চিকিৎসক, নার্স ও কর্মকর্তাসহ জনবলসংকটে মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে ভোলার ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা। এতে রোগীর চাপ সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ২০১৯ সালে ১০০ শয্যার হাসপাতালটি ২৫০ শয্যায় উন্নীত করা হলেও এখনো সেই পুরোনো ১০০ শয্যার জনবল দিয়েই চলছে কার্যক্রম। প্রায় সাত বছরেও নতুন জনবল নিয়োগ না হওয়ায় চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে জেলার কয়েক লাখ মানুষ।
হাসপাতাল ও সিভিল সার্জন অফিস সূত্রে জানা গেছে, ১০০ শয্যার হাসপাতালের জনবলকাঠামো অনুযায়ী চিকিৎসক, নার্স, কর্মকর্তাসহ মোট ১৭৯টি পদ রয়েছে। তার মধ্যেও ৭৬টি পদ শূন্য। বর্তমানে সিনিয়র কনসালট্যান্ট, জুনিয়র কনসালট্যান্ট, মেডিকেল অফিসার, অ্যানেসথেটিস্ট, রেডিওলজিস্ট, প্যাথলজিস্ট ও ইমার্জেন্সি মেডিকেল অফিসারের একাধিক পদ দীর্ঘদিন ধরে খালি রয়েছে। পাশাপাশি নার্সিং, মিডওয়াইফারিসহ গুরুত্বপূর্ণ বহু পদও শূন্য। আর ২৫০ শয্যার হাসপাতালের জনবলকাঠামো অনুযায়ী চিকিৎসক-নার্স, কর্মকর্তা ও কর্মচারীর অনুমোদিত পদসংখ্যা দুই শতাধিক থাকার কথা।
এদিকে ১০০ শয্যার পুরোনো হাসপাতাল ভবনে প্রতিদিন গড়ে তিন শতাধিক রোগী ভর্তি থেকে চিকিৎসা নিচ্ছে। ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের নতুন ভবনেও প্রতিদিন বহু রোগীকে চিকিৎসা দিতে হচ্ছে। প্রতিদিন গড়ে সাড়ে ৫০০ রোগী ভর্তি থেকে চিকিৎসা নিচ্ছে। এর মধ্যে অধিকাংশই শিশু। এ ছাড়া বহির্বিভাগে প্রতিদিন গড়ে দেড় হাজার রোগী চিকিৎসাসেবা নিচ্ছে। ২৫ শয্যার শিশু ইউনিটে ধারণক্ষমতার কয়েকগুণ বেশি রোগী ভর্তি হওয়ায় বিপুলসংখ্যক শিশুকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে বারান্দার মেঝেতে। একেক শয্যায় রাখা হচ্ছে চার-পাঁচটি শিশু। চিকিৎসক-নার্সরা এত রোগীর চিকিৎসাসেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন।
এ ছাড়া অস্বাস্থ্যকর মেঝে এবং এক শয্যায় একাধিক শিশুর চিকিৎসা করাতে গিয়ে সুস্থ হওয়ার পরিবর্তে সংক্রমিত হচ্ছে হাম, ডায়রিয়াসহ নতুন নতুন রোগে। এতে বাড়তি বিড়ম্বনা পোহাতে হচ্ছে রোগীর স্বজনদের। এমন অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে চিকিৎসা দেওয়ায় ক্ষুব্ধ রোগীর স্বজনেরা। তাঁদের দাবি, দ্রুত সময়ের মধ্যে জনবলসংকট দূর করে চিকিৎসাসেবা দেওয়া হোক।
এর আগে ফিল্ম না থাকায় হাসপাতালটিতে এক্স-রে সেবা বন্ধ ছিল এক বছরের বেশি সময়। ‘এক্স-রে ফিল্ম না থাকার কারণে এক্স-রে কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ’—এমন লেখা সেঁটে দেওয়া হয়েছিল ভোলা ২৫০ শয্যার জেনারেল হাসপাতালের এক্স-রে কক্ষের সামনে। কক্ষটি তালাবদ্ধ ছিল। ফলে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছিল রোগীদের। সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়তে হয়েছে হাত ভাঙা রোগীদের। পরে এ নিয়ে সংবাদ প্রকাশিত হলে এক্স-রে সেবা পুনরায় চালু হয়।
ভোলা ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক মো. তৈয়বুর রহমান আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘জনবল স্বল্পতার কারণে ২৫০ শয্যার হাসপাতালের কার্যক্রম চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। জরুরি বিভাগে এক সেকেন্ডের জন্যও সেবা বন্ধ রাখা যায় না, অথচ প্রয়োজনীয় জনবল নেই।’
তৈয়বুর রহমান আরও বলেন, ‘জনবলসংকট নিরসনে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে নিয়মিত চিঠি পাঠানো হচ্ছে, তবে এখনো কোনো সমাধান মেলেনি।’