ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় একটি বাড়ির বাসীন্দাদের হাত-পা বেঁধে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। এ সময় ১৫ ভরি স্বর্ণালংকার ও ৩ লাখ টাকা লুট করা হয় বলে জানিয়েছেন পরিবারটির সদস্যরা। ডাকাতদের হামলায় চারজন আহত হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার সদর উপজেলার রামরাইল গ্রামে ডাকাতির এ ঘটনা ঘটে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসলাম হোসাইন বলেন, আহতদের হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। ডাকাতের দলটিকে ধরতে পুলিশ অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে।
ডাকাত দলের হামলায় আহতরা হলেন বাড়ির মালিক সাইদুল ইসলাম (৭০), তাঁর স্ত্রী জ্যোৎস্না চৌধুরী (৬০), ছেলে মাইনুদ্দিন ইসলাম (২৬) ও মেয়ে আয়েশা আক্তার মুক্তা (২৮)। তাঁদের মধ্যে আয়েশার দুই হাতের আঙুল ভেঙে দিয়েছে ডাকাতেরা। তাঁকে জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
সাইদুল ইসলামের আরেক মেয়ে সাদেকা ইসলাম রত্না জানান, তাঁর দুই ভাই ও এক বোন প্রবাসে থাকেন। তাঁর বোন আয়েশা আক্তার মুক্তা সম্প্রতি সুইডেন থেকে দেশে বেড়াতে আসেন। আজ ভোরে মুক্তা ঘরের বাইরে টয়লেটে যান। এ সময় ২৫-৩০ জনের একটি ডাকাতের দল তাঁদের বাড়ি ঘিরে ফেলে। এদের মধ্যে ১০-১২ জন ভেতরে প্রবেশ করে। তারা দেশীয় অস্ত্রের মুখে পরিবারের সদস্যদের মারধর করে রশি দিয়ে বেঁধে ফেলে। এ সময় আয়েশা আক্তার টয়লেট থেকে বের হয়ে ঘরে ঢুকলে তার মাথায় আঘাত করে মেঝেতে ফেলে দিয়ে মারধর করা হয়। এতে তার দুই হাতের আঙুল ভেঙে যায়। পরে ডাকাতেরা ঘরে থাকা ৩ লাখ টাকা ও ১৫ ভরি স্বর্ণালংকার লুট করে নিয়ে যায়।
আয়েশা আক্তার মুক্তা বলেন, ‘আমি টয়লেট থেকে এসে দেখি পাঁচ-সাতজন আমার ভাইকে ঘিরে দাঁড়িয়ে আছে। আমার দুই শিশুসন্তানের গলায় ছুরি ধরে রেখেছিল। তাদের সবার মুখে মাস্ক পরা ছিল। ডাকাতেরা আমার মাথায় আঘাত করে। এরপর আমি লুটিয়ে পড়ি। দুই হাতে কখন আঘাত পেলাম বুঝতে পারিনি। জ্ঞান ফেরার পর দেখেছি দুই হাতে ব্যান্ডেজ।’