েছে।
জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার বিএনপির কেন্দ্রীয় সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী দলের জেলা আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করেন। এর পর থেকে দলের একটি অংশের নেতা-কর্মীরা ঘোষিত কমিটিকে ফরমায়েশি আখ্যা দিয়ে তা বাতিলের দাবি জানান। প্রতিবাদে গতকাল শুক্রবার বিকেলে সমাবেশ করেন তাঁরা।
এ ঘটনার জেরে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। আজ শনিবার বিকেলে নতুন আহ্বায়ক কমিটির সদস্যসচিব ও জেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম শহরের শেখ হাসিনা সড়ক সেতু এলাকায় একটি আনন্দ শোভাযাত্রা বের করেন।
আনন্দ শোভাযাত্রা বের হওয়ার পর উভয় পক্ষের লোকজনের মধ্যে ইটপাটকেল নিক্ষেপ শুরু হয়। শুরু হয় পাল্টাপাল্টি ধাওয়া। মুহূর্তের মধ্যে ওই এলাকার ব্যবসায়ীরা দোকানপাট বন্ধ করে দিগ্বিদিক ছুটতে থাকে। প্রায় আধ ঘণ্টাব্যাপী সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হন।
এই সময় পুরো এলাকাজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ সময় পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একজনকে আটক করে।
সদস্য ও সাবেক জেলা সভাপতি হাফিজুর রহমান মোল্লা কচি আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘এমন ব্যক্তিকে জেলা আহ্বায়ক করা হয়েছে, যার জন্য রাজনৈতিকভাবে নেতা-কর্মীরা বিব্রত। এই কমিটি বাতিল করে, নতুন করে ত্যাগী নেতা-কর্মীদের দিয়ে কমিটি গঠন করা হোক। বিচ্ছিন্নভাবে কিছু নেতা-কর্মী সংঘর্ষে জড়িয়েছে বলে জানতে পেরেছি।’
এই ব্যাপারে সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আসলাম হোসাইন আজকের পত্রিকাকে বলেন, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি গঠন নিয়ে দুপক্ষের মধ্যে বিরোধ চলে আসছে। বিকেলে একপক্ষ আনন্দ শোভাযাত্রা বের করে এবং অন্য পক্ষ কোকোর জন্মদিন পালনের কথা বললেও মূলত আনন্দ মিছিলকে প্রতিহত করার জন্য মাঠে নামে। এই নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। পুলিশ অভিযান চালিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং একজনকে আটক করেছে।