দেড় যুগের অবহেলা, চুরি ও নিরাপত্তাহীনতার প্রেক্ষাপটে বগুড়ার শহীদ চান্দু স্টেডিয়ামে ৫ জুলাই থেকে ১৬ সদস্যের একটি সশস্ত্র আনসার প্লাটুন মোতায়েন করা হয়েছে। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) আবেদনের পর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ পদক্ষেপ নেয় বলে স্টেডিয়াম কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
স্টেডিয়াম কর্তৃপক্ষ জানায়, মূল ফটকে ২৪ ঘণ্টা পাহারা ও রাতে অতিরিক্ত টহলের ব্যবস্থাও করা হয়েছে। এই মোতায়েন শুধু স্থাপনার নিরাপত্তা নয়, পুরো এলাকাকে অপরাধমুক্ত করতেও সহায়ক হবে।
একসময় আন্তর্জাতিক ক্রিকেটারদের পদচারণায় মুখর ছিল বগুড়ার শহীদ চান্দু স্টেডিয়াম। তবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটারদের প্রশংসা পাওয়া এই ভেন্যুতে এখন আর আন্তর্জাতিক ম্যাচ হয় না। গত দেড় যুগের অবহেলায় স্টেডিয়ামটির অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নিরাপত্তারক্ষী না থাকার সুযোগে ফ্লাডলাইটের তার ও বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম চুরির ঘটনাও ঘটেছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, সন্ধ্যার পর স্টেডিয়ামের বিভিন্ন অংশ ছিনতাইকারী ও মাদকসেবীদের আড্ডাস্থলে পরিণত হয়েছিল। স্টেডিয়ামের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে একসময় পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপন করা হলেও চুরির ঘটনা বন্ধ হয়নি। একাধিকবার ফ্লাডলাইটের তার, বৈদ্যুতিক সরঞ্জামসহ বিভিন্ন মূল্যবান সামগ্রী চুরি হয়েছে।
২০০৩ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কনিষ্ঠ পুত্র আরাফাত রহমান কোকোর উদ্যোগে শহীদ চান্দু জেলা স্টেডিয়ামকে আন্তর্জাতিক মানের ক্রিকেট ভেন্যুতে উন্নীত করা হয়। ২০০৪ সালে এখানে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের ম্যাচ আয়োজনের পর স্টেডিয়ামটি প্রশংসা কুড়ায়। আউটফিল্ড ও উইকেটের মান আন্তর্জাতিক ক্রিকেটারদের কাছ থেকেও ইতিবাচক মূল্যায়ন পায়। পরে ফ্লাডলাইট স্থাপন করা হয় এবং ২০০৬ সালে আন্তর্জাতিক ভেন্যুর স্বীকৃতি লাভ করে স্টেডিয়ামটি।
কিন্তু ২০০৬ সালের ডিসেম্বরে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ওয়ানডে ম্যাচ আয়োজনের পর আর কোনো আন্তর্জাতিক ম্যাচ হয়নি। নিয়মিত আন্তর্জাতিক ক্রিকেট না থাকায় আইসিসির স্বীকৃতিও হারায় স্টেডিয়ামটি। এরপর ধীরে ধীরে রক্ষণাবেক্ষণ ও নিরাপত্তা ক্ষেত্রে অবহেলা বাড়তে থাকে।
স্টেডিয়ামের ভেন্যু ম্যানেজার জামিলুর রহমান জামিল বলেন, ‘পুলিশ ফাঁড়ি থাকার পরও অতীতে চুরি ঠেকানো যায়নি। আনসার সদস্য মোতায়েনের ফলে এখন সার্বক্ষণিক নজরদারি থাকবে। এতে স্টেডিয়ামের অবকাঠামো ও সম্পদের নিরাপত্তা অনেকটাই নিশ্চিত হবে বলে আমরা আশা করছি।’
দায়িত্বরত প্লাটুন কমান্ডার আব্দুল জলিল জানান, ৫ জুলাই থেকে আনসার সদস্যরা দায়িত্ব পালন শুরু করেছেন। আপাতত পুরোনো মিডিয়া বক্সে ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে। প্লাটুনে একজন প্লাটুন কমান্ডার, দুজন অতিরিক্ত প্লাটুন কমান্ডার এবং ১৪ জন আনসার সদস্য রয়েছেন।
আব্দুল জলিল বলেন, ‘মূল ফটকে ২৪ ঘণ্টা পাহারা দেওয়া হচ্ছে। রাতের বেলায় অতিরিক্ত টহলের ব্যবস্থা করা হয়েছে। পরিচয়পত্র ছাড়া কাউকে ভেতরে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না।’