ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে র্যাব সদস্যদের ওপর হামলা ও মারধর এবং প্রায় চার ঘণ্টা অবরুদ্ধ করে রাখার অভিযোগ উঠেছে কুখ্যাত সন্ত্রাসী সফিক ওরফে ডাকাত সফিক ও তাঁর বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধে।
আজ সোমবার (১১ মে) বিকেলের দিকে উপজেলার রতনপুর ইউনিয়নের খাগাতুয়া বলিয়ারা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। সন্ধ্যার পর অবরুদ্ধ র্যাব সদস্যদের উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।
র্যাব-৯ সিপিসি-১-এর ব্রাহ্মণবাড়িয়া ক্যাম্পের অধিনায়ক মোহাম্মদ নুরুন্নবী ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, র্যাব সদস্যদের ওপর হামলার ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
র্যাব সূত্র জানায়, বাঞ্ছারামপুর উপজেলার দুর্গারামপুর সেতুর পূর্ব পাশে একটি অভিযানে যাওয়ার পথে র্যাব-৯ সিপিসি-১-এর চার সদস্য সংক্ষেপ হিসেবে খাগাতুয়া-মাজিয়ারা সড়ক ব্যবহার করছিলেন। পথিমধ্যে ডাকাত সফিক ও তাঁর সহযোগীরা তাঁদের গতি রোধ করেন।
এ সময় র্যাব সদস্যরা নিজেদের পরিচয় দিলেও তাঁদের ওপর অতর্কিত হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। হামলার মুখে সার্জেন্ট ফারুক ঘটনাস্থল থেকে সরে যেতে সক্ষম হলেও হাবিলদার (বিজিবি) এ কে এম রাশেদ মোশারফ, কনস্টেবল (পুলিশ) মো. কাজল মিয়া ও মো. আব্দুল মালেক ডাকাতদের হাতে আটক হন।
অভিযোগ রয়েছে, আটক তিন সদস্যকে বেধড়ক মারধর করে একটি বাড়িতে প্রায় চার ঘণ্টা অবরুদ্ধ করে রাখা হয়। খবর পেয়ে র্যাব-৯ সিপিসি-১-এর সদস্যরা ঘটনাস্থল ঘিরে ফেলেন এবং অভিযান চালিয়ে তাঁদের উদ্ধার করেন।
উদ্ধার হওয়া সদস্যদের নবীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, ডাকাত সফিক দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছেন। এর আগেও অন্তত দুবার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের ওপর হামলা ও মারধরের অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। হত্যা, চুরি, হামলা, ভাঙচুরসহ অন্তত ২৮টি মামলার আসামি হিসেবেও এলাকায় পরিচিত সফিক।
ঘটনার পর পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত হামলাকারীদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।