ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় যৌতুকের টাকার দাবিতে স্ত্রীকে মারধর, ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত এবং মাথার চুল কেটে দেওয়ার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় স্বামীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গতকাল বুধবার (৬ মে) দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে নরসিংদী সদর মডেল থানার খালপাড় এলাকা থেকে অভিযুক্ত দিনু মিয়াকে (২৫) গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি আখাউড়া উপজেলার উত্তর ইউনিয়নের রামধননগর গ্রামের ইসহাক মিয়ার ছেলে। পেশায় তিনি একটি সেলুনের কর্মচারী।
পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। এসআই মো. সামছুল হক সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান পরিচালনা করেন।
এর আগে গত মঙ্গলবার (৫ মে) সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে ওই নির্যাতনের ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী মীম আক্তার উপজেলার একই এলাকার জহিরুল ইসলামের মেয়ে। প্রায় সাত বছর আগে দিনু মিয়ার সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়। তাদের পাঁচ বছর বয়সী একটি ছেলেসন্তান রয়েছে।
মীম আক্তার অভিযোগ করেন, তাঁর স্বামী দীর্ঘদিন ধরে একটি সেলুন দেওয়ার জন্য বাবার বাড়ি থেকে পাঁচ লাখ টাকা এনে দিতে চাপ দিচ্ছিলেন। একই সঙ্গে তিনি পরকীয়ায় জড়িত ছিলেন। নির্ধারিত সময়ে টাকা এনে দিতে না পারায় দিনু মিয়া ক্ষিপ্ত হয়ে তাঁকে মারধর করেন। একপর্যায়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে গাল ও হাতে আঘাত করেন এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম করেন। পরে শাশুড়ির সহযোগিতায় তাঁর মাথার চুল কেটে দেওয়া হয়।
পরিবারের সদস্যরা জানান, খবর পেয়ে তাঁরা মীম আক্তারকে উদ্ধার করে প্রথমে আখাউড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়।
আখাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাবেদ উল ইসলাম বলেন, ‘ভুক্তভোগীর অভিযোগের ভিত্তিতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা গ্রহণ করা হয়েছে। ঘটনার পর থেকেই আসামিকে গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান চালানো হচ্ছিল। পরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নরসিংদী থেকে মূল আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁকে আদালতে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। নারী নির্যাতনের ঘটনায় কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।’