গ্রামগঞ্জে মাদকাসক্ত কাউকে দেখলে মারধর না করে ধরে পুলিশের কাছে সোপর্দ করার আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। একই সঙ্গে চুরি, অন্যের জমি জোরপূর্বক দখলসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নিতে পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
আজ বুধবার বিকেলে ভোলার তজুমদ্দিন উপজেলা পরিষদ হলরুমে আয়োজিত এক গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন স্পিকার। এশিয়া-প্যাসিফিক গ্রুপের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ায় তজুমদ্দিন উপজেলা বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের পক্ষ থেকে তাঁকে এ সংবর্ধনা দেওয়া হয়।
হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, ‘গ্রামগঞ্জে যেখানেই মাদকাসক্ত কাউকে দেখেন, তাঁকে মারধর না করে ধরে এনে পুলিশের কাছে সোপর্দ করুন। পুলিশ তাঁদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে।’ আগে এলাকায় অনেক গরু চুরি হতো, এখন তা কিছুটা কমেছে উল্লেখ করে তিনি চুরি, জমি দখলসহ বিভিন্ন অপরাধ দমনে পুলিশকে আরও কঠোর হওয়ার নির্দেশ দেন।
অনুষ্ঠানে নিজের রাজনৈতিক জীবনের প্রসঙ্গ তুলে স্পিকার বলেন, ‘২০০১ সালের নির্বাচনে শেখ হাসিনা আমার প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে তোফায়েল আহমেদকে মনোনয়ন দিয়েছিলেন। তিনি পরাজিত হওয়ার পর শেখ হাসিনা বুঝতে পেরেছিলেন, সন্ত্রাসী ছাড়া আমার বিরুদ্ধে নির্বাচনে জয়লাভ করা সম্ভব নয়। পরে ঢাকার একজন সন্ত্রাসীকে আমার বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে আনা হয়। ওই ব্যক্তি দুর্নীতির মাধ্যমে লালমোহনে ৫০০ বিঘা জমি ও ঢাকায় একাধিক বাড়ি অর্জন করেন। ৫ আগস্টের পর ওই ব্যক্তি বাড়িঘর ছেড়ে সপরিবারে পালিয়ে যান।’
আওয়ামী লীগের (কার্যক্রম নিষিদ্ধ) সমালোচনা করে হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, দলটি ক্ষমতায় থাকাকালে দেশ থেকে লুটপাট করে বিভিন্ন দেশে বিপুল সম্পদ গড়ে তুলেছে। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আল্লাহ ছাড় দেন, কিন্তু ছেড়ে দেন না।’
তজুমদ্দিনের উন্নয়ন পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে স্পিকার বলেন, মেঘনা নদীর তীরে একটি পর্যটনকেন্দ্র স্থাপন করা হবে। এতে স্থানীয় বাসিন্দারা বিকেলে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে সেখানে ঘুরতে যেতে পারবেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন তজুমদ্দিন উপজেলা বিএনপির সভাপতি আলহাজ গোলাম মোস্তফা মিন্টু। সঞ্চালনা করেন উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলহাজ মেজর আসাদ রিন্টু।