বগুড়ায় পরিবহন থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগে দুই শ্রমিককে গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে মহাসড়ক অবরোধ করেছেন পরিবহনশ্রমিকেরা। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জামিনের বিষয়ে আশ্বাস দেওয়া হলে প্রায় দেড় ঘণ্টা পর অবরোধ তুলে নেওয়া হয়।
আজ বুধবার বেলা দেড়টার দিকে বগুড়ার চারমাথা কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল ও শহরের ঠনঠনিয়া ঢাকা বাস টার্মিনালের সামনে ঢাকা-রংপুর ও বগুড়া-নওগাঁ মহাসড়ক অবরোধ করেন শ্রমিকেরা। এতে উত্তরবঙ্গগামী কয়েক হাজার যানবাহন আটকা পড়ে এবং ঈদে ঘরমুখী যাত্রীরা চরম দুর্ভোগে পড়েন।
জানা গেছে, আাজ ভোর ৪টার দিকে বগুড়ার হাইওয়ে পুলিশ সুপার আবু তোরাব মোহাম্মদ সামছুদ্দিনের নেতৃত্বে একটি দল ঢাকা-রংপুর মহাসড়কের মাটিডালী বিমানমোড় এলাকায় টহল দিচ্ছিল। এ সময় বিভিন্ন যানবাহন থেকে ১০০ টাকা করে চাঁদা আদায়ের অভিযোগে মনির হোসেন (৫০) ও আব্দুর রহিম (৩৫) নামের দুই পরিবহনশ্রমিককে হাতেনাতে আটক করা হয়। পরে তাঁদের বিরুদ্ধে দ্রুত বিচার আইনে মামলা করে হাইওয়ে পুলিশ।
এর প্রতিবাদে শ্রমিকেরা দুপুর থেকে মহাসড়ক অবরোধ করেন।
অবরোধ চলাকালে শ্রমিকনেতা শেখ ফরিদ বলেন, ‘আমরা দিন-রাত জনগণের সেবা দিচ্ছি, অথচ বিভিন্ন স্থানে শ্রমিকদের ওপর নির্যাতন করা হচ্ছে।’
অবরোধের কারণে ঈদের আগে বাড়ি ফেরা যাত্রীরা ভোগান্তিতে পড়েন। ঢাকা থেকে আসা বাসযাত্রী সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘মঙ্গলবার দুপুরে ঢাকা থেকে রওনা দিয়েছি, এখনো বাড়ি পৌঁছাতে পারিনি। শ্রমিক ও প্রশাসনের বিরোধের দায় সাধারণ মানুষ কেন নেবে?’
চট্টগ্রাম থেকে আসা যাত্রী রোখসানা খাতুন বলেন, দীর্ঘ সময় ভ্রমণের পর বাড়ির কাছে এসে এমন দুর্ভোগ কষ্টদায়ক। সাধারণ মানুষকে জিম্মি না করে বিষয়টি নিজেদের মধ্যে সমাধান করা উচিত।
বগুড়া জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের প্রচার সম্পাদক মোহাম্মদ সাজ্জাদ হোসেন পিন্টু বলেন, বগুড়ার ২৬ হাজার শ্রমিক প্রায় ৪০ লাখ মানুষের সেবায় নিয়োজিত। নিরীহ শ্রমিকদের গ্রেপ্তার করে দ্রুত বিচার আইনে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
বগুড়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইব্রাহীম আলী বলেন, দ্রুত বিচার আইনের মামলার আসামিদের জামিনের বিষয়টি ঈদের পর বিবেচনা করা হবে—এমন আশ্বাসে এবং ঘরমুখী মানুষের দুর্ভোগের কথা বিবেচনায় নিয়ে শ্রমিকেরা অবরোধ প্রত্যাহার করেছেন।