ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত এক স্কুল শিক্ষককে হাতকড়া পরিয়ে হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছে। শাকিল মিয়া (৩০) নামে ওই শিক্ষক বর্তমানে পুলিশ প্রহরায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি আছেন।
শাকিল মিয়া সরাইলের কালীকচ্ছ ইউনিয়নের সূর্যকান্দী গ্রামের সেলিম মিয়ার ছেলে। তিনি কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার শাকতলি উচ্চবিদ্যালয়ের গণিতের সহকারী শিক্ষক।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে সরাইল থানা–পুলিশের একটি টিম সরাইল–নাসিরনগর–লাখাই আঞ্চলিক সড়কে রাত্রিকালীন টহল দিচ্ছিল। রাত ১০টার দিকে উপজেলা সদর থেকে সূর্যকান্দী গ্রামের দিকে মোটরসাইকেল চালিয়ে যাচ্ছিলেন শাকিল মিয়া। কালীকচ্ছ ইউনিয়নের সূর্যকান্দী এলাকায় ফায়ার সার্ভিস কার্যালয়ের সামনে টহলরত পুলিশ সদস্য করীর হোসেনকে (৪০) ধাক্কা দেন শাকিল। এতে দুজনেই ছিটকে রাস্তায় পড়েন।
ঘটনার পর টহল পুলিশ তাঁদের উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। পরে কবীর হোসেনকে জেলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়। তাঁর ঘাড়ের নিচের ও পায়ের হাড় ভেঙে গেছে। আর শাকিল মিয়া মাথায় ও গায়ে আঘাত পেয়েছেন।
হাসপাতালে শাকিলের স্ত্রী খাদিজা আক্তার (২৬) কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, প্রথমত সে (শাকিল) গুরুতর অসুস্থ। এ ছাড়া দাগি আসামিও নয়। গুরুতর অপরাধও করেনি। পুলিশ প্রহরায় এভাবে একজন শিক্ষককে হাতকড়ায় বন্দী করাটা মেনে নিতে পারছি না।
শাকিল তাঁর ক্যানসার আক্রান্ত বাবার খোঁজখবর নিতে কুমিল্লা থেকে সূর্যকান্দীর নিজ বাড়িতে যাচ্ছিলেন বলে জানা খাদিজা।
একজন আহত হাসপাতালের বেডে শুয়ে থাকা মানুষকে হাতকড়া পরিয়ে রাখার কোনো দরকার আছে কি? এ প্রশ্নে সরাইল থানার ওসি আসলাম হোসেন বলেন, সড়ক নিরাপত্তা আইনে শাকিলের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। তিনি এখন আসামি। অসুস্থতার জন্য চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। সুস্থ হলেই তাঁকে আদালতে সোপর্দ করা হবে। তিনি যেন পালাতে না পারেন সে জন্য এ ব্যবস্থা করা হয়েছে।